ওমানে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফটিকছড়ির এক যুবক নিহত

ওমানে বিদ্যুতায়িত হয়ে ফটিকছড়ির এক যুবক নিহত
Content TOP

মোস্তাফা কামরুল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

প্রবাস থেকে দেশে গিয়ে ধুমধাম অায়োজনে বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন জাফর। ছুটির সময় শেষ হওয়ায় পূনরায় ফিরলেন প্রবাসের কর্মস্থলে। বিয়ের এক বছরের মাথায় স্ত্রীর কোলজোড়ে অাসে কন্যা সন্তান। যার নাম রেখেছিলেন নিপু। নিপু জন্ম হওয়ার পর থেকে দেশে অাসার জন্য বড্ড ব্যাকুল হয়ে থাকতেন জাফর। মেয়েকে একটি বার সরাসরি দেখে ছুঁয়ে দেওয়ার ব্যকুলতা কাজ করতো জাফরের মনে।
গেল রমজানে অনেকটা জোর করে বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্ততিও নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় তা অার যেতে পারলেন না। দু’বছর পূর্ণ হলে একেবারে যাবে এমন সিদ্ধান্ত ছিল। মেয়ে নিপুর বয়স এখন ছয়মাস। ভিডিও কলে দেখে দেখে বলতো ‘মা অামি অাসবো, তুমি অপেক্ষায় থাকো। তুমাকে ছুঁয়ে দেখতে যে মনটা বড্ড ব্যাকুল হয়ে অাছে। ‘ দোলনায় দুলতে থাকা নিষ্পাপ শিশুটি বাবার কথা হয়তো বুঝেনি সেদিন। কিন্তু একদিন বড় হয়ে ঠিকই খু্ঁজবে বাবাকে। তখন যে অার কোথাও পাবে না বাবা নামক বটবৃক্ষটাকে। কি করে পাবে, বাবা যে তাকে দোলনায় রেখে চলে গেছে পরপারে। বাবার ছোঁয়া যে তার গায়ে কখনোই স্পর্শ করবে না।
জাফর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের ওমানের অাল ওয়াগদা নামক স্থানে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং শ্বেতকুয়া গ্রামে। পরিবারের বড় ছেলে তিনি। ছোট ভাই জাবেদও থাকেন ওমানে। অাজ বুধবার জাফর ফিরেছে মাতৃভূমিতে। কফিনবন্দি হয়ে। মেয়ের কাছে অাজ অাসবে ঠিকই, কিন্তু ছুঁয়ে দেওয়ার ক্ষমতা যে তার অার নেই।

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera