ব্রেকিং নিউজঃ

হোমনা, মেঘনা ও তিতাস শতভাগ বিদ্যুতের আওতায়

হোমনা, মেঘনা ও তিতাস শতভাগ বিদ্যুতের আওতায়
bodybanner 00

কুমিল্লা প্রতিনিধি:-
কুমিল্লা-৩ পল্লী বিদ্যুতায়ন সমিতি কুমিল্লার হোমনা, মেঘনা, তিতাস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শতভাগ এলাকায় বিদ্যুতায়ন করেছে। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই চার উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লা অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা, মেঘনা, তিতাস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে ৪৫০ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। চার উপজেলায় প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়।

এসব উপজেলায় তিনটি সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে চার উপজেলায় গ্রাহক সংখ্যা এক লাখ ৮৮ হাজার ৪০৬ জন। ১৫৫ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণের মাধ্যমে বাঞ্ছারামপুরে ২০ হাজার নতুন গ্রাহকসহ ৬২ হাজার, হোমনায় ৪৮ হাজার, মেঘনায় ২৮ হাজার এবং তিতাসে ৫০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি সাবস্টেশন বাঞ্ছারামপুর- হোমনা ও মেঘনা উপজেলায় নির্মাণের কাজ চলছে।

বাঞ্ছারামপুর সদরের ১৫ এমবিএ সাবস্টেশনকে ২৫ এমবিএতে উন্নীত করা হয়েছে। বাঞ্ছারামপুরের সঙ্গে কুমিল্লার দেবপুরের ৫০ কিলোমিটার ৩৩ হাজার কেভির লাইন সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এই লাইন নির্মাণ হলে বাঞ্ছারামপুরে বর্তমানে গৌরীপুরসহ দু’দিক থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাবে বাঞ্ছারামপুরে। গৌরীপুর কিংডোর সাবস্টেশনের ৩৩ কেভি লাইনে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সুইচরুম নির্মাণ করা হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের কৃষক আবু তাহের জানান, ‘টাকার কারণে চকের মধ্যে আইসা বাড়ি করছি। এই জায়গায় কারেন্ট পামু কখনও ভাবি নাই। সরকার আমাগো বিদ্যুৎ দিছে বিনা পয়সায়। আমরা গরিব, তারপরও সরকার আমাগো কথা মনে করছে।’

হোমনা উপজেলার বাগশিতারামপুরের মাওলানা মফিজুল ইসলাম জানান, ‘নতুন বাড়ি নির্মাণ করছি, খুঁটির কারণে বিদ্যুৎ পাইতেছিলাম না অনেক দিন যাবৎ। বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন নিজেরা আইসা আমার বাড়িতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা কইরা দিছে বিনা পয়সায়।’

বাঞ্ছারামপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবু মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখন্দ বলেন, বাঞ্ছারামপুরে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে গত জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫৫ কিলোমিটার নতুুন লাইন নির্মাণ করে ২০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া ও জেনারেল ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলামের আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ লাইনগুলো নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।

কুমিল্লা-৩ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের সমিতির ৪ উপজেলায় সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ করে প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে নতুনভাবে।

কুমিল্লা অঞ্চলের বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম মিয়া জানান, বাপবি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন (অব.), সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মোস্তফা কামালসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাঞ্ছারামপুর- হোমনা-মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে ৪০০ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩টি উপজেলায় নতুন ৩টি ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ইনডোর সাবস্টেশনের নির্মাণ কাজ চলছে।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00