চুয়াডাঙ্গায় বিকালঙ্গ শিশুর জন্ম নিয়ে উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গায় বিকালঙ্গ শিশুর জন্ম নিয়ে উত্তেজনা
bodybanner 00

মামুন মোল্লা,চুয়াডাঙ্গাঃচুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী সেবার মান দিন দিন ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত ডাক্তার সংকটের কারনে রোগীরা চরম বিপাকের মধ্যে দিন পাড় করছে।

বিকল্প চিকিৎসা নিতে দারস্থ হচ্ছে নার্সিং হোম ও ক্লিনিকগুলোতে। রোগী ভোগান্তির যেন শেষ নেই। অধিকাংশ গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারি ও সিজার করানো হয় নার্সিং হোম ও ক্লিনিকগুলোতে।নোংরা পরিবেশে অধিকাংশ ক্লিনিকে রোগাীদের সেবা দেওয়া হয়। ফলে বাধ্য হয়েই রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিতে হয়।

জীবননগর উপজেলার পৌর শহরে অবস্থিত মনোয়ারা সনো সেন্টার এন্ড নার্সিং হোম। সুন্দর পরিপাটি পরিবেশের মধ্যদিয়ে
এখানে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন বয়সী রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মনোয়ারা সনো সেন্টারে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইসমত আরা বেগম পেটে যন্ত্রণা অনুভব করায় ডা.জুলিয়েট পারউইনের কাছে চেকআপ করাতে আসে।

এ সময় ৬ মাসের সন্তান সম্ভবা ইসমত আরা বেগম ডা. জুলিয়েট কে জানান সিজারিয়ানের মাধ্যমে এটা তার তৃতীয় সন্তান। তার পেটে আলট্রাসাউন্ড মেশিন দিয়ে কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখেন বাচ্চাটি কোন নড়াচড়া করছে না। বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় পেটের মধ্যে উল্টা হয়ে আছে।

এমতাবস্থায় তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা তোলার পরামর্শ দেয়। এ বিষয়ে ইসমত আরার স্বামী আব্দুর রহিমকে অবগত করা হলে তিনি অপারেশন করার জন্য ডাক্তারের দারস্থ হন। এ সময় মনোয়ারা সনো সেন্টার এন্ড নার্সিং হোমের মালিক সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. রফিকুল ইসলাম আব্দুর রহিমের অনুমতিক্রমে অপারেশন করেন। ইসমত আরা একটি অদ্ভুত আকৃতির বিকলাঙ্গ মৃত বাচ্চা প্রসব করেন।

এ খবর ক্লিনিকের সবাই জানতে পারলে সবাই একবারের জন্য হলেও অদ্ভুত বিকলাঙ্গ মৃত শিশু বাচ্চাটিকে দেখতে ভীড় জমায়। বাইরে কিছু মানুষ জীবিত বাচ্চা জন্ম হয়েছে বলে ছড়িয়ে বেড়ায়।

এ খবর পেয়ে সাংবাদিকরা খবরের সত্যতা যাচাই করতে গেলে এ বিষয়ে ডা. রফিকুল ইসলাম জানান বিষয়টিকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ সাংবাদিকদের মিথ্যা ও ভুল তথ্য প্রদান করেছে। যাতে তার ডাক্তারী পেশার সম্মান হানি হয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি আরো জানান বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় আমি সিজার করি। অপারেশনের পর দেখলাম অদ্ভুত আকৃতির বিকলাঙ্গ শিশু যা আগেই মারা গেছে।

ডাঃ জুলিয়েট পারউনের সাথে কথা বলে জানা গেছে গৃহবধূর গর্ভের সন্তানটি অন্য আট দশটি সন্তানের মতো স্বাভাবিক ছিলনা। বাচ্চাটি মায়ের গর্ভে উল্টোভাবে ছিলো এবং মাথার খুঁলি পরিপূর্ণ হইনি। বাচ্চাটি শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী ছিলো।

তবে বাচ্চার বাবা আব্দুর রহিমের দাবি তার সন্তান সুস্থ ছিলো। তিনি বলেন ভিকটিমের স্বামীর অভিযোগ সঠিক না। আমি গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে বলেছি গর্ভে বাচ্চা নড়াচড়া করছেনা বাচ্চাটি মারা গেছে। তাই আপারেশন করে বাচ্চা তুলে নেওয়া হয়। অপারেশন করে দেখা গেছে বাচ্চাটি মৃত ও বিকলাঙ্গ এ নিয়ে গুঞ্জন শুনেছি যে বাচ্চাটি নাকি সুস্থ-সবল ওজীবিত ছিলো। এ বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

মন্তব্য করুন

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00