brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

সকালের গাড়ির দেখা নেই এখনো, কখন আসবে জানে না কেউ

সকালের গাড়ির দেখা নেই এখনো, কখন আসবে জানে না কেউ
Content TOP

ঈদের বাড়ি যাবেন বলে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার রংপুরের হানিফ বাসের টিকেট কেটেছিলেন সুমন তালুকদার। সে কারণে ৮টার মধ্যেই কল্যাণপুর বাস কাউন্টারে স্ত্রী-সন্তানসহ পৌঁছেন তিনি। কিন্তু বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাস কাউন্টারে বসে আছেন। এখনো রংপুরে সেই বাস ঢাকায় এসে পৌঁছাতে পারেনি।

এদিকে জানতে চাইলে কাউন্টারের ম্যানেজার একবার বলছেন, বাসটি টাঙ্গাইল, আবার বলছেন চন্দ্রায়। কিন্তু কখন সেই বাস আসবে তা স্পষ্ট করে জানেন না কেউই।

মো. রাকিবুল হাসান সজিব আজ ১০ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় রংপুরের বাসে টিকেট কেটেছেন। সে অনুযায়ী, ১২টার আগেই কাউন্টারে যাওয়ার জন্য রওনা দিচ্ছিলেন তিনি। এমন সময় হানিফ পরিবহন থেকে তাকে ফোনে জানানো হয় যে, তার বাসটি ছাড়তে দেরি হবে। কারণ বাসটি রংপুর থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছায়নি। বিকেল বা সন্ধ্যাও হতে পারে। তাই তারা ফোনে জানানোর পরেই যেন তিনি বাসা থেকে কাউন্টারে আসেন।

শুধু মাত্র রাকিব ও সুমন নয়, বাড়ি ফেরা এমন হাজার হাজার মানুষ বাসের বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

বাসে কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা ছাড়া তাদের কিছুই করার নেই। কারণ রাস্তায় প্রচণ্ড যানজট হওয়ায় তাদের বাসগুলো রংপুর, গাইবান্দা, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছতেই দেরি হচ্ছে। ওইসব এলাকায় যাত্রী নামীয়ে দিয়ে এর পর সেই বাস ঢাকায় এসে পরবর্তী টিপের যাত্রী নিয়ে যাবেন।

আজ দুপুরে সরেজমিনে কল্যাণপুর, গাবতলী বাস কাউন্টারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, লাগেজ, ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মানুষ। কেউ ক্লান্ত শরীরে ব্যাগ জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছেন, কেউ ছটফট করছেন, কারও ছোট শিশু অস্থির হয়ে কান্নাও শুরু করেছে। এমনকি কেউ কেউ বসে থাকতে না পেরে নিকটবর্তী কারও বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে কথা হয় জামিল হোসেন নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। এখনো বাসের দেখা নাই। ছোট বাচ্চা নিয়া কিভাবে এত সময় পার করা যায় বলুন। কাউন্টারের এরা তো একেক সময় একেকটা মিথ্যা কথা বলছে। আসলে গাড়ি কই আছে আল্লাহ জানেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হানিফের রংপুর রোডের কাউন্টার মাস্টার কদর আলী দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘রাস্তায় প্রচুর জ্যামের কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমরাও তো চাই না, কোনো যাত্রী এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করুক।’

একই অবস্থা শ্যামলী বাস কাউন্টারসহ সব গাড়ির কাউন্টারগুলোতেই। শ্যামলী বাসের রংপুর রোডের ম্যানেজার মো.বাবুর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

পরে মিজান নামের অপর এক কাউন্টারের মাস্টার দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘যাত্রীদের প্রশ্নের আর জবাব দিতে পারছি না আমরা। কি করতে পারি বলেন? আমরা তো সময়মতোই গাড়ি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু জ্যামের কারণে গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। মানুষের এমন কষ্ট দেখে তো আমাদেরও খারাপ লাগে।’

Content TOP

Related posts

body banner camera