জাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন করায় হল থেকে বিতাড়িত শিক্ষার্থী “নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা”

জাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন করায় হল থেকে বিতাড়িত শিক্ষার্থী “নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা”
Content TOP

জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জিয়াউল নামক এক শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িত থাকায় তাকে মারধোর করে হল থেকে বের করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা।

এ সময় ওই ছাত্রের কাছে থাকা ব্যাক্তিগত মুঠোফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গতকাল রোববার (২৯ এপ্রিল) সকালে শহীদ রফিক-জব্বার হল থেকে ওই ছাত্রকে বের করে দেওয়া হয়।

হল থেকে বের করে দেওয়া ও মারধরে নেতৃত্ব দেওয়া ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম অভিষেক ম-ল। তিনি জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪১ তম ব্যাচের ছাত্র।

মারধরের স্বীকার জিয়াউল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের এবং শহীদ রফিক-জব্বার হলে আবাসিক ছাত্র।

ছাত্রলীগের কয়েকনজন নেতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সকালে শহীদ রফিক-জব্বার হলের দোকানে জিয়াউল হক খেতে গেলে অভিষেক ম-ল তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। পরে হল থেকে বের করে দিতে চাইলে জিয়াউল হক এর প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক তার অনুসারীদের নিয়ে জিয়াউলকে বেধড়ক মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

মারধরের শিকার জিয়াউল বলেন, ‘কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এবং ব্যাক্তিগত ভাবে আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল অভিষেক। বিভিন্ন সময় সে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল।
তিনি বলেন ‘মারধরের সময় জোবায়ের (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ) নামের ৪৫ তম ব্যাচের এক ছাত্রলীগ কর্মী আমার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়, যা এখনো ফিরিয়ে দেয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক ম-ল বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার সাথে জড়িত ছিল। তাই তাকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’ তবে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের ভারপ্র্প্তা প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক গোলাম মোস্তাফা বলেন, ‘এক ছাত্রকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অধিকার আরেক ছাত্রের নেই। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera