ধামরাইয়ে ধৃত মাদক বিক্রেতা জামিনে বের হয়ে বহাল তবিয়তে!

ধামরাইয়ে ধৃত মাদক বিক্রেতা জামিনে বের হয়ে বহাল তবিয়তে!
bodybanner 00

 

মোঃ আল মামুন খান, ধামরাইঃ   ঢাকার ধামরাই উপজেলায় এক মাদক বিক্রেতা পুলিশের হাতে ধৃতহবার পরে আদালতে চালান করলেও একইদিনে জামনে বের হওয়ায় এলাকায় বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের মামলার অপেক্ষাকৃত দূর্বল ধারায় চালান করাতেই এমন হাস্যকর ব্যাপারটি ঘটেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ধৃত ঐ মাদক ব্যবসায়ীর নাম মোজাম্মেল শিকদার (৩০)। সে উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের কুয়েত প্রবাসী গাজীউর রহমান ওরফে গাজী সিকদারের ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ে ২ জুন (শনিবার) রাতে রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল শিকদার কে বাড়ী থেকে আটক করে ধামরাই থানা পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে মোজাম্মেলকে বাড়ী থেকে নয় পৌরসভার ভিতরে হৈ হল্লোড় করার অপরাধে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরন করে ৩ জুন (রবিবার)।

 

কিন্তু একই দিনে ৩ জুন (রবিবার) ই তাকে রোয়াইল বাজারে দুপুরের দিকে স্থানীয় মেম্বারের সাথে বসে থাকতে দেখে এলাকায় ক্ষোভ এবং বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে সারা দেশে চলমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিতর দিয়ে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কিভাবে ছাড়া পেয়ে এলাকায় বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে এ নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, মোজাম্মেল শিকদারকে রাত ১০টার দিকে নিজ গ্রাম থেকে মাদকসহ আটক করে ধামরাই থানার এ এস আই দীনেশ ঘোষসহ সঙ্গীয় ফোর্স। তবে কীভাবে একজন মাদক বিক্রেতা মাদকসহ ধৃত হবার পরে আদালতে চালান করার পরেও একইদিনে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ এস আই দীনেশ ঘোষ বলেন, আমরা নিয়মানুযায়ী আদালতে তাকে চালান করেছি। এখন আদালত যদি তাকে জামিনে ছেড়ে দেয় তবে সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি বলেন?

 

তবে দীনেশ ঘোষের কাছে মাদকের মামলায় আসামীকে কেনো ৩৪ ধারায় চালান করা হলো এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মোজাম্মেলকে পৌরসভার ভিতর থেকে আটক করা হয়েছে। তাই ৩৪ ধারায় চালান করার নিয়ম বিধায় ওভাবেই চালান করা হয়েছে।

 

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজাউল হক দিপুর নিকট আটকের স্থান (স্পট) নিয়ে কেনো এই লুকোচুরির ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোজাম্মেলকে চরসুঙ্গর থেকে আটক করা হয়েছে ঠিকই তবে পৌরসভার ভিতর থেকে আটক না দেখালে ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরন করা যায়না। তাই বিশেষ ব্যক্তির রিকোয়েষ্টে তাকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে কে এই বিশেষ ব্যক্তি জানতে চাইলে তিনি এর কোনো কোনো উত্তর দেন নাই।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার গর্জন মিয়া জানান, আগেও ডিবির কাছে আটক হয়েছিল মোজাম্মেল শিকদার। মোজাম্মেল ইয়াবা বিক্রয় করে বলে এলাকায় প্রচার আছে। তার চলাফেরাও মাদক সেবীদের সাথেই।
এপ্রসঙ্গে ৩ জুন দুপুরে রোয়াইল বাজারে তবে এই মাদক ব্যবসায়ী তাঁর সাথে প্রকাশ্যে বসে কি করছিলেন জানতে চাইলে এই জনপ্রতিনিধি এর কোনো উত্তর দেন নাই।

 

অভিযোগের ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল কালাম সামসুদ্দিন বলেন, শুনেছি মোজাম্মেলকে বাড়ী থেকে আটক করেছে এবং সে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। কিন্তু পুলিশের দূর্বলতার কারণেই সে ছাড়া পেয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, মোজাম্মেল ও কালাম এলাকায় মাদকের ডিলার। এর আগে তারা ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন হাজতবাস করেছে। এলাকার যুবকদের নেশায় আসক্ত করেছে এই মোজাম্মেল। দেশে মাদক নির্মূলে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয় হলেও মাদক বিক্রেতা মোজাম্মেলকে ৩৪ ধারায় চালান দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

 

এদিকে মোজাম্মেলের চাচা আক্কাস আলী তার ভাতিজা নির্দোষ বলে দাবী করলেও ডিবি পুলিশের কাছে আটকের কথা শিকার বলেন,‘মোজাম্মেল মাদক বযবসার সাথে কেন জড়িত হবে বলেন?তার তো কোনো অভাব নেই। ওর বাবা কুয়েতে প্রায় এক লাখ টাকা বেতন পায়’।

 

মাদক ব্যবসায়ী মোজাম্মেল শিকদারের মুঠোফোনে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলে, আমাকে কোর্টে চালান করা হয়েছিলো ঠিকই, কিন্তু আমি জামিনে বের হয়ে এসেছি। তবে সে নিজে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলে, আমি একটু মাদক সেবন করি কিন্তু ব্যবসা করি না। মাদক সেবনের সময়েই পুলিশ আমাকে ধরে।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00