ব্রেকিং নিউজঃ

পটুয়াখালীর তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত

পটুয়াখালীর তরমুজ চাষীদের মাথায় হাত
Content TOP

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী মৌসুমি ফল তরমুজ আবাদে অন্যতম সুপরিচিত এলাকা । এখানকার ১৪ হাজারের বেশি মানুষ রসালো ফলটি আবাদের সঙ্গে জড়িত।

ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি চাহিদা থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান অর্থকরী ফসল তরমুজ; কিন্তু চলতি মৌসুমে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত কয়েক দফার বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষেতে পানি জমে ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমির তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা দাদন কিংবা ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে দুশ্চিতায় পড়েছেন। কৃষি বিভাগের দাবি, বৃষ্টিপাতের কারণে তরমুজ চাষিদের প্রায় একশ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ হাজার হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ফলটি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দফার বৃষ্টিপাতে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমির তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ৬ হাজার ৩০০ হেক্টরে ৩০ মেট্রিক টন হারে ১ লাখ ৮৯ হাজার টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। স্থানীয় চাষিরা জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এ উপজেলায় তরমুজ আবাদ হচ্ছে। মাটি, পানি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা প্রতি বছরই তরমুজ চাষে ঝুঁকছে।

চাষিদের পাশাপাশি দিনমজুররাও প্রতি বছর এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকে। পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এখানকার তরমুজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে। ফলে এ এলাকার তরমুজের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এবারে বৃষ্টির কারণে শতকরা ১০ জন চাষি লাভবান হতে পারে। আর ভাগ্য ভালো থাকলে কেউ মূলধন ফিরে পাবে। কেউ আবার চালান হারিয়ে নিঃস্ব হবে। এর ফলে দাদন কিংবা ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন চাষিরা।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের তরমুজ চাষি কামরুল হিরু বলেন, ১২ কানি জমিতে ২৪ লাখ টাকা দাদন ও ঋণ করে লাভের আশায় তরমুজ চাষ করেছিলাম। এই বৃষ্টিতে আমার সব শেষ।

উত্তর কাজির হাওলা গ্রামের তরমুজ চাষি মোছলেম হাওলাদার জানান, ৬০ হাজার টাকা দাদন আর ঋণের ১ লাখ টাকা দিয়ে দেড় কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। মাত্র ৭ বিঘা জমির তরমুজ কোনো রকম আছে। সরেজমিন দেখা গেছে, এবারও উপজেলার খালগোড়া, কোড়ালিয়া, বাহেরচর, কাউখালী ও কাজির হাওলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী তরমুজ ঘাট গড়ে ওঠেছে। কিন্তু গত বছরগুলোর মতো ঘাটগুলোতে তেমন প্রাণচাঞ্চল্য নেই।

আমলিবাড়িয়া গ্রামের চাষি দুলাল সরদার জানান, আমি ১৩ বছর ধরে তরমুজ চাষ করি। তরমুজে কোনো লোকসান নেই। এবার বৃষ্টিতে অনেক লোকসান হয়েছে। ঢাকায় তরমুজের দাম বাড়ছে; কিন্তু ক্ষেতে তরমুজ নেই।

কাউখালী গ্রামের চাষি ইমাম হাসান সিকদার জানান, বৃষ্টির পর রোদ ওঠায় তরমুজ চারা মরে গেছে। চাষিরা এবার দিশেহারা হয়ে গেছে। দাদনের টাকা দিতে না পেরে অনেকে এলাকা ছাড়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আবদুল মান্নান বলেন, ‘বৃষ্টির পরও যাদের ফলন টিকে আছে, তারা লাভবান হবে। আর যাদের নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের লোকসান হবে। এই বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় একশ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়ার বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

আড়তদাররা জানান, এ মুহূর্তে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজের বেশ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী রফতানি হচ্ছে না। তাই ক্রয়-বিক্রয় চড়া দামে হচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে এ উপজেলায় তরমুজ কিনতে আসা পাইকার আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর রাঙ্গাবালীতে তরমুজ কিনতে আসি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার তরমুজ অনেক কম।

এবার যে পরিমাণ চাহিদা, সে পরিমাণ তরমুজ আমরা আড়তে পাঠাতে পারছি না। বরগুনার আমতলী থেকে আসা পাইকার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরগুলোতে আমরা ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের ফল কিনেছি। কিন্তু এবার ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের ওপর ফল নেই। বৃষ্টিতে গাছের ক্ষতি হওয়ায় ফল বড় হয়নি।

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera