নবাবগঞ্জে শীতের সকালে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছি

নবাবগঞ্জে শীতের সকালে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছি
Content TOP

ফিরোজ হোসেন, (ঢাকা):

চলতি মৌসুমে সারা দেশ জুড়েই শীতের হিমেল হাওয়া বয়ে চলছে। কোন কোন জেলায় শীতের তীব্রতা অনেকটাই বেশি, অাবার কোন কোন জেলায় অনেকটাই কম। তবে বর্তমান মৌসুমকে নিয়েই শীতকাল। আর এই শীতের প্রারম্ভেই রাজধানী অাশপাশের জেলা সহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা।

 নবাবগঞ্জে শীতের সকালে খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছি

শিশির ভেজা সকালে খেজুর রসে ভরা হাঁড়ি নামানোর মধ্য দিয়ে দিন শুরু করে গাছিরা। এরপর শুরু হয় গুড় প্রস্তুতের কাজ। সকল গাছের রস একত্রিত করে ড্রামে করে বসিয়ে দেওয়া হয় রসের চুলায় । অাবার অনেকেই বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কাচা রস বিক্রি করতে ব্যস্ত থাকে। সকাল হলেই খেজুরের মিষ্টি রস আর লোভনীয় গুড়ের স্বাদ পেতে শিশু কিশোরদের ভীড় জমে গাছিদের বাড়িতে। সরেজমিনে রাজধানীর অাশপাশে বিভিন্ন জেলায় উপজেলায় ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের বান্দুরা, নয়নশ্রী, শিকারীপাড়া, কৈলাইল, ব্রাহা, দোহারে মুকসেদপুর, মেঘুলা, নারিশা, অপরদিকে কেরানীগঞ্জের উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খেজুরের রস সংগ্রহ করতে দেখা যায় গাছিদের। এই দিকে মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর জেলা গুলোতে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতে দেখা যায়। তবে ঢাকা জেলার পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলায় হরিরামপুরের জিটকা, সিংগাইর উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলায় রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিতে খুব পরিচিত। এই শীতকালীন মৌসুমে মানিকগঞ্জ জেলা জুড়ে প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার খেজুরের রস সংগ্রহ করার পর গুড় তৈরীতে ব্যাস্ত সময়ে দিন কাটাচ্ছেন গাছিরা। মানিকগঞ্জের জিটকা গ্রামের এক গাছির সাথে কথা বললে তিনি জানান, বছরের অন্যান্য সময় নানা পেশায় নিয়োজিত থাকলেও শীত মৌসুমে তারা গুড় তৈরীতে ব্যস্ত থাকেন। তৈরীকৃত গুড় বাজারে ব্ক্রিী করে পরিবারের ব্যায় নির্বাহ করেন অনেকেই। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর ও সিংগাইর সহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি খেজুরের গুড় প্রকারভেদে ৬০-৭০ টাকা দামে বিক্রী হচ্ছে। আর এতে করে অর্থনৈতিক ভাবে অনেকটাই স্বাবলম্বী হচ্ছেন এসব উপজেলার গাছিরা । আর সাথে সাথে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর গুড়ের চাহিদা মেটাতেও রাখছে অগ্রণী ভূমিকা।

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera