brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

নবাবগঞ্জে মাহেন্দ্রায় রাস্তা নষ্ট; গ্রামবাসীর নামে থানায় অভিযোগ!

নবাবগঞ্জে মাহেন্দ্রায় রাস্তা নষ্ট; গ্রামবাসীর নামে থানায় অভিযোগ!
epsoon tv 1

 

বিপ্লব ঘোষ, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি.
গ্রামের নাম জৈনতপুর। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত এলাকা। গ্রামবাসীর চলাচলে একটি মাত্র সড়ক। তাও কাঁচা মাটির। বৃষ্টি হলে পায়ে হেটে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। তার উপর এলাকার ইট, বালু, মাটি ব্যবসায়ী আব্দুল বাতেন তার চাচাত ভাই শামীমের মাহেন্দ্রা গাড়ীতে রাস্তা জুরে খাদ তৈরি করেছেন। চাকা থেকে কাঁদামাটি ছিটে বাড়িতে চলে আসছে। রাস্তার এমন বেহাল দশা পায়ে হেঁটে চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এলাকাবাসী বাঁধা দিলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বাতেন গংরা। এলাকাবাসীকে শায়েস্তা করতে ক্ষমতাধর বাতেন-শামীম অভিযোগ করেছেন থানা পুলিশে। উপায় না পেয়ে গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন সংবাদকর্মীদের।
সরেজমিনে দেখা ও জানা যায়, জৈনিতপুর মসজিদ থেকে দীর্ঘগ্রাম পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক এবং জৈনতপুর হতে করপাড়া আড়াই কিলোমিটার সড়ক জুরে খানাখন্দে বেহাল। এলাকার আব্দুল বাতেন ও তার চাচাত ভাই শামীমের মাহেন্দ্রা গাড়ীর চাকার দাগ রাস্তা জুরে খাদ তৈরি করেছেন। বৃষ্টির পানি মাহেন্দ্রা গাড়ীর চাকা দেড় থেকে দুই ফুট গর্তের সৃষ্টি করেছে। তাতে কাঁদাপানি মিশে রাস্তা জুরে ছড়িয়ে আছে। পায়ে হেটে চলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর।
ঐ গ্রামের মজনু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার বাড়ির সামনের রাস্তায় কাঁদা-পানি ভরা। রাস্তা দিয়ে মাহেন্দ্রা গেলে কাঁদাপনি ঘরে ছিটে আসে। সম্প্রতি গাড়ির মালিক বাতেন-শামীমকে এবিষয়ে বললে ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে, “সরকারি রাস্তা নষ্ট করেছি। তোরটা করিনি। গাড়ির সামনে আয় পিষ্ঠ করে মেরে ফেলবো।” এতে তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। পরে এবিষয়ে ১৫/২০ জনের নামে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে শামীম।
মো. ফরহাদ জানান, এবছর গ্রীস্মকালের শুরু থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাহেন্দ্রা গাড়ী চলায় গ্রামের কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। বাতেন-শামীমের সাথে কথা বলা যায় না। গালাগাল করে। গ্রামের বয়োজেষ্ঠ্য জৈনন্দিন মাতবর জানান, সড়ক জুরে খানাখন্দ তাতেই চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীর। তাদের নিজেদের দুটো গাড়ি। গ্রামে ইট, বালু, মাটির ব্যবসা। ওরা নিজেরাই গাড়ীর চালক। মালামাল তারাই পৌছে দেন।
কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, আমরা গরিব মানুষ জমিতে কিছু ফসল ফলাই। তাই দিয়ে সারাবছর চলি। ধান কেটে বাড়িতে আনার সময় চলছে। রাস্তার বেহাল দশায় দুর্ভোগ বেড়েছে।
জেলেকা বেগম অভিযোগ করেন, এমনিতে কাঁচা সড়কে পায়ে হাটা যায় না। তার উপর চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গ্রামের বৃদ্ধা, প্রসুতি, শিশুদের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বাতেন-শামীমরা ক্ষমতা দেখায়। আমরা কার কাছে যাব?
বাতেন, শামীমদের বিরুদ্ধে এ রকম আরও অনেক ধরণের অভিযোগ করেন আব্দুল মালেক, শামীম হোসেন, আব্দুল মোতালেব, মজনু, জাহাঙ্গীর, নূর আলম, জনি, লুৎফর, রমিজ, মালেক, রাজু সহ অসংখ্য নারী-পুরুষ।
এবিষয়ে জানতে বাতেন মিয়ার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী বলেন, একমাস যাবত আমাদের গাড়ি চলে না। সরকারি রাস্তা নষ্ট করছি কারও বাবারটা। পারলে তোমরা ঠিক করে নাও।
মো. শামীম মুঠোফোনে বলেন, আমার গাড়ি-টারি চলে না। আমারে ফোন দিছেন কেন। থানায় অভিযোগ বাতেন করছে। আমি কিছু জানি না।
তদন্তপ্রাপ্ত নবাবগঞ্জ থানার এএসআই মো. সাঈদের মুঠোফোনে বেশকয়েকবার সংযোগ দেয়া হলেও তিনি গ্রহন করেননি।
বারুয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ মোল্লা এবিষয়ে বলেন, বাতেন-শামীমরা এলাকাবাসীকে জিম্মি করে রেখেছে। ওরা এলাকাবাসীর চলাচলের সরকারি রাস্তা নষ্ট করেছে। বাতেন-শামীমদের রাস্তা সংস্কার করে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে ওরা এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেছে। বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক।
বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ইঞ্জি. আরিফুর রহমান সিকদার বলেন, এবিষয়ে শুনেছি। গত দু’বছর আগে ওয়ানপার্সেন্টের বরাদ্দে রাস্তাটিতে মাটির কাজ করা হয়েছিল।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু এবিষয়ে বলেন, রাস্তাটি দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের। তবুও এলাকাবাসী অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখা হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন আহমেদ ঝিলু ঘটনাটির দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, নবাবগঞ্জে অবৈধ মাহেন্দ্রা গাড়ি চলাচল ও অবৈধভাবে মাটি কাটার অনুমতি নেই। মাননীয় সংসদ সদস্য এবিষয়ে স্পষ্ট বিধিনিষেধ জারি করেছেন। আমিও মাহেন্দ্রা চলাচলের বিরুদ্ধে। যদি সেটা কৃষিযন্ত্র হয় তবে বাধা নেই। যদি মাহেন্দ্রা গাড়িতে গ্রামের রাস্তা নষ্ট করে থাকে সেটা ভাল কাজ নয়। এলাকাবাসী অভিযোগ জানালে আমি বিষয়টি দেখবো।

epsoon tv 1

Related posts

body banner camera