brandbazaar globaire air conditioner

দিনে ফল বিক্রেতা রাতে ডাকাত

দিনে ফল বিক্রেতা রাতে ডাকাত
Content TOP

তাদের কেউ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা, কেউ রিকশাচালক, কেউ বা মুরগি বিক্রি করে। কিন্তু এগুলো তাদের আসল পেশা নয়। দিনের বেলা ছদ্মবেশী নানা পেশার এসব মানুষ রাতের আঁধারে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। হাতে তুলে নেয় ধারালো চাপাতি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র। অস্ত্রের মুখে লুটপাট চালায় বিভিন্ন বাসাবাড়িতে। ২০ থেকে ২৫ জন ভাড়াটে সদস্য নিয়ে করে নৃশংস ডাকাতি। শুধু বাসাবাড়িতেই নয়; এ চক্রের সদস্যরা ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গায় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহূত ড্রেজারেও অস্ত্রের মুখে নিয়মিত ডাকাতি করে আসছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সদস্যরা গত শুক্রবার ভয়ঙ্কর ওই ডাকাত দলের তিন ‘ওস্তাদ’সহ ৭ জনকে গ্রেফতার করার পর ডাকাতির এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার  রাতে আদাবর এলাকার একটি বাসায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি, তিনটি ধারালো অস্ত্র ও দুটি শাবল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ৭ জন হলো- মনিরুজ্জামান, হাসমত আলী, বারেক হাওলাদার, রফিকুল ইসলাম লুৎফর, মো. সাজু, হৃদয় হোসেন বাবু ও ইমরান। তাদের মধ্যে প্রথম তিনজন ডাকাত দলের সর্দার। অন্য সদস্যরা তাদের ‘বস’ বলে ডাকে। ওই সাতজনকে গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন  বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিমের প্রধান সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজমুল হক সমকালকে বলেন, বিভিন্ন সময়ে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করে এ চক্রটির সন্ধান পান তারা। চক্রের অন্তত আরও ২০ জন সক্রিয় সদস্য পলাতক।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রটি ঢাকাসহ সারাদেশেই বাসাবাড়িতে ডাকাতি করে আসছিল। সর্বশেষ গত ১২ জুন শরীয়তপুরের জাজিরা থানার লক্ষ্মীকান্দিপুর গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতি করে। ওই ঘটনায় মামলা না হলেও ডিবির হাতে গ্রেফতারের পর চক্রটি ডাকাতির কথা স্বীকার করে। এ ছাড়া এরা বিভিন্ন নদীতে অস্ত্রের মুখে ড্রেজারে ডাকাতি করে থাকে। প্রতিটি ড্রেজার থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে অস্ত্রের মুখে ড্রেজারের ব্যাটারি লুট করে।

অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিমের সূত্র জানায়, এ ডাকাত দলে দেলোয়ার, মোস্তফা, হিরা, গাজী বিল্লাল, আলমগীর, গ্যাস বিল্লাল, টেক্কা, খলিল, শামীম, লেদুসহ অন্তত ২০ জন রয়েছে। এদের বেশিরভাগ সদস্যই মনিরুজ্জামান, হাসমত, বারেকের নেতৃত্বে ভাড়ায় ডাকাতি করে থাকে। ‘অপারেশন’ সফল হলে লুণ্ঠিত মালপত্র বিক্রি করে মনিরুজ্জামান ডাকাতির সময়ে ঝুঁকি ও দায়িত্ব অনুযায়ী টাকা ভাগ করে দেয়। দলের অন্য দুই সর্দার বারেক, হাসমতসহ কয়েক সদস্য ফল বা মুরগি বিক্রির আড়ালে টার্গেট করা বাসা রেকি করে। এরা টার্গেট ঠিক করে দিয়ে পুরো ডাকাতির তদারকি করে। তাদের হয়ে কয়েক সদস্য ডাকাতির সময়ে পাহারা বসায়। হিরা লুণ্ঠিত মালপত্র নিতে গাড়ি সরবরাহের দায়িত্বে থাকে। এদের সবার বিরুদ্ধেই অস্ত্র ও ডাকাতি আইনে ১০ থেকে ১২টি করে মামলা রয়েছে। অনেকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারও হয়েছে।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত দলের অন্যতম সর্দার ৬৫ বছর বয়সী বারেক হাওলাদার জানিয়েছে, সে তরুণ বয়স থেকেই ডাকাতি করে আসছে। জীবনে শতাধিক চুরি-ডাকাতি করেছে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন ডাকাত দল চালায়। তবে আগের মতো এখন আর ডাকাতি করা যায় না। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হলেও দলের সদস্যরাই ডাকাতির টাকা দিয়ে তাকে বের করে আনে।

জাজিরায় ডাকাতির শিকার গৃহকর্তা আক্তার হোসেন সমকালকে বলেন, ১২ জুন রাতে অস্ত্রের মুখে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাসায় লুটপাট চালায় ডাকাতরা। বাসা থেকে দেড় লাখ টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পাশেই তার দুই ভাড়াটের বাসা থেকে একই কায়দায় লুটপাট চালানো হয়।

ডাকাতির শিকার ড্রেজারের এক ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ডাকাতরা মাঝেমধ্যেই ফোন করে টাকা চায়। না দিলে অস্ত্রের মুখে এসে ব্যাটারি নিয়ে যায়। পরে তাদের টাকা দিয়ে সেই ব্যাটারি ছাড়িয়ে আনতে হয়।

ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার মীর মোদ্‌দাছ্‌ছের হোসেন সমকালকে বলেন, গ্রেফতার সাতজনকে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরা সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ২৫টি ডাকাতির কথা শিকার করেছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সংশ্নিষ্ট এলাকায় যোগাযোগ করে এর সত্যতাও পাওয়া যাচ্ছে। লুণ্ঠিত মালপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি পুরো চক্রকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Content TOP

Related posts

body banner camera