ফেঁসেই যাচ্ছেন কানাডা হাইকমিশনের মকসুদ

ফেঁসেই যাচ্ছেন কানাডা হাইকমিশনের মকসুদ
Content TOP

কানাডার অটোয়া হাইকমিশনের (স্থানীয়) কাউন্সিলর মকসুদ খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ২০০৯ সালে প্রেষণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া ওই কর্মকর্তা তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএসও ছিলেন। বর্তমানে সপরিবারে কানাডায় অবস্থান করছেন। দুদক বলছে দেশে ফিরলেই মকসুদ খানকে দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা হবে। মন্ত্রীর বাড়ি চাঁদপুর। মকসুদ খানের বাড়িও সেই জেলায়।

এ সুবাদে মন্ত্রীর অজান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন মকসুদ খান। পররাষ্ট্র ক্যাডার কী, প্রেষণের কাউকে মিশনে পাঠানোর বাণিজ্যেরও অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। অটোয়ায় গিয়েও দুর্নীতির হাল ছাড়েননি। মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের টাকা আত্মসাৎ, ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট প্রদানে গড়িমসি করে ঘুষ গ্রহণসহ কয়েক ধরনের অভিযোগ ওঠে মকসুদের বিরুদ্ধে। পরে এ বিষয়ে দুদক উপপরিচালক মাহাবুবুল আলমের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধানী টিম তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।

কয়েকটি অভিযোগের সত্যতাও পায় তদন্ত টিম। সে অনুযায়ী ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মকসুদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার তদন্তেও সরকারের ২ কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয় কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক কাউন্সিলর মো. মকসুদ খানের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে একটি চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছে দুদক কমিশন। সংস্থাটির উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘৪ লাখ ১৪ হাজার কানাডিয়ান ডলার আত্মসাতের অভিযোগে মকসুদ খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর অনুসন্ধান শুরু হয়।

এতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশন এ বিষয়ে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতে শিগগিরই চার্জশিটটি দাখিল করা হবে।’ দুদক সূত্র জানায়, মো. মকসুদ খান মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বাবদ সরকারি খাতে ৪ লাখ ১২ হাজার ৩৮২ কানাডিয়ান ডলার জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একই ব্যাংক ড্রাফট একাধিকবার ব্যবহার করে ১ হাজার ৫০০ কানাডিয়ান ডলার ও খালিদ হাসান নামে এক ব্যক্তির পাসপোর্ট ফি বাবদ আত্মসাৎ করেন ৩২০ কানাডিয়ান ডলার। দুদকের অনুসন্ধানে এগুলো বেরিয়ে এসেছে।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্টজন হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে মকসুদ খানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে আনা হয়। মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে সেখানেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধভাবে অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির অভিযোগে মকসুদ খানকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এর পর মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে দেশে এসে সাক্ষ্য দিতে কানাডা ও চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই নোটিশের জবাব দেননি তিনি, দেশেও ফেরেননি।

Content TOP

Related posts

body banner camera