brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

দোহার-নবাবগঞ্জে অটোবাইকের কারণে বাড়ছে যানজট : ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা

দোহার-নবাবগঞ্জে অটোবাইকের কারণে বাড়ছে যানজট : ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা
Content TOP

নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এক সময়ের জনপ্রিয় যানটি এখন দুই উপজেলাবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইজিবাইকের কারণে প্রায় দিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির অভাবে দোহার-নবাবগঞ্জে ইজিবাইক চালাচ্ছে শিশু-কিশোররা।

রাসেল (১৪) নামের এক কিশোর জানায়, সংসার চালানোর তাগিদেই সে ইজিবাইক নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। ইজিবাইকের পাশাপাশি আরেকটি বেপরোয়া যান সড়কে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সেটি মোটরসাইকেল। এই দুই যান সড়কে কেউ কাউকে সাইড দিতে চায় না। এতে যানজটে ভোগান্তি সৃষ্টির পাশাপাশি ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ এই দুটি যান।

একথা স্বীকার করে নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা এলাকার রকিব নামে মোটরসাইকেল চালক জানান, এসএসসি পাস করার পরে বাবা তাকে মোটরসাইকেল কিনে দেন। এখন আর সে লেখাপড়া করে না, কোনো কাজও করে না। শুধু মোটরসাইকেল দৌড়ায়। দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কাছে ইজিবাইকের সঠিক সংখ্যার পরিসংখ্যান নেই।

তবে নানা সূত্রে দুই উপজেলায় যানটির সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি হতে পারে। এগুলোর বেশিরভাগেরই লাইসেন্স নেই। সড়কে এসব যান চলছে বেপরোয়া গতিতে। দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা দুটি প্রবাসীনির্ভর। বেশিরভাগ পরিবারের প্রধান থাকেন বিদেশে। মায়ের কাছে থাকে সন্তানের সব আবদার। মা সন্তানের আবদার মেটাতে পরিবারের প্রধান অল্পবয়সে সন্তানকে কিনে দেন মোটরসাইকেল। ফলে সন্তানরা বখে যাচ্ছে। অনেকে জড়িয়ে পড়ছে মাদকের সেবনের মতো মরণনেশায়।

যন্ত্রাইল গ্রামের রোখছানা বেগম জানান, তার ছেলে রকি এখন নেশা করে। এখন নিজেকেই প্রশ্ন করছেন, কেন ছেলেকে এই বয়সে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। এই মোটরসাইকেলের কারণেই বন্ধুদের ফাঁদে পড়ে তিনি সন্তানকে হারাতে বসেছেন। দীঘিরপাড় এলাকার কাশেম জানালেন, মোটরসাইকেলের উচ্চ শব্দে রাস্তায় হাঁটাচলা দায়। বাবা-মায়ের আদরের সন্তানরা নতুন মোটরসাইকেল কিনেই উচ্চশব্দের সিলিন্ডার লাগায়। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায়ই এ পরিস্থিতি বলে মনে করেন তিনি।

দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন  বলেন, বর্তমানে বেপরোয়া মোটরসাইকেল জনগণের জন্য এক প্রকার হুমকি। বিগত বছরগুলোয় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে আমাদের কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। আমি মনে করি অপ্রাপ্ত বয়সে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়া মানে মৃত্যুর কাছে সন্তানকে সঁপে দেওয়া। তিনি অভিযোগ করেন, কলেজ চলাকালে কলেজ রোড দিয়ে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যায় তরুণরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

নবাবগঞ্জ থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল এবং দোহার থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, তারা ইতোমধ্যে ইজিবাইক সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। খুব শিগগির এর সমাধান হবে। তবে শুধু তারা উদ্যোগ নিলেই হবে না, এ কাজে অবশ্যই ইজিবাইক চালকদের সহায়তা করতে হবে। সেই সাথে ১৮ বছরের কম বয়সী এবং উচ্চশব্দে যারা মোটরসাইকেল চালায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মঞ্জু বলেন, আমরা ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল আতঙ্কের কথা জানতে পেরেছি। এর সমাধানে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগির এর সমাধান হবে। এ ছাড়া মোটরসাইকেলের ব্যাপারে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

Content TOP

Related posts

body banner camera