সুন্দরী প্রতারকচক্রের সন্ধানে গোয়েন্দারা

সুন্দরী প্রতারকচক্রের সন্ধানে গোয়েন্দারা
bodybanner 00

রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ সুন্দরী নারী অপরাধীচক্র সক্রিয়। এসব সুন্দরী নারীরা দামি স্বর্ণালংকার পরে দামি গাড়ি হাঁকিয়ে টার্গেটকৃত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে ঢুকে কৌশলে স্বর্ণালংকার, দামি জামা কাপড়, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে নেমেছে।জানা গেছে, অভিনব প্রতারণা অহরহ ঘটছে। আবার ব্যাংকের এমডি-ডিএমডিসহ বিভিন্ন বড় বড় সরকারি ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের নামে ভুয়া কাবিননামায় স্বামী বানিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছে বলেও চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৩ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ৩৬ নম্বর বাসার নীচ তলায়, স্টাইল এভিনিউ বিডি ফ্যাশন হাউজের ম্যানেজার প্রতিদিনের ন্যায় গত ৩০ মার্চ সকালে দোকান খোলেন। এরপর তার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অনুমানিক বেলা দেড়টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে দুপুর ২টা ১০ মিনিটের সময় ঘুম থেকে উঠে দেখেন ডিসপ্লেতে রাখা কাপড় ও কসমেটিক্স এলোমেলো এবং বেশকিছু জিনিস খোয়া গেছে। এরপর তিনি দোকানের সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে দেখতে পান, দুপুর অনুমান ১টা ৪০ মিনিটের সময় ৩০-৩৫ বছরের দুই মহিলা ও ১০-১২ বছরের একটি মেয়েসহ উক্ত দোকানে প্রবেশ করেন। এরপর তারা বের হওয়ার সময় তাদের সাথে থাকা হ্যান্ড ব্যাগ, শপিং ব্যাগসহ মোট পাঁচটি ব্যাগ নিয়ে ১টা ৫৪ মিনিটে উক্ত দোকান থেকে বের হয়ে যায়। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় ৫৭(০৩)১৮ নম্বরের একটি মামলা করা হয়েছে। উক্ত মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবির ভিত্তিতে মহিলাদের সন্ধান করছে পুলিশ। আর ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে উক্ত মহিলাদের সন্ধান জানানোর জন্য নগরবাসীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।আর এধরনের অভিনব প্রতারণার ঘটনা অহরহ ঘটছে। সম্প্রতি পুলিশ অভিনব প্রতারণার অভিযোগে এক সুন্দরী মহিলা প্রতারককে গ্রেপ্তার করে। তিনি অপর এক মহিলাকে মা পরিচয় দিতেন। নিজের মুখে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। বগুড়ার শাহজাহানপুরে তাদের গ্রামের বাড়ি বলে জানা গেছে। রাজধানীর মাহাম্মদপুরস্থ লালমাটিয়া এলাকায় তারা থাকতেন। প্রতারণার অংশ হিসেবে তারা নিজের কাপড় নিজে খুলে চিৎকার করে অপমান অপদস্ত করে হেনস্তা করতেন। একজন সরকারি উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তাকে হেনস্তা করার প্রয়াসে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন এবং নিজেকে উক্ত কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। সূত্র জানায়, এসব মহিলা প্রতারকের সঙ্গে আছেন একশ্রেণির আইনজীবী, পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী প্রতারকচক্র জড়িত। রাজধানীর মগবাজারের কাজী আলহাজ্ব মাওলানা কাজী মোহাম্মদ সেলিম রেজা বাদি হয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর রমনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া, রাজধানীর হাজারিবাগ এলাকার তানজিনা আক্তার নামের এক গৃহিণী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ওই ভুক্তভোগী হাজারীবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ভুক্তভোগীদের এক আত্মীয় জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে এক মহিলা বাড়ির গেটে আসে। তার সারা গায়ে দামি স্বর্ণালংকার। দেখতে লম্বা ও খুবই সুন্দরী। বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে দারোয়ান বাঁধা দেন। ওই গৃহিণীর আমেরিকা প্রবাসী ননদের বান্ধবী বলে পরিচয় দেয় ওই মহিলা। বাড়ির দারোয়ান ওই গৃহিণীকে জানান। একপর্যায়ে ওই মহিলা গৃহিণীর ফ্ল্যাটে গিয়ে হাজির হয়ে তাকে রেডিসন হোটেলে তার ভাইয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিতে এসেছেন বলে জানায়। আলাপ-আলোচনায় ওই মহিলা গৃহিণীর পরিবারের অন্যান্য সদস্য সম্পর্কেও নানা কিছু বলেন। এতে করে গৃহিণীর মনে বিশ্বাস হয়। পরে তাকে ড্রইং রুমে বসতে দেন। এরপর তাদের নতুন অতিথি আসবে বলে জানান এবং তাকে সাজার জন্য জোর করতে থাকেন। একপর্যায়ে গৃহিণী স্বর্ণালংকারের বাক্স বের করে সাজগোজ করতে থাকেন। ইতোমধ্যেই ভাব জমিয়ে ওই মহিলা ফ্ল্যাটের প্রতিটি রুমই দেখে নেয়। বাক্সে থাকা অনেক গহনার মধ্যে কিছু নিয়ে সাজগোজ করেন। বাকিগুলো বাক্সেই রাখেন। এরপর কৌশলে প্রায় ২০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এরা সংঘবদ্ধ অপরাধী। তারা নানা কৌশলে বাসায় প্রবেশ করে এ ধরনের অপরাধ করে আসছে। লোক-লজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী কেউই মুখ খুলতে চান না। গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ‘স্যাটকম আই সেন্টার’-এর ম্যানেজার রানাকে কাস্টমস অফিসার পরিচয়ে ফোন করে প্রতারক আকাশ। তিনি প্রথমে ফোন করে বলে- হ্যালো, আমি কাস্টমস অফিসার অনিক মাহমুদ আকাশ বলছি। আমার পাঁচটি আইফোন লাগবে। ঈদের আগে মন্ত্রী, একটি সংস্থার চেয়ারম্যানসহ পাঁচ ভিআইপিকে আইফোন উপহার দেব। দোকানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন, আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি। এভাবেই কথোপকথন শেষে রানা তাকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিলে কয়েক ঘণ্টা পর টাকা জমা দেওয়া হয়েছে বলে জাল ব্যাংক সিল এবং রিসিভের কপি ভাইবারে পাঠিয়ে দেয়। ভাইবারে পেমেন্ট পেয়ে আইফোন পাঠিয়ে দেয় রানা। নির্দিষ্ট সময়ের পরও যখন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না হওয়ায় রানা খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এভাবে ফোন দিয়ে কয়েক বছরে শতাধিক আইফোন হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা। রাজধানীর উত্তরা থেকে প্রতারক চক্রের সদস্য অনিক মাহমুদ আকাশকে পাঁচটি আইফোনসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই সুন্দরী কন্যা মাহমুদা ইসলাম মৌর ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় গোয়েন্দারা। আর মৌর কথিত প্রেমিক আকাশকে গ্রেপ্তারের পর আত্মগোপন করেছে ওই নারী। সূত্র জানায়, বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মৌর রয়েছে একাধিক প্রেমিক। তার আগে বিয়ে হলেও স্বামীকে নিজেই তালাক দিয়েছে। এরপর একাধিক প্রেমিক নিয়ে গড়ে তুলে প্রতারক চক্র। আকাশও প্রতারকচক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। আর প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয়া নামিদামি ব্যান্ডের আইফোন বিক্রি করত মৌ। আর এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক বছরে কোটি টাকার সম্পদ করেছে সে। রাজধানীল মিরপুর ১০ পল্লবীর কালশীর ২৬ নম্বর প্যারিস রোডে রয়েছে একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট, রয়েছে দামি গাড়ি। আর এসবই প্রতারণার অর্থ দিয়ে করেছেন।ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য উক্ত ছবিতে প্রদর্শিত মহিলাদের সন্ধান জানা একান্ত প্রয়োজন। যদি কেউ উক্ত মহিলাদের সন্ধান জেনে থাকেন তা হলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সেল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00