প্রায়ই বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে উবার ব্যবহারকারীদের

প্রায়ই বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে উবার ব্যবহারকারীদের
bodybanner 00

বৃষ্টি পড়লেই ভাড়া বাড়ছে। ভাড়া বাড়ছে গ্রাহকভেদে। অফিস ছুটির সময় কিংবা যানবাহন সংকট হলেও বাড়ছে ভাড়া। অন্যদিকে উবার এবং পাঠাওয়ের মোটরসাইকেলে অধিকাংশ সময়ই গ্রাহকদের হেলমেট দেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে দুর্ঘটনায় রাজধানীতে এক পাঠাও আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে অ্যাপভিত্তিক যানবাহন-সংক্রান্ত নীতিমালাও চূড়ান্ত হয়নি গত এক বছরে। এ ব্যাপারে সমকালের প্রশ্নের জবাবে ই-মেইল বার্তায় উবারের একজন মুখপাত্র জানান, উবার বিশ্বজুড়েই ‘ডায়নামিক’ বা গতিশীল ভাড়ার নীতি অনুসরণ করে। এ জন্য ভাড়ায় তারতম্য দেখা যায়। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে উবার ব্যবহারকারী এবং উবারের চালক উভয়েই বীমার আওতায় এসেছেন। উবার ব্যবহারের সময় পর্যন্ত তারা বীমার আওতায় থাকবেন। ভাড়া বিভ্রান্তি : মহাখালী থেকে উত্তরা যেতে কামরুল ইসলাম প্রায়ই উবারের প্রাইভেটকার ব্যবহার করেন। যার ভাড়া ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু একদিন টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে উবার অ্যাপে কল দিতেই দেখলেন ভাড়া দেখাচ্ছে ৫৫০ টাকা। তিনি তখন প্রথমবারের প্রক্রিয়া বাতিল করে আবারও কল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন। তখন ভাড়া আসে ৫৮২ টাকা। এবার তিনি খেয়াল করেন, মনিটরের ওপরের দিকে ছোট হরফে লেখা রয়েছে ‘ফেয়ার স্লাইটলি হায়ার ডিউ টু ইনক্রিজিং ডিমান্ড’। কামরুলের মন্তব্য, ‘বৃষ্টি দেখলে সিএনজিচালিত অটোরিকশাওয়ালারাও বেশি ভাড়া দাবি করেন। উবারও দাবি করছে। তাহলে পার্থক্য কোথায়?’ প্রায় এক বছর ধরে উবার ব্যবহারকারী রাশেদ আহমেদ রাজধানীর তেজগাঁও থেকে উবারে কল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে দেখেন, ভাড়া ৪০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা দেখানো হচ্ছে। বৃষ্টি নেই, যানজটও নেই, অথচ ভাড়া বেশি দেখানোর কারণে তিনি এ প্রক্রিয়া বাতিল করেন। এর পর চার মাস ধরে উবার ব্যবহারকারী তার স্ত্রী উবার কল প্রক্রিয়া চালিয়ে দেখেন, তার মোবাইলে ৩৭৫ টাকা ভাড়া দেখানো হচ্ছে। যদিও তার মোবাইলে কোনো প্রোমো কোডও সক্রিয় নেই। রাশেদের প্রশ্ন, দু’জনের কাছে একই স্থান থেকে একই দূরত্বে ভাড়ার এই তারতম্য কেন? অবশ্য উবারের অ্যাপেই এসব নিয়ে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই তা সঠিকভাবে জানেন না। তা ছাড়া উবার অ্যাপে শুধু চালকের আচরণ সম্পর্কেই অভিযোগ জানানো যায়। ঢাকায় উবারের কোনো গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র বা কল সেন্টারও নেই। একটি মাত্র বেসরকারি গণযোগাযোগ সংস্থা কেবল গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে থাকে। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর কোনো স্থান নেই। মোটরসাইকেলে হেলমেট নেই :অ্যাপ সেবা ‘পাঠাও’ ডাকার পর আনোয়ারুল ইসলাম দেখেন, সেটিতে আরোহীর জন্য কোনো হেলমেট নেই। তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করে উবার মোটো ডেকে দেখেন, সেটিতেও আরোহীর জন্য হেলমেট নেই। অথচ উবারের নিজস্ব নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হচ্ছে, চালক ও আরোহীকে অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করতে হবে আর আরোহীকে হেলমেট সরবরাহ করবে চালক। ৪ জুলাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এডিএনের কর্মকর্তা নাজমুল হাসান পাঠাওয়ের মোটরসাইকেলে অফিসে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর গোল চত্বর এলাকায় একটি বিআরটিসির দোতলা বাস ওই মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। নাজমুল হাসান সেখানেই নিহত হন। পাঠাও চালক গুরুতর আহত হন। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পাঠাও চালকের হেলমেট থাকলেও আরোহীর জন্য হেলমেট ছিল না। অথচ পাঠাওয়ের নীতিমালায় চালক এবং আরোহী উভয়ের জন্য হেলমেট বাধ্যতামূলক। ১০ জন পাঠাও এবং উবার মোটো ব্যবহারকারীর মধ্যে পাঠাও ব্যবহারকারীদের সবাই কখনোই হেলমেট না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মাত্র দু’জন উবার ব্যবহারকারী হেলমেট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। উবারের বক্তব্য : উবারের একজন মুখমাত্র ই-মেইল বার্তায় সমকালকে জানান, উবার ভাড়ার ক্ষেত্রে ‘ডায়নামিক’ বা গতিশীল ভাড়ার নীতি অনুসরণ করে। যার অর্থ পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাড়ার হার পরিবর্তিত হতে পারে। গ্রাহকের গাড়ি প্রাপ্তির সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতেই এমন করা হয়। এ প্রসঙ্গে উবারের আরেকজন মুখপাত্র জানান, হেলমেট না দিলে আরোহী অ্যাপের মাধ্যমে বা উবার কর্তৃপক্ষকে সরাসরি অভিযোগ জানালে অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে জানার জন্য পাঠাও কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00