brandbazaar globaire air conditioner
ব্রেকিং নিউজঃ

জীবননগরে  সাংবা‌দিক আবু সায়েম হত্যার প্রতিবাদে ও নিলুফার ইয়াসমিনের অকাল মৃত্যু‌তে স্মরন সভা অনুষ্ঠিত

জীবননগরে  সাংবা‌দিক আবু সায়েম হত্যার প্রতিবাদে ও নিলুফার ইয়াসমিনের অকাল মৃত্যু‌তে স্মরন সভা অনুষ্ঠিত
Content TOP
মামুন মোল্লা,চুয়াডাঙ্গা(৮/০৭/১৯)
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও গুনী সাংবাদিক দৈনিক সমকাল পত্রিকার জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি আবু সায়েমকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার নিজ বাড়িতে ছুড়ি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে হত্যা করে ঘাতক সন্ত্রাসী রাজিব সরকার। এ ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে চার বছর আগে । ৭ জুলাই রাতে উপজেলার পেয়ারাতলা স্থানীয় মসজিদে তারাবীহ নামাজ আদায় শেষে রাতের খাবার খেয়ে তার নিজ বাড়ির দোতালার শয়ন কক্ষে বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সাংবাদিক সায়েম   । এমতাবস্থায় সুযোগ বুঝে তার খাটের নিচে ওৎ পেতে থাকা খুনী রাজিব সরকার বেড়িয়ে আসে।  তার কাছে থাকা ধারলো ছুড়ি ঘুমন্ত সায়েমের বুকে চালিয়ে দেয়। তাৎক্ষনিকভাবে সায়েম ঘাতককে আটকাতে গেলে লুঙ্গি পড়ে থাকার কারনে ঘাতককে আর আটকাতে পারেনি।প্রচন্ড বেগে তার শরীরের ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর পরিমানে রক্ত গড়াতে থাকে।  পুনরায় ছুড়ি চালিয়ে দেয় তার বুকে। সায়েমের স্ত্রী চিৎকার দিয়ে বৈদ্যুতিক বাতি জালিয়ে দিলে ঘাতককে চিনে ফেলে। তাকে আটকানোর চেষ্টা করলে এলোপাথাড়ি ছুড়ি চালাতে থাকে। ভয়ে তারা ঘাতক রাজিবকে আটকাতে পারেনি। পরিবারের সকলে চিনতে পারে ঘাতক রাজিবকে। সে আর কেউ নয়  কয়েকদিন আগে বাড়ির সামনে ফকির বেশে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুরঘুর করছিল। এমতাবস্থায় সাংবাদিক সায়েমের পিতা বাচ্চু মোল্লা তাকে বাড়িতে এনে সেবাযত্ন করে খেতে দেয়। পরবর্তীতে অসহায়ের কথা বলে বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সাংবাদিক সায়েম সাংবাদিকতার পাশাপাশি জীবননগর বাজারে  জুতার ব্যবসা (এপেক্স শোরুম) ও  (জাসদের) রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসায়িক কাজে ঢাকাতে অবস্থানকালের ঐ  সুযোগকে কাজে লাগায় ঘাতক ছদ্মবেশী রাজিব।
বাড়ির সদস্যদের আস্থা অর্জন করে। কিছুদিনের জন্য আশ্রয় নেয়।  ঢাকায় মোকাম শেষে বাড়িতে ফিরে আসে সায়েম। পরিবারের সকলের সাথে একত্রে ইফতার করে নামাজে চলে যায়। কোন এক সুযোগ বুঝে সায়েমের শয়নকক্ষের খাটের তলায় অবস্থান নেয় ঘাতক রাজিব।  স্ত্রী দুই শিশু সন্তান রুদ্র ও রনককে সাথে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সায়েম । এমন সময় সুযোগ বুঝে সায়েমকে হত্যার জন্য ছুড়ি দিয়ে হামলা করে। সায়েমের চিৎকারে তার স্ত্রী ও সন্তানরা জেগে ওঠে বৈদ্যুতিক লাইট জালিয়ে দেয়। ঘাতক রাজিব দুই শিশু পুত্রের সামনেই ছুড়ি দিয়ে সায়েমের বুকে  বিদ্ধ করতে থাকে। ঘাতক তার নিঃস্পাপ সন্তানদের দিকে এগিয়ে গেলে সায়েম তাকে আটকানোর চেষ্টা করে পরবর্তীতে সায়েমকে উপুর্যপুরিভাবে ছুড়ি বিদ্ধ করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তার পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে তাদের বাড়িতে। চারদিকে খুজতে থাকে ঘাতক রাজিবকে। অবশেষে স্থানীয়রা সন্তোশপুর মোড়ে রক্তমাখা জামা ধোয়ার সময় হত্যাকার্যে ব্যবহৃত ছুড়ি সহ  তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। ওই দিনই তাকে উত্তম-মাধ্যম   দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। জীবননগর থানা পুলিশ ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করে। এবং হত্যাকান্ডের কথা নির্ভয়ে শিকার করে। সায়েম হত্যার চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে কিন্তু তার হত্যার বিচার আজও হয়নি। একমাত্র সন্তান  সায়েম কে হারিয়ে বুক ফাটা কান্নায় জর্জরিত নির্বাক নিঃস্তব্ধ পিতা মাতা। পিতাকে হারিয়ে দুই সন্তান আজ চরমভাবে হতবাক। তাদের বাবা আর কখনো ফিরে আসবেনা। অসহ্য কষ্ট ও যন্ত্রনাকে বুকে ধারন করে আইনের বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে তার পরিবার। হতাশা আর নিরাশায় সায়েমের পরিবারের প্রতিটা দিন কাটে। শোকে যেন পাথর পিতৃ হৃদয়। সায়েম চলে গেছে রয়ে গেছে তার স্মৃতি। জীবননগর উপজেলা সাংবাদিক সমিতির কারিগর। সাংবাদিকদের কল্যানে গড়ে ছিলেন সংগঠনটি। আজ রবিবার বিকাল তিনটার দিকে  শাইন ক্লাবে জীবননগর সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে প্রয়াত সাংবাদিক এস এম আবু সায়েম ও নিলুফার ইয়াসমিন রানীর স্মরনে সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরনসভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন জীবননগর সাংবা‌দিক স‌মি‌তির উপ‌দেষ্টা ও জীবননগর বার্তা প‌ত্রিকার সম্পাদক শামসুল আলম। বক্তব্য রাখেন জীবননগর সাংবাদিক সমিতির সভাপতি  আতিয়ার রহমান,সহ- সাধারন সম্পাদক মিঠুন মাহমুদ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মারুফ মালেক,দপ্তর সম্পাদক রবিন রাজ, প্রচার সম্পাদক চাষী রমজান আলী, বক্তব্যে তারা একটি বিষয় তুলে ধরেন সেটি হল সায়েম হত্যার বিচার চাই। অবিলম্বে
দোষীকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দিতে হবে। এভাবে যেন আর কোন সাংবাদিককে অকাতরে প্রান বিসর্জন দিতে না হয়। প্রভাবশালীদের কালো ছায়া আর আইনের ফাক ফোকড় দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে ঘাতক খুনী এখনও বিরদর্পে জীবননগর শহর ঘুরে বেড়াচ্ছে। যা জাতির জন্য খুবই লজ্জাকর। বক্তরা বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনি  আমাদের দেশ মাতা। আজ চার বছর হয়ে গেল দেশ মাতার একজন নির্ভিক সৈনিককে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করলো আজও তার বিচার জীবননগর উপজেলাবাসী পাইনি। দেশে যেমন একাত্তরের ঘাতক দালালের সঠিক ও সমুচিত বিচার করে আপনি যেমন জাতির  কলঙ্কের কালিমা মুছে  দিয়েছেন। আমরা জীবননগর সাংবাদিক সমাজ আশাবাদী আপনার বিচারশৈলী চিন্তার মাধ্যমে সায়েম হত্যার বিচারও দৃষ্টান্ত হয়ে রবে। চিরদিন কৃতজ্ঞ রবে জীবননগর বাসী। দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের কঠোর আইন তৈরী করে তার প্রয়োগ করতে হবে। সেই সাথে নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন রমজান আলী, ইন্তাজ আলী, রাসেল হোসেন মুন্না,রাজেদুল ইসলাম, বসির উদ্দীন,রিপন হোসেন, শান্ত আহমদ, মোসলেম উদ্দীন প্রমুখ। স্মরন সভায় কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন সাংবাদিক শেখ শহিদুল ইসলাম। এবং অনুষ্ঠানটি সার্বিক ভাবে উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ফয়সাল মাহাতাব মানিক।
Content TOP

Related posts

body banner camera