মন্ত্রীদের ডিজিটাল প্রচারণা

মন্ত্রীদের ডিজিটাল প্রচারণা
Content TOP

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব হয়ে উঠেছেন। মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ ফেসবুক পেজে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নিজের বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির সংবাদ তুলে ধরছেন, লিঙ্ক এবং পেপার কাটিং শেয়ারের মাধ্যমে।
ডিজিটাল প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা মন্ত্রীদের মধ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া, ডাক, তার ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারও নিয়মিত ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন।

তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার
সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক দলের নেতা, জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সরকারের মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণায় বরাবরই গণমাধ্যমের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তার। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও ওয়ার্কার্স পার্টি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, রাশেদ খান মেনন নামেই ফেসবুক পেজ রয়েছে মেননের। ফেসবুক পেজের প্রোফাইল ছবিতে নিজের ছবি এবং কাভার পেজে রয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্যকে পরাস্ত করুন, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, আরও এগিয়ে যেতে এবং ন্যায্যতা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ১৪ দলের প্রার্থীদের জয়ী করুন—বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি’ শীর্ষক স্লোগান। এই পেজে তিনি মন্ত্রণালয় ও দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ ও ছবি শেয়ার দেন। বর্তমানে তার পেজের ফলোয়ার রয়েছে আড়াই লাখ।
জানা গেছে, মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন তার ছেলে আনীক রাশেদ খান। তবে বাবার অনুমতি ও নির্দেশনায় তিনি পেজটিতে বিভিন্ন পোস্ট দেন। এ ক্ষেত্রে ছেলের ওপর শতভাগ কনফিডেন্ট রয়েছে রাশেদ খান মেননের। মেননের ফেসবুক পেজ-জুড়ে রয়েছে— মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও সংবাদ।এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক মন্তব্যের জবাবও দেওয়া হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মইদুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় পেজটি আমার ছেলে পরিচালনা করছে। জনসাধারণের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, যা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে।’ তার ছেলে আনীকই এই পেজটি খোলার বিষয়ে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেন। দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ সামাজিক সচেতনতামূলক বিশেষ করে মাদকবিরোধী বিভিন্ন মন্তব্য ও সংবাদ পোস্ট করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে খোলা এই পেজটি মন্ত্রী নিজেই পরিচালনা করেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালএকইভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল নিজের ফেসবুক পেজে নিজের এবং দলের বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত সংবাদ পোস্ট করেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও নিজের সাংগঠনিক ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ও সংবাদ পোস্ট করেন। বঙ্গবন্ধু ও নিজের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একটি যুক্ত ছবি রয়েছে তার কাভার পেজে। সম্প্রতি তিনি জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার সময়সূচি সম্বলিত একটি সংবাদ পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক পেজে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম
এছাড়া, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক ও তারানা হালিমও ফেসবুক প্রচারণায় ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচিত। ফেসবুকে এই তিন প্রতিমন্ত্রী খুব বেশি সক্রিয়।

জুনাইদ আহমদ পলক

শাহরিয়ার আলম ও জুনাইদ আহমেদ পলক নিজেরাই ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। তাদের প্রত্যেকের ফলোয়ারের সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি বলে জানা গেছে।

তারানা হালিম

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera