ব্রেকিং নিউজঃ

ভালোবেসে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা | বেদনায় আচ্ছন্ন পুরো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ভালোবেসে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা | বেদনায় আচ্ছন্ন পুরো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
Content TOP

শোকের সাগরে দুটি পরিবার। কষ্টে পাথর স্বজনরা। বাকরুদ্ধ সহপাঠীরা। বেদনায় আচ্ছন্ন পুরো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে দুজনের আত্মহনন মেনে নিতে পারছে না কেউ। বৃহস্পতিবার দুই ঘন্টার ব্যবধানে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক যুগল আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত রোকনুজ্জামান রোকন ও মুমতাহিনা ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সবে মাত্র মাস্টার্স শেষ করে একই সঙ্গে তারা ইন্টার্নিশিপ করছিল। পরিবার থেকে প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় দুজনের মনমালিণ্যের জেরে তারা বেছে নিয়ে আত্মহত্যার পথ।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে, বৃহস্পতিবার সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে মুমতাহিনা নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস নেয়। তাৎক্ষণিক দড়জা ভেঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেবার সময় পথেই সে মারা যায়। হেনা ঝিনাইদহের একটি ভাড়া বাড়িতে নিজ পরিবারের  সঙ্গে বসবাস করত। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের বর্তমান সভাপতি ড. আশরাফুল আলম তার বাবা। তাদের স্থায়ী বাসস্থান সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানায়। এদিকে হেনার মৃত্যু সংবাদে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার মতি মিয়া রেল গেটে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয় প্রেমিক রোকনুজ্জামান। এতে ঘটনাস্থলেই বিভৎস অবস্থায় মারা যায় রোকন। নিহত রোকনের বাসা চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুর্হুদায়। সে কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলার একটি মেসে থাকত। ¯œাতক শ্রেণীর ফলাফলে বিভাগের প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিল সে। এছাড়া হেনারও ভালো ফলাফল ছিল বলে বিভাগে সুত্রে জনা গেছে। বর্তমানে তারা মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করে একই সঙ্গে ইন্টার্নশিপ করছিল। তাদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, ফিন্যান্স বিভাগ, শিক্ষক ও ছাত্র এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। রাত ১টার দিকে হেনাকে সাতক্ষীরায় এবং রোকনকে নিজ বাসায় দাফনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সহপাঠিরা জানায়, ‘তাদের মাঝে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝে মাঝে তাদের দুজনের সম্পর্ক অবনতি হলে বন্ধুরা মিলে সমাধান করে দিত। সম্প্রতি হেনার অনত্র বিয়ের কথা চলছিল। নিজেদের সম্পর্কের কথা জানোর পর পরিবার তা মেনে নেয়নি। এতে আবারো তাদের মাঝে মনোমালিন্য শুরু হয়। গত তিন দিন ধরে রোকন হেনার ফোন রিসিভ করছিলা না। দুদিন আগে রোকন রাগের মাথায় নিজের একটি ফোন ভেঙ্গে ফেলে। এদিকে গত দুদিন ধরে হেনা খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম শুরু করেছিল বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ রাখে হেনা। সন্ধ্যায় সে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। এ সংবাদে কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করে রোকন।’

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ এমদাদুল হক জানান, ‘মুমতাহিনার আত্মহত্যার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তবে কি কারণে আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি।’ কুষ্টিয়া পোড়াদহের জিআরপি শাখা কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ জানান, ‘পোড়াদাহ থেকে ছেড়ে যাওয়া গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।’

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera