সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক রাতের আধারে মুল্যবান গাছ কেটে আত্মসাৎ করার অভিযোগ

সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক রাতের আধারে মুল্যবান গাছ কেটে আত্মসাৎ করার অভিযোগ
bodybanner 00
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,মামুন মোল্লা (০৬/০৯/১৮)
চুয়াডাঙ্গার  জীবননগর পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ড  সুবলপুর গ্রাম।  আর এ গ্রামের অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরা গ্রামের শেষ প্রান্তে অবস্থিত সুবলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।
বিদ্যালয়টি অনেক দিনের পুরানো  বিধায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে  মুল্যবান কিছু গাছ বিদ্যমান রয়েছে। যার ছায়াতলে শিক্ষার্থীরা গ্রীষ্মের  দিনে খেলাধুলা  করে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেয়।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাচঁটি মুল্যবান মোটা মেহগনি গাছ কেটে আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মতেহার বিশ্বাস ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইলার উদ্দীন বিরুদ্ধে।
এঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও ইউ এন ও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এবং এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও আজ অবধি তদন্তের ফলাফল জানতে পারিনি বিক্ষুব্ধ অভিভাবক মহল।
 সচেতন মহলের মধ্যে আরো বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, জীবননগর পৌর এলাকার সুবলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচটি বড় সাইজের মেহগুনি গাছ স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মতেহার বিশ্বাস ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক ইলারউদ্দিন পরস্পর যোগসাজশে রাতের আধারে  কেটে লোক চক্ষুর আড়ালে তাহা অন্যত্র সরিয়ে ফেলে।
 এক পর্যায়ে বিষয়টি এলাকাবাসীসহ অভিভাবক মহলের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
 বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মতেহার বিশ্বাস ও সহকারী শিক্ষক ইলার উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি গণপিটিশন দাখিল করেন।
 এবং  লিখত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রাথমিক অফিস কর্তৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা তদন্তকালীন সময়ে অভিযুক্ত সভাপতির বাড়িতে নাস্তা করেছে মর্মে এলাকায় গুঞ্জন উঠলেও সে ব্যাপারে জোরালো কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়,গত ১৯আগষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ওই তদন্ত কমিটির তদন্তের ফলাফল এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির ফলাফল বিলম্বের কারণ হিসাবে বিভিন্ন সরকারী কাজের ব্যস্ততাকেই দায়ী করা হয়েছে। এদিকে এখনো পর্যন্ত ঘটনার তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না করায়  সচেতন অভিভাবক মহল ও এলাকার শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এক নেতা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,ঘটনার বিষয়ে আমরা গ্রামবাসী ইউএনও স্যার বরাবর একজন লিখিত অভিযোগ দিয়ে ছিলাম তা এখনো পর্যন্ত তদন্তের ফলাফল জানতে পারিনি।
এ ব্যাপারে এলাকার একাধিক অভিভাবকদের দাবি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক পরস্পর যোগসাজশে চুরি করে গাছ কেটে আত্মসাৎ করলেও এর দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষক কোনো ভাবেই এড়াতে পারেননা । অন্যদিকে ঘটনার পরে প্রধান শিক্ষক ও অভিযুক্তরা দাবি করেন স্কুলের গাছ বিনা টেন্ডারে কাটা হলেও তা দিয়ে স্কুলের আসবাবপত্র তৈরি করা হবে। তাদের এধরনের বক্তব্যও হাস্যকর। যদি স্কুলে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় তা ব্যবস্থা করবেন সরকার ও সংশ্লিষ্ট অফিস।
এব্যাপারে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আপিল মাহমুদ বলেন,ঘটনার ব্যাপারে এলাকায় গুঞ্জন আছে। তবে কে কবে কিভাবে গাছ কেটেছে তা আমার জানা নেই। ঘটনার ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে তাও শুনেছি।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন,ঘটনার ব্যাপারে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ ও নুরুল হকের সমন্বয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তারা ইতিমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শেষ করলেও সরকারী জরুরী কাজে ব্যস্ত থাকায় এখনো পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তবে তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধে সভাপতির বাড়িতে যোগাযোগের বিষয়টি সঠিক নয়।
এব্যাপারে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজা বলেন,তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00