ব্রেকিং নিউজঃ

কুড়িগ্রামে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর প্রযুক্তি উদ্ভাবন চালক ঘুমালে বা অ্যালকোহল পান করলে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে যাত্রী ও মালিকের কাছে

কুড়িগ্রামে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর প্রযুক্তি উদ্ভাবন চালক ঘুমালে বা অ্যালকোহল পান করলে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে যাত্রী ও মালিকের কাছে
Content TOP

 মমিনুল ইসলাম বাবু কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ০৫-১২-১৮

নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বা ঘুমিয়ে গাড়ী ড্রাইভ করলেই সতর্কবার্তা পৌছে যাবে সহযাত্রী ও গাড়ির মালিকের কাছে। এমনকি নেশাগ্রস্থ অবস্থাতেও স্টার্ট দিবে না গাড়ি। ‘‘ড্রাইভার এন্টি এন্ড অ্যালকোহল এ্যালার্ম ডিটেক্ট’’ নামে একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৩য় পর্বের শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেন। দীর্ঘ এক বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সফলতা পান তিনি। এই প্রযুক্তিটি প্রথমে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত স্কিল কম্পিটিশনে এবং পরে রংপুরে বিভাগীয় স্কিল কম্পিটিশনে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ছানোয়ারের এই সাফল্যে খুশি সহপাঠীরাসহ শিক্ষকগণ। জানা যায়, যে কোন গাড়ির ড্যাস বোর্ডের সাথে কনসুলিং করে সম্পৃক্ত করা যাবে আইবিলিং ও অ্যালকোহল সেনসর। চালকের সম্মুক্ষে এই আইবিলিং সেনসর ১৮০ ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে চালককে ডিটেক্ট করবে। এছাড়াও গাড়ির সেলফের সাথে সংযুক্ত করা হবে ম্যাগনেটিক রিলে। যা ঘ্রান সংবেদনশীল। চালক কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করলেই সার্কিট অন হবে না। ফলে গাড়ি স্টার্ট দিবে না। এই সেন্সরের সাথে সর্বোচ্চ তিনটি মোবাইলে ডাটা সেট করা থাকবে। গাড়ির ড্রাইভার চলন্ত অবস্থায় নেশা গ্রহন করলে বা ঘুমিয়ে পরলে তিন সেকেন্ডের মধ্যে সতর্কবার্তা এলার্ম মোবাইলে বেঁজে উঠবে। ফলে গাড়ির মালিক, ম্যানেজার বা সুপারভাইজার চালককে সতর্ক করতে পারবে। এই এলার্ম সিস্টেম দুরপাল্লার গাড়ির ভিতরেও সংযোগ করা যাবে। প্রযুক্তি উদ্ভাবনকারী ইলেকট্রনিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেনের বাড়ী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দহিলা বড়হাট পাড়ায়। বাবা আব্দুল আজিজ একজন দুরপাল্লার গাড়ির ড্রাইভার। তার বড় দুই ভাইও একই পেশায় জড়িত। মা ছানোয়ারা বেগম মারা গেছেন। বিষয়টির পজেটিভ দিক বিবেচনা করে কুড়িগ্রাম জেলা বাস ও মটর শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সহিদুজ্জামান রাছেল জানান, এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ছানোয়ার আগামীতে এই প্রযুক্তির উন্নয়নসহ আরও নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারবে। শিক্ষার্থী ছানোয়ার হোসেন জানান, পরিবারে বাবা ও দু’ভাই ড্রাইভারের চাকুরী করার বিষয়টি মাথায় রেখে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে এই প্রকল্পটি নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে প্রযুক্তিটি কমপ্লিট করেন। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র ইলেকট্রনিকস টেকনোলোজি বিভাগের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ও ছানোয়ারের গাইড টিচার সুমন কুমার সাহা জানান, এই ইনস্টিটিউটে অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা ভাল কিছু উদ্ভাবন করতে চায়। কিন্তু একটি প্রজেক্ট তৈরী করতে যে ব্যয় হয় তাদের পক্ষে সেটা সংকুলান করা সম্ভব হয় না। এ ব্যাপারে সরকার বা অন্য কোন সংস্থা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে আরো ভাল কিছু উদ্ভাবন করা সম্ভব বলে জানান এই শিক্ষক। স্কিল কম্পিটিশনে ছানোয়ারের প্রযুক্টিটি দেখে উৎসাহিত জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, গাড়ির মালিকগণ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা অনেক কমবে। ড্রাইভাররা সতর্ক থাকবে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera