ব্রেকিং নিউজঃ

হাসপাতালের ফ্রিজে চার বছর: মুসলিম রীতিতে দাফনের নির্দেশ

হাসপাতালের ফ্রিজে চার বছর: মুসলিম রীতিতে দাফনের নির্দেশ
bodybanner 00

হাসপাতালের ফ্রিজে চার বছর থাকার পর নীলফামারীর হোসনে আরা ইসলাম লাইজুকে (লিপা রাণী) মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রায়ের কপি পাওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে মরদেহ দাফন করতে বলেছে আদালত। নীলফামারীর জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দাফন কাজ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া দাফনের আগে হোসনে আরা (লিপা রাণীর) লাশ তার বাবার পরিবারকে দেখার সুযোগ দিতেও বলেছে আদালত।

আদালতে মেয়ের বাবার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সমীর মজুমদার। শ্বশুরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম বদরুদ্দোজা।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার অক্ষয় কুমার রায় মাস্টারের মেয়ে লিপা রাণীর সঙ্গে একই উপজেলার জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ন ফরিদ লাইজু সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর দুজনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ফরিদকে বিয়ে করে লিপা। ইসলাম গ্রহণের পর লিপা রাণী তার নাম রাখেন মোছা. হোসনে আরা ইসলাম লাইজু।

মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর লিপার বাবা বাদী হয়ে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি অপহরণ মামলা করেন। কিন্তু মেয়ে ও ছেলে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ের সকল কাগজপত্রসহ আদালতে হাজির করে জবানবন্দি দিলে আদালত অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও মস্তিষ্ক বিকৃত দাবি করে মামলার খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। পরবর্তীতে আদালত এই আবেদন আমলে নিয়ে মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী সেফ হোমে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মেয়েটির সেফ হোমে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি স্বামী হুমায়ূন ফরিদ বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করে বাবা তার মেয়েকে নিজ জিম্মায় নিতে আদালতে আবেদন করার পর আদালত তা মঞ্জুর করেন।

২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে বাবা তার বাড়িতে রাখেন। সেখানে ২০১৪ সালের ১০ মার্চ কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে হোসনে আরা।

২০১৪ সালের ১১ মার্চ নীলফামারী জেলার মর্গে মেয়েটির মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর পুত্রবধূ দাবি করে মেয়েটির শ্বশুর জহুরুল ইসলাম- ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক দাফনের জন্য আদালতে আবেদন করেন। তবে মেয়ের বাবা অক্ষয় কুমার হিন্দু শাস্ত্র মতে সৎকারের জন্য আদালতে আবেদন করেন। এরপর উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডোমার থানা পুলিশকে একটি প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। কিন্তু উভয়পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ডোমার থানা পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত মেয়েটির মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংরক্ষণের আদেশ দেন। এরপর মেয়েটির মরদেহ সেখানে রাখা হয়। পরবর্তীতে মেয়েটির মরদেহ দাবির মামলা মেয়েটির শ্বশুরের পক্ষে গেলে মেয়ের বাবা সাব-জজ আদালতে আপিল করেন। তবে আপিলে মেয়ের বাবার পক্ষে রায় আসে।

এরপরই মেয়েটির শ্বশুর জহুরুল ইসলাম রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। সে আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ এই আদেশ দেয়।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00