বাঁশের সাঁকোই ৪০টি গ্রামের ভরসা

বাঁশের সাঁকোই ৪০টি গ্রামের ভরসা
bodybanner 00

মোঃ সুমন আলী খাঁন, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে ॥ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ
উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার
খলিলপুর ইউনিয়ন। দুই জেলার সীমান্তজুড়ে বরাক নদী। বরাক নদীর একপাড়ে হবিগঞ্জ
জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মিনাজপুর, আউশকান্দ,ও মিঠাপুর গ্রাম। আরেক পাড়ে
রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলা কেশবচর গ্রাম। কিন্তু শাখা বরাক নদীর ওপর
একটি সেতুর অভাবে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নেই
কোন ব্রিজ। প্রায় ৪০টি গ্রামের কয়েক হাজার লোকজনের ভরসা বাঁশের
সাঁকোই। যে কারণে তাদের যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে
এলাকার লোকজন চিকিৎসা, শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা
থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ৩/৪ শত হাত বাঁশের সাঁকোই এলাকার মানুষের
চলাচলের মাধ্যম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে
প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ। এ সাঁকো পাড় হতে
গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের।
প্রতিবছর বরাক নদীর উপর লম্বা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করতে খরচ হয় লক্ষাধিক
টাকা। এলাকাবাসী চাঁদা তুলে সাঁকো নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করেন।
স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও
সেতুটি পায়নি নদী-তীরবর্তী মৌলভীবাজার অংশের কেশবচর, সাঠিয়া,
দেওয়াননগর, হলিমপুর, ঘোড়ারাই, কাটারাই, কাঞ্চনপুর, চাঁনপুর, নামুয়া, খলিলপুর ও
সাদুহাটি এবং হবিগঞ্জ অংশের ফরিদপুর, নোয়াহাটি, সিটফরিদপুর, ধর্মনগর,
আলমপুর, নাজিমপুর, ফরাসতপুর, বখশিপুর, মুকিমপুর, মিছকিনপুরসহ উভয় জেলার
প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ।এ কারণে অর্থনৈতিক, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও
যোগাযোগের দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে ওই গ্রামগুলোর লোকজন। সুত্রে জানায়
গত বছরের ১৫ আগস্ট মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা
মহসিন ও হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবুকে
অতিথি করে উভয় জেলার বাসিন্দাদের উদ্যোগে বৈঠক হয়েছিল। তারা উভয়েই
সেতুটি নির্মাণ করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলন। নবীগঞ্জ উপজেলার
আউশকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমাসহ
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বরাক নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে। খলিলপুর ইউনিয়ন
মৌলভীবাজার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে থাকায় নবীগঞ্জ অংশের ওইসব
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বল্পসময়ে যোগাযোগ সুবিধাজনক। তবে নদীটির উপর সেতু
না থাকায় মুমূর্ষু রোগী ও অন্তঃসত্বা নারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নদীর
ওপারের নবীগঞ্জ অংশের হাসপাতালগুলোতে যেতে চাইলেও পারেন না তারা। এ কারণে
বাধ্য হয়ে রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রায় ২৫/৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত
মৌলভীবাজার শহরে অথবা ১৫ কিলোমিটার দূরের সরকার বাজার হয়ে শেরপুরে যেতে
হয়। অনেক সময় রোগী চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌছার আগে রাস্তায় মারা যায়। অথচ
এই সেতু হলে হাসপাতাল যেতে এলাকাবাসীর সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট।
হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, তিনি

একাধিক ডিও লেটারসহ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। আশা
করছেন, বর্তমান সরকারের আমলেই সেতুটি নির্মাণ হবে।
প্রেরক
মোঃ সুমন আলী খাঁন
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00