brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

বাড়ি বিক্রির টাকা নিয়েছেন সিনহা

বাড়ি বিক্রির টাকা নিয়েছেন সিনহা
Content TOP

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়ার ঘটনায় শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন তাদের সাবেক প্রধান বিচারপতির ব্যাংকে হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ বিষয়ে ওই দুজনের আইনজীবী আফাজ মাহমুদ রুবেল জানান, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা রাজধানীর উত্তরার একটি বাড়ি বিক্রি করেছেন। বাড়ি বিক্রির টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা সাবেক ওই প্রধান বিচারপতির ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন ঋণ নেন। এরপর একই বছরের ১৬ নভেম্বর সেই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেন। পরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তি হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নাম উঠে আসে। এ বিষয়ে সম্প্রতি দুদকে আসা এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তা যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য গত ২৫ এপ্রিল শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামের ওই দুই ব্যবসায়ীর ঢাকার উত্তরার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিস পাঠিয়ে ৬ মে (গতকাল) দুদকে তলব করা হয়। দুদকের তলবি নোটিসের আলোকে গতকাল ওই দুই ব্যবসায়ী সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন। এবিষয়ে তাদের আইনজীবী আফাজ মাহমুদ রুবেল সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের পাঁচ কাঠা জমির ওপর ৫১ নম্বরের ছয়তলা বাড়িটির মালিক সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা। তিনি ছয় কোটি টাকা মূল্যে বাড়িটি বিক্রি করেন টাংগাইলের বাসিন্দা রনজিত চন্দ্র সাহার স্ত্রী শান্ত্রী রায়ের কাছে। ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে বায়না দলিলের মাধ্যমে বিচারপতি এসকে সিনহার কাছ থেকে বাড়িটি শান্ত্রী রায় মালিক হন। তখনই বাড়ি বাবদ দুই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় বিচারপতি এসকে সিনহার অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়। পরে ২৪ নভেম্বর এসকে সিনহা হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে শান্ত্রী রায়কে বাড়িটি লিখে দেন। ব্যবসায়ী নিরঞ্জন সাহা শান্ত্রী রায়ের স্বামী রনজিতের চাচা এবং শাহজাহান রনজিতের বন্ধু। তাদের সবার বাড়ি টাংগাইলে। এ দুই ব্যবাসায়ীর আরেক আইনজীবী নাজমুল আলম বলেন, নিরঞ্জন ও শাহজাহান ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেন। এতে থার্ড পার্টি হিসেবে শান্ত্রী রায়ের বিভিন্ন জমি মর্টগেজ হিসাবে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এই ঋণ থেকেই বাড়ির চার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। ওই চার কোটি টাকা একই বছরের ১৬ নভেম্বর অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল বলেন, অস্বাভাবিক লেনদেনসংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। যাদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তর হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে কারা জড়িত এর বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে পড়ার পর গত বছরের অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশ গিয়ে সেখান থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি সিনহা।

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera