ঝিনাইদহে পুলিশ কনস্টেবল কে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে এসআই বললেন ‘জ্বিনে ধরেছে’

ঝিনাইদহে পুলিশ কনস্টেবল কে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে এসআই বললেন ‘জ্বিনে ধরেছে’
Content TOP
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
গাঁজাসহ আটক আসামি ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদ করায় পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণসরা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই দাউদ হোসেন।
ঘটনাটি শুক্রবার শুক্রবার ঘটলেও গত তিন দিন ধরে তা গোপন রাখা হয়েছিল। অবশেষে রোববার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাইদুর সাংবাদিকদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন।
তিনি যশোর সদর উপজেলার নোঙ্গরপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা চাঁদ আলীর ছেলে ও কালীগঞ্জের সুবর্ণসরা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
তবে এসআই দাউদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সাইদুরকে জ্বিনে ধরেছিল।
আহত সাইদুর রহমান বলেন, শুক্রবার কালীগঞ্জের বাদুড়গাছা গ্রাম থেকে দুটি গাঁজা গাছসহ একজনকে আটক করে সুবর্ণসরা ফাঁড়িতে নিয়ে যাই। এরপর ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই দাউদ ঘুষ নিয়ে ওই লোককে ছেড়ে দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আমি বলেছিলাম ‘আপনি টাকা খেয়ে আসামি ছেড়ে দিলে আমাদের অসুবিধা হয়। পাবলিক আমাদের খারাপ বলে।
“এই কথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন এসআই দাউদ। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের এক পর্যায়ে তিনি আমার বুকে লাথি মারেন। তারপর এলোপাতাড়ি মারপিট করেন।”
কনস্টেবল সাইদুর বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে তিনি চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন। ওই দিনই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হই। তিন দিনেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রোববার পুনরায় সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই দাউদ নিয়মিত মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করেন। কোন আসামি ধরে আনলে তিনি টাকা খেয়ে ছেড়ে দেন। এলাকার বিভিন্ন মানুষকে ভয় দেখিয়ে এসআই দাউদ টাকা আদায় করেন।
এ সময় এসআই দাউদের অপরাধের বিবরণ এই কনস্টেবল। তিনি বলেন, শান্তি মেম্বরকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা নিয়েছে এসআই দাউদ। এছাড়া মাদক বিক্রেতা খোড়া শহীদের কাছ থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। সোনালীডাঙ্গা গ্রামের লিয়াকত, মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড, ভ্যান স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে।
আহত সাইদুর বলেন, টাকা খেয়ে আসামি ছেড়ে দেয়ার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সুবর্ণসরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) দাউদ হোসেন বলেন, মারপিটের অভিযোগ সঠিক নয়। সাইদুরকে জ্বিনে ধরেছিল। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে বাড়ি পাঠানো হয়েছিল। এর আগে তার জ্বিনের সমস্যা ছিল।
দাউদ হোসেন আরও বলেন, কারো কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেই না। চ্যালেঞ্জ করে বলছি, গ্রামের হাজার মানুষের কাছে শোনেন, কেউ বলতে পারবে না, আমি কারো কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।
জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে শুনলাম। খোঁজ নিয়ে দেখছি।
Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera