পাইকগাছায় উন্নয়ন বঞ্চিত ভড়েঙ্গা ও লেবুবুনিয়ার চক

পাইকগাছায় উন্নয়ন বঞ্চিত ভড়েঙ্গা ও লেবুবুনিয়ার চক
Content TOP

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা,খুলনা।।

পাইকগাছার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা গুলো সকল সময় উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। যাদের ভোট ব্যাংকের উপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে নামলেও নির্বাচন পরবর্তীতে তাদের এলাকা উন্নয়নে বেমালুম ভুলে যান নির্বাচিত ব্যক্তিরা। তবে বর্তমান সাংসদ কি করেন, এটাই দেখার অপেক্ষায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অবহেলিত পাইকগাছার ভড়েঙ্গার চক গ্রামের জনগণ একই সাথে লেবুবুনিয়ার চকের জনগন। এ ক্ষেত্রে পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউপির খড়িয়া ভড়েঙ্গার চক ও লেবুবুনিয়ার চক দুই গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে একটি নদি। সরকারী সকল সুবিধা থেকে বঞ্ছিত এখানকার জনগণ যেখানে শতভাগ জনগণ হিন্দু।কিন্তু অবাক হলেও সত্য গ্রাম দুটির চলাচলের রাস্তা আজও কাচা, সরু ও জরাজীর্ণ। উক্ত গ্রামদুটিতে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার কোন এজেন্ট না দিলেও শত ভাগ ভোট নৌকায় পড়ে। অথচ হিন্দু বা আওয়ামী অধ্যুষিত এ এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগে না। কাচা রাস্তা হলেও এতই জরাজীর্ণ, যা চলা চলের সম্পূর্ণ অযোগ্য। বর্ষা মৌসুমে কেউ ঘর থেকে বাইরে বেরুতে পারে না। সে ক্ষেত্রে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা সম্পূর্ণ বন্দ থাকে। ইতিপূর্বে সকল নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্ধসঢ়;রুতি দিলেও নির্বাচনের পর বেমালুম ভুলে গিয়েছিল রাস্তাটির সংস্কার বা মেরামতের কথা। ফলে ভড়েঙ্গার চক ও লেবুবুনিয়ার চক গ্রামের রাস্তা দুটি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কাদা মাটিতে পরিনত হলে চরম দুর্ভোগের স্বীকার হয় শিক্ষার্থী সহ অত্র এ এলাকার জনগণ। সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউপির খড়িয়া গ্রামের সুভাষ চন্দ্র রায় (সাবেক শিক্ষক) বাড়ী নামক স্থান হতে উত্তর খড়িয়ার শিবসা নদীর বাধ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা, সরু ও অতি জরাজীর্ণ, সেই সাথে লেবুবুনিয়া ভড়েঙ্গার চক গ্রামের অধিকাংশ রাস্তাই কাঁচা, সরু ও জরাজীর্ণ। রাস্তা দুটির পাশ দিয়ে ভড়েঙ্গার খাল প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তা ভেঙ্গে অনেকটা খালের সাথে মিশে গেছে। উক্ত রাস্তাটি খালের দিকে এতই ঢালু হয়েছে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে কর্দমাক্তে পরিণত সহ খালের দিকে ধাবিত হয়।এখানে মিলনবীথি নামক একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গ্রাম হতে শত শত ছেলে মেয়ে বিদ্যালয় দুটিতে যাতায়াত করে। হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম দুটির রাস্তার বেহাল দশার কারনে কোন যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে পারে না। বিশেষ করে প্রাইমারী বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় দুটি বর্ষা মৌসুমে প্রায় শিক্ষার্থী শূন্য থাকে। রাস্তা এতই খারাপ ও সরু, যে স্থান দিয়ে শিক্ষার্থী দুরে থাক সাধারণের চলাচলও অযোগ্য। অথচ সম্পূর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত এই গ্রামের রাস্তা ঠিক করার মত কেউ নেই। আবার বর্ষা মৌসুমে উক্ত গ্রামের অল্প কিছু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গেলেও বই খাতা ভিজে কাদা মাটি মেখে আসা যাওয়া করতে হয়। এছাড়া উক্ত এলাকায় রয়েছে চিংড়ি চাষের একাধীক মৎস্য লীজ ঘের। ভাংগাচুরা রাস্তার কারণে বাগদা, গলদা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সরবরাহের জন্য কোন যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় সেক্ষেত্রে বাগে অথবা মাথায় করে মাছ বহন করতে হয় এলাকারর জনগণের।এলাকার লোকজন অত্যন্ত ঝুকির মধ্যে পড়ে।কিছু কিছু মোটর সাইকেল বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য ঋতুতে মিস্ত্রি বাড়ীর সামনে দিয়ে গ্রামে প্রবেশ করতে না পেরে উত্তর খড়িয়া ঘুরে ওয়াপদা রাস্তা দিয়ে ঢুকতে হয় এই গ্রামে। যা প্রতিনিয়ত তাদেরকেও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতি ইউপি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সকল প্রার্থীরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বারংবার প্রতিশ্ধসঢ়;রুতি দিলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাস্তাটির কথা আর করোর খেয়াল থাকে না। জনৈক দুলাল চন্দ্র মন্ডল (৭৫) বলেন, আমাদের এই এলাকা আওয়ামী ও হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার শতভাগ ভোটার নৌকায় ভোট দিয়ে থাকে। আমাদের কাঙ্খিত দলটি দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা স্বত্ত্ধেসঢ়;বও এ গ্রামের রাস্তা সংস্কার সহ এলাকার কোন উন্নয়নে সাবেক এমপিরা খেয়াল করিনি। তবে আশা করছি বর্তমান সাংসদ আক্তারুজ্জামান বাবু তারুন্যের অহংকার হিসাবে কোন ভুল করবেন না। তিনি আপন পর বিবেচনা করে আমাদের দিকে তাকাবেন এবং উন্নয়ন বঞ্চিত রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করে নিজের রিজার্ভ ভোট ধরে রাখবেন। কার্তিক চন্দ্র মন্ডল (৬০) বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বর্ষা মৌসুমে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশে কোথাও এমন অবহেলিত এলাকা আছে বলে আমি মনে করি না। অথচ আমরা জন্ম সুত্রে নৌকার ভোটার। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে আমাদের উন্নয়ন করুক বা না করুক আমরা আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে যাব। তবে বাবু ভাইয়ের আমলে আশা করছি। কারণ তিনি ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে পরিক্ষিত সৈনিক হিসাবে এখানে এসেছেন । তার ভোট ব্যাংক এলাকার উন্নয়ন হবেই। নির্মল চন্দ্র সরদার বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ফিরে তাকায় নি হিন্দু অধ্যুষিত ভড়েঙ্গার চক গ্রামের দিকে, তবে বাবু ভাই এমপি হয়েছে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আর জরাজীর্ণ থাকবে না এবং ধান্য ও মৎস্য মৌসুমে আমাদেরকে আর বেশি কষ্ট করা লাগবে না ছেলে মেয়েরা স্বস্তিতে স্কুল যেতে পারবে। এলাকার শতশত লোকজন রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধি সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুঢিত এলাকার জনগণ বর্তমান সাংসদ তারুণ্যের প্রতীক আক্তারুজ্জামান বাবুর উপর পূর্ণ আস্তা আছে বলে জানিয়েছেন।

Content TOP

Related posts

body banner camera