brandbazaar globaire air conditioner

চেনা উপসর্গের আড়ালে হানা দিচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস

চেনা উপসর্গের আড়ালে হানা দিচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস
epsoon tv 1

গত ডিসেম্বর থেকে চিনে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। যে ভাইরাসের চিন্তার দাগ পরেছে পুরো পৃথিবীত। সতর্কতা জারী করা হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। 

করোনা ভাইরাস ফুসফুসে দ্রুত সংক্রমণ ঘটিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। এই ভাইরাসে মৃত্যুর মূল কারণ, এর উপসর্গ একেবারে নিউমোনিয়ার মতো। ফলে প্রাথমিক ভাবে করোনা ভাইরাসের আক্রমণকে চিনতে ভুল করে রোগী, পরিবার ও চিকিৎসকরা।

নিউমোনিয়া রোগের একটি অন্যতম প্রধান কারণ ফুসফুসে ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি’ নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। কিন্তু করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং সংক্রমিত হওয়ার গতি ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি’র তুলনায় বহুগুণ বেশি। করোনা ভাইরাস ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি’ নামের ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় বহুগুণে আগ্রাসী ও ক্ষতিকর। ফলে নিউমোনিয়া ভেবে ভুল করলেই বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি।

নিউমোনিয়ার লক্ষণ বা উপসর্গ:
নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হল জ্বর আর তার সঙ্গেই অনর্গল খুসখুসে কাশি। এর পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের সমস্যাও থাকে। ফুসফুসে সংক্রমণ যত বাড়ে, শ্বাসকষ্টও ততই বাড়তে থাকে।

নিউমোনিয়ায় বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে বুকের ব্যথার ধরন একেবারে আলাদা। গভীর বা লম্বা শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। মূলত ফুসফুসে সংক্রমণজনিত প্রদাহের ফলে এই ব্যথা হয়।

এ ছাড়া, নিউমোনিয়ায় মাথায় যন্ত্রণা, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা, সারাক্ষণ বমি বমি ভাব ইত্যাদি একাধিক আনুষঙ্গিক সমস্যা দেখা দেয়।

চিন্তার বিষয় হলো, জ্বর, নিউমোনিয়া, হাঁচি, সর্দিকাশি, শ্বাসকষ্ট— এই সব চেনা নিউমোনিয়ার লক্ষণ বা উপসর্গের আড়ালেই হানা দিচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস।

চিনের ইউহান প্রদেশসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস ইতিমধ্যেই প্রাণ কেড়েছে বহু মানুষের। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মিলেছে ব্যাঙ্কক, আমেরিকাতেও। ইতিমধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রিয়ঙ্কর পাল বলেন, এটি ভাইরাসের নতুন চরিত্র। মূলত শ্বাসনালী আক্রমণ করে তা অকেজো করার চেষ্টা করে। জ্বর হয়। নির্দিষ্ট কোনও উপসর্গ না থাকায় এই ভাইরাস চিহ্নিত করাটা বেশ সমস্যার। কোনও প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নেই। তাই সতর্ক থাকা জরুরি।

ভাইরাস গবেষক সুমন পোদ্দার বলেন, এখনও এর আসল উৎস নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু এখনও জানা যায়নি। ভয়ের কিছু নেই। শারীরিক সমস্যা থাকলে বিপদ হতে পারে। তবে আমরা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে।

এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে অনেকটাই বাঁচা সম্ভব।

  • সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া।
  • চোখ, নাক ও মুখ থেকে হাত সরিয়ে রাখা।
  • যাদের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা গেছে তাদের খুব কাছাকাছি না যাওয়া।
  • অসুস্থ জীব-জন্তু থেকে দূরে থাকা।
  • খামার, গোয়াল ঘর কিংবা বাজারের মতো যেসব জায়গায় জন্তু রাখা থাকে সেসব জায়গা এড়িয়ে চলা।
  • কোনো পশু স্পর্শ করার পর ভালোভাবে হাত ধোয়া।
  • ক্ষুধা কিংবা যেসব বিষয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে সেগুলো এড়িয়ে চলা।

 

 

epsoon tv 1

Related posts

body banner camera