ব্রেকিং নিউজঃ

শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সকল শহীদদের ছবি সম্বিলিত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং গুঞ্জণ

শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সকল শহীদদের ছবি সম্বিলিত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং গুঞ্জণ
Content TOP

 নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোরের সিংড়ায় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারসহ সকল শহীদদের ছবি সম্বিলিত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সিংড়া পৌর শহরের পানপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় সুরুজ্জল নামের এক ব্যক্তি পোস্টার গুলো ছিঁড়ে ফেলে। এর আগে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক পোস্টার গুলো সাঁটিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যদের ছবি সম্বিলিত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলায় শফিক সমর্থক সহ সাধারণ মানুষদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাবেক ভিপি শফিকুল ইসলাম শফিক ১৫আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবার ও সকল শহীদদের প্রতি ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’ জানিয়ে সিংড়া পৌরসভা এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পোস্টার সাঁটান। কিন্তু বুধবার বিকেলে সিংড়া পৌর শহরের পানপট্টি এলাকায় প্রকাশ্যে পোষ্টার ছিঁড়ে ভ্যান দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণ দমদমা এলাকার সুরুজ্জল নামের একজনকে আটক করে উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিককে খবর দেয় এলাকাবাসী। এসময় শতশত এলাকাবাসী ও থানা পুলিশের সামনে অভিযুক্ত সুরুজ্জল বলেন, সে প্রতিমন্ত্রী পলকের বাড়ির কেয়ার টেকার আতিকুর রহমান হেলালের নির্দেশে পোষ্টারগুলো ছিঁড়েছে। কারণ এসকল জায়গায় মন্ত্রীর সাইনবোর্ড লাগানো হবে। এসময় উপস্থিত শত শত এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং গুঞ্জণ শুরু হয়। এসময় উপস্থিতি অনেকেই বলেন, শফিকুল ইসলাম শফিকের সাথে কি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরোধ প্রকাশ্যে রুপ নিচ্ছে। এর আগে বিরোধ প্রকাশ্যে না থাকলেও মানুষের মধ্যে গুঞ্জন ছিল। তবে এই ধরনের বিরোধ কাম্য নয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। সূত্র আরো জানা যায়, মোট ১৫ হাজার পোস্টার ছাপান শফিকুল ইসলাম শফিক। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশির ভাগ পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। এর আগে চামারি ইউনিয়নের সামনে পোস্টার লাগাতে গেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম পোস্টার লাগাতে বাঁধা দেয় এবং পোস্টার লাগানোর লোকদের বলে পোস্টার লাগাতে না দিতে উপর থেকে নির্দেশ আছে। এছাড়াও ছাতারদীঘি ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে ছাত্রলীগ নেতা রিফাতের নেতৃত্বে পোস্টার লাগাতে দেয়নি ছাত্রলীগের একাংশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শফিকুল ইসলাম শফিকের এক সমর্থক জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার সহ সকল শহীদদের ছবি সম্বিলিত পোস্টার ছিঁডে ফেলা মানে বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের প্রতি অসম্মান করা। দলে অনুপ্রবেশকারীরা এইসব কাজ করছে। শান্ত সিংড়াকে অশান্ত করার পায়তারা করছে দলের কিছু কর্মী। সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক বুধবার রাতে এই প্রতিবেদককে জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন পোষ্টার। এটা ছিঁড়ে ফেলা মানে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রতি অবমাননা করা হয়েছে। হাতে নাতে আটকের পর অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও পুলিশ অসহায়, তারা এতটাই পাওয়ারফুল যে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ারও সাহস পাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, এটা কোন নির্বাচনী পোস্টার না। তারপরও পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলা হল। গত দু’দিন ধরে পৌর বাজারের বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। এছাড়াও সকালে কালিগঞ্জ বাজারে পোষ্টার লাগাতে বাঁধা দিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশ। তিনি আরো বলেন, আমি তো অন্যদলের নয় যে, আমার পোস্টার ছিড়তে হবে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেই দল করে আসছি। এরপরও যদি ওই গোষ্ঠি পোস্টার ছিড়ে, তাহলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মানসিক বিকৃতি এক ভ্যানচালক পোস্টার ছিঁড়েছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। নাহিদ হোসেন নাটোর ০১৭৯১৩৭৪০৮০

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera