ব্রেকিং নিউজঃ

“নবাবগঞ্জে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উৎসব ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি”

“নবাবগঞ্জে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উৎসব ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি”
Content TOP

২৫ ডিসেম্বর খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব বড় দিন।  উৎসব আর আমেজে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার আঠার গ্রামের খ্রীষ্টান পল্লীর বাড়িতে বাড়িতে চলছে সাজসজ্জা।

অতিথিদের নিমন্ত্রন করা হচ্ছে মোবাইল ম্যাসেজ, কার্ডসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। বড়দিনে শুধু নয় ঐসব এলাকার হিন্দু ও মুসলিম পরিবার গুলোকেও দাওয়াত করতে ভুল করছেন না তাঁরা। অতিথি আপ্যায়নে কোন রকমের ত্রুটি না রাখতে বাড়ি বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে রকমারী পিঠাপুলি। তবে বড়দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়নে কেকই প্রাধান্য দেয়া হয়।

“নবাবগঞ্জে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উৎসব ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি”

প্রতিটি বাড়ির সামনে সাজানো হচ্ছে ক্রিসমাসট্রি। শিশুদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত সান্তাক্রুসের উপহার পেতে আবেগ আপ্লুত হয়ে আছে শিশুরা। অপেক্ষার দিনক্ষণ শেষ হতে বেশি সময় দেরি না হলেও মহাব্যস্ত এ এলাকার খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের পরিবার গুলো।

সরেজমিনে দোহার নবাবগঞ্জের  খ্রীষ্টান পল্লী ঘূরে দেখা যায়, গ্রামের গীর্জা ও উপধর্মপল্লী গুলোকে সাজানো হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ঝলমলে আলোক সজ্জায়। দোহারের ইকরাশী উপধর্মপল্লী, নবাবগঞ্জের সোনাবাজু উপধর্মপল্লী, হাসনাবাদ জপমালা রানীর গীর্জা, সাধু ফ্রান্সিস জেভিয়ার গোল্লা গীজা, তুইতাল গীর্জা, বক্সনগর গীর্জার প্যারিস কমিটির তৎপরতাও তাই বেড়েছে।

Brand Bazaar গীর্জার অভ্যন্তরে দৃষ্টি নন্দন ভাবে ডিসপ্লে করা হবে কুড়ে ঘরের ভিতর মাদার মেরীর কোলে যিশুখ্রীষ্টের মুর্তি। গীর্জায় প্রার্থনায় করতে আসা পূণ্যার্থীদের আগমন নিরবিচ্ছিন্ন করতে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ভলান্টিয়ার টিম। সব মিলিয়ে আগাম উৎসব চলছে খ্রীষ্টান অধ্যুষিত গ্রাম গুলোতে।

অন্যদিকে, বড় দিন উপলক্ষে  নবাবগঞ্জের বান্দুরা বাজারের তৈরি পোশাক মার্কেট গুলোতে ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। সকাল থেকে রাত  পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীড় জমে উঠেছে।

বান্দুরা বাজারের মুকুল বস্ত্রালয়ের মালিক মুকুল সিদ্ধা জানান, রুচিশীল রকমারী পোশাকের সমাহারে দোকান সাজানো হয়েছে। প্রতি বছরের চেয়ে বিক্রি ভালই চলছে। উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বেশ। শেষ পর্যন্ত ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
দোহারের ঈমামনগর গ্রামের জন গমেজ জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বড়দিন পালনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতি মধ্যে নতুন পোশাক কেনাকাটা হয়ে গেছে। এলাকার হিন্দু, মুসলামানদেরও দাওয়াত করেছি।

বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দিলীপ গোমেজ বলেন, এ উপজেলার ১৮টি গ্রামে ৫টি গির্জা আছে। এর মধ্যে হাসনাবাদ এলাকায় রয়েছে পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা। এ ছাড়া গোল্লা, তুইতাল, সোনাবাজু ও বক্সনগরে গির্জা আছে। ১৮টি গ্রাম ও গির্জা এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

নবাবগঞ্জের হাসনাবাদ জপমালা রানীর গির্জার ফাদার ম্যাক্সওয়েল বলেন, নবরাজ খ্রিস্টকে গ্রহণ করতে বড়দিনের নয় দিন আগে থেকে নভেনা খ্রিস্ট যাগ বা পাপস্বীকার পর্ব চলছে। দোহার, নবাবগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ১৮টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার পরিবার উত্সব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বড়দিনের কীর্তনের (ক্যারল) মধ্যে দিয়ে এ উত্সব শেষ হবে।

 

এ উৎসব বড় দিনের কির্তনের (ক্যারল) মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। উৎসব নিরবিচ্ছিন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগীতা চাওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি  বলেন, গীর্জা ও এর আশপাশে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য চাওয়া হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  বলেন, বড়দিন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগীতা করবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে থাকবে।

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera