স্তন ক্যানসার নিয়ে আপনার ভাবনা কতটা সত্য?

স্তন ক্যানসার নিয়ে আপনার ভাবনা কতটা সত্য?
bodybanner 00


স্তনে ব্যথা?

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সাধারণত স্তনে ব্যথার উপসর্গ থাকে না। শুরুতে মাত্র ১.২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ব্যথার উপসর্গ থাকে। শারীরিক পরীক্ষায় যদি স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকে এবং বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা, যেমন ম্যামোগ্রাফি, আলট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট যদি স্বাভাবিক থাকে, তাহলে শুধু স্তনে ব্যথা নিয়ে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার ঘটনা বিরল।


স্তনে সব চাকাই ক্যানসার?

স্তনে চাকা অনুভব হলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু মনে রাখবেন, স্তনের চাকার শতকরা ৮০ ভাগেরই বেশি ক্যানসার নয়। স্তনে বিভিন্ন কারণে চাকা হয়। যেমন ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা, ফাইব্রোসিস্টিক চাকা, ইন্ট্রাডাক্টাল পেপিলোমা, চর্বি জমে যাওয়া, ফোড়া ও ক্যানসার। কিন্তু স্তনে চাকা হলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আবার স্তনের চাকায় সুই ফুটিয়ে পরীক্ষা (এফএনএসি) করলে ক্যানসার সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ার ধারণারও সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং এটি স্তন ক্যানসার নির্ণয়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।


শিশুকে স্তন্যপান না করালে ঝুঁকি বাড়ে

এটা গবেষণায় সত্য প্রমাণিত হয়েছে। ব্রেস্ট ফিডিং করালে পরবর্তী জীবনে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে।


আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করলে স্তন ক্যানসার হয়

অনেকে বলেন, আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার করলে স্তনের লিম্ফপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান জমে স্তন ক্যানসার হয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।


অল্প বয়সে স্তন ক্যানসার হয় না

যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। ২০ বছরের নিচে কোনো ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। আমাদের দেশে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, পশ্চিমে ৫০ বছরের ওপর।


পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি

প্রায় ৭০ শতাংশ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর ঝুঁকি শনাক্ত করা যায় না। তবে পারিবারিক ইতিহাস স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ৭ শতাংশ পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকে।


জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িতে স্তন ক্যানসার?

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মাত্রার ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে ঝুঁকি বাড়ে বৈকি। তা ছাড়া মেনোপজের পর হট ফ্ল্যাশ কমাতে যে হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়, তাতেও ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ ধরনের ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00