সেই ওসি মোয়াজ্জেম কোথায়?

সেই ওসি মোয়াজ্জেম কোথায়?
Content TOP

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বহীন আচরণের জন্য দোষী ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় কঠোর সমালোচনা করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, পিবিআইকে নুসরাত হত্যার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পিবিআই তদন্ত করার পর ওই ঘটনার সঙ্গে ওসির প্রমাণ পেয়েছে, কিন্তু সেই ওসি কোথায়?

মান্না বলেন, একটা সাইবার ক্রাইম অপরাধে মামলা দিয়েছেন তাও আদালতের নির্দেশে, এটা যথেষ্ট? এই ধরনের অপরাধ যদি বিরোধী দলের নেতাকর্মী করতো তাহলে? কত বিএনপি নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ার দিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত ধর্ষণের জন্য এরকম সাজা দেওয়া হয়েছে সেটা তো দেখলাম না। মানবতার কথা বলেন, লোভ দেখিয়ে ১০ লাখ টাকার চেক দিয়ে মনে করেন বোধহয় সমস্ত দায়িত্ব সম্পূর্ণ করলাম। কিন্তু তাতে মানবতা বাঁচে না।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নুসরাত-তনু কেন হারিয়ে যাচ্ছে অমানবিক রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে’ শীর্ষক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘লোকে বলছে, পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা আপনাদের নেই। কারণ পুলিশ আপনার পক্ষে ভোট ডাকাতি করে, পুলিশ আপনার পক্ষে ভোটে সিল মারে, পুলিশ আপনার পোস্টার লাগায় আর বিরোধী দলের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এটা কোন দেশ? এই দেশের স্বাধীনতা, এই দেশের নারীর সম্ভ্রম কোনও কিছু নাই।’

মান্না আরও বলেন, আপনাদের অনেকের খায়েস আছে, কেউ কেউ মানবতার মা হতে চান। কেউ কেউ আন্তর্জাতিক পুরস্কার হাসিল করতে চান। যদি করতে পারেন তাহলেও অখুশি হবো না। কিন্তু তার আগে বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আরও বলেন, আমি সবার কাছে একটি অনুরোধ করি, ধরেন কোনও রাজনীতি নেই, ধরেন কোনও আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেই, ধরেন কোনও ক্ষমতার লড়াই নেই। আমরা শুধু নারীর সম্ভ্রমের জন্য লড়াই করতে চাই। আমরা কেবলমাত্র মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকারের জন্য লড়াই করতে চাই। নুসরাত আমাদের কাছে সাহসের বাতি। আমি বলি, নারী হোক পুরুষ হোক সবাই মিলে যদি এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে না দাঁড়ান তাহলে মৃত্যুর মিছিল, ইজ্জতহানির একের পর এক মিছিল বন্ধ হবে না।

খালেদা জিয়া পিজি হাসপাতালে মৃত্যুর মুখোমুখি উল্লেখ করে মান্না বলেন, এক হলমার্ক কত হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ-কোটি ডলার চুরি হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, এই সময় সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী মাত্র দুই কোটি টাকার মামলায় প্রথমে পাঁচ বছর, পরে ১০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া পিজি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আপনাদের মানবতাই যদি থাকবে, তাহলে মানবতার কথা বিবেচনা করে তার জামিন পাওয়া আইনসিদ্ধ ছিল, কিন্তু জামিন দেননি। বিএনপির কত হাজার নেতাকর্মী কারাগারে আছেন সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি। একটাই কাজ করেছেন, যেমন করেই হোক ক্ষমতা বজায় রাখতে হবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অপরাজেয় বাংলাদেশের সভাপতি ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera