ব্রেকিং নিউজঃ

ইউরিক অ্যাসিড, শরীরকে অকেজো করে দিতে পারে!

ইউরিক অ্যাসিড, শরীরকে অকেজো করে দিতে পারে!
Content TOP

আজকাল আমরা অনেকেই শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে পরিচিত। কারণ, শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রার উপস্থিতির ফলে গেঁটে বাত বা গিঁটে গিঁটে ব্যথার মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে মূত্রের মাধ্যমে যে পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায়, যখন আমাদের যকৃত তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে, তখনই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকে। এছাড়াও স্বাভাবিক অবস্থায় খাবার থেকে উৎপন্ন ইউরিক অ্যাসিড রক্তে মিশে গিয়ে তা কিডনিতে পৌঁছায় এবং কিডনি এই টক্সিক উপাদানকে ছেঁকে শরীর থেকে বের করে দেয়।

ইদানীং আমরা আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার চাপে এমন অনেক খাবার প্রায়ই খাই যা রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে কিডনি সেই অতিরিক্ত অ্যাসিড শরীর থেকে বের করতে পারে না। ফলে ক্রমশ শরীরের বাড়তে থাকে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসহ বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে থাকে এবং তাতে অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং ব্যথা হতে থাকে।

উচ্চ মাত্রায় চিনি খাওয়াও হতে পারে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির একটা বড় কারণ। দেহে উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির কারণে হতে পারে গেঁটে বাত, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যাসহ নানা রকমের অসুখ।

 

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যা করবেন:

স্বাভাবিকভাবে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের নির্দিষ্ট মাত্রা হল,

পুরুষের ক্ষেত্রে: ৩.৪–৭.0 mg/dL এবং

নারীর ক্ষেত্রে: ২.৪–৬.0 mg/dL।

এর চেয়ে বেশি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আর শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুবই কার্যকর একটি উপাদান হল অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার। এর দামও খুব বেশি নয়।

এবার জেনে নিন কীভাবে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করবেন।

১ চা চামচ ভিনেগার নিন, এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করে ফেলুন। দিনে অন্তত ২-৩ বার এই মিশ্রণ পান করুন নিয়মিত।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার শরীর থেকে যেকোনো দূষিত পদার্থ বের করে দিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বিশুদ্ধ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে থাকে ম্যালিক অ্যাসিড, যা ইউরিক অ্যাসিডের ক্রিস্টালগুলোকে ভেঙে দেয় এবং তাদের শরীরে গাঁটগুলোতে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। তাছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার পানি খেতে পারলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে পারে না।

আসলে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় খাবার-দাবারে তেমন একটা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই। উচ্চ প্রটিন যুক্ত খাবার, যেমন মাছ-মাংস, মুসুড়ির ডাল, রাজমা, কিছু সবুজ সবজি (পালং শাক) এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত পিউরিনযুক্ত খাবার, যেমন লাল মাংস (রেড মিট), লাল মদ বা সামুদ্রিক মাছ কম খান। মনে রাখবেন, শরীরে উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির ফলে হতে পারে গেঁটে বাত, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যাসহ নানান জটিল অসুখ।

সূত্র: জিএন

Content TOP

Related posts

Leave a Reply

body banner camera