সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হেক্সার মিশনে’ প্রত্যয়ী ব্রাজিল

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হেক্সার মিশনে’ প্রত্যয়ী ব্রাজিল
bodybanner 00

আগের বিশ্বকাপটি ব্রাজিলের জন্য মারাকানা ট্র্যাজেডির ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার মঞ্চ ছিল। ১৯৫০ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কান্না ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল। ৬৪ বছর পর মারাকানোজ্জো যন্ত্রণা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে মিনেইরোজ্জো লজ্জায়। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলো হরাইজিন্তে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজিল। ফুটবল মহাযজ্ঞের মঞ্চে ভরাডুবি কিংবা লজ্জা- যাই বলুন না কেন, গত চার বছর ধরে তা বয়ে বেড়াচ্ছে সেলেকাওরা। নিজ আঙিনায় হৃদয়ের যে রক্তক্ষরণ হয়েছিল নেইমারদের, ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় এবার হেক্সা উপহার দিতে চায় তিতের দল। আর তার যাত্রা শুরু হবে রোববার রাত ১২টায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার মধ্য দিয়ে।

সাত গোলের বিভীষিকাময়ের মুহূর্তটি ভুলে ফুটবলের সবুজ গালিচায় ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন নেইমার-কৌতিনহো-জেসুসদের। সেই স্বপ্নটা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দেখছেন তারুণ্যনির্ভর দলকে ঘিরে। যে দলে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার নেইমার। তার পানেই তাকিয়ে সবাই। কিন্তু যে দলে গ্যাব্রিয়েল জেসুস, কৌতিনহো, মার্সেলোর মতো তারকারা আছেন, সেই দল তো এক নেইমারের ওপর নির্ভরশীল নয়।

সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে ১০০ ভাগ ফিট নয় নেইমার। ব্রাজিল কোচ তিতে এমনটাই জানিয়েছেন। তবুও সেলেকাওদের হেক্সা মিশন শুরু হবে পিএসজি তারকাকে ঘিরে। ‘গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ বলেই ফেভারিট ব্রাজিল। শৈল্পিক ফুটবলের পসরা সাজানো লাতিন আমেরিকার দলটি কোচ তিতের অধীনে খুঁজে পেয়েছে জোগো বনিতার তকমাটা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে এক নম্বরে শেষ করেছে সেলেকাওরা। শুধু তাই নয়, স্বাগতিক রাশিয়া ছাড়া সবার আগে বিশ্বকাপের টিকিটও কাটে তারা।

কার্লোস দুঙ্গার পরিবর্তে কোচের চেয়ারে তিতে বসার পরই বদলে যায় ব্রাজিল। বদলে যাওয়ার কারিগর তিতে। ব্রাজিল মানেই নান্দনিক ফুটবলের অনুপম প্রদর্শনী। তিতে আসার পর সাম্বার ঢেউ উঠেছিল গ্যালারিতে। রাশিয়াতেও সেই ঢেউ দেখতে চান ব্রাজিল সমর্থকরা। রক্ষণভাগ, মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগ- সব বিভাগেই দারুণ ভারসাম্যময় এই ব্রাজিল। এ দলটির সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সেরা তারকা নেইমারের ওপর নির্ভর নয়। পিএসজির এই ফরোয়ার্ড অবশ্যই দলের প্রধান খেলোয়াড়; কিন্তু টিম হিসেবে খেলা সেলেকাওরা একক ব্যক্তিনির্ভর নয়।

তিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পরই এ ধারণাটা বদলে দেন। নেইমারকে পুরো স্বাধীনতা দিয়ে দেন তিতে। মার্সেলো, কাসেমিরো, জেসুস, কুতিনহো ও উইলিয়ান নিজেদের পজিশনে দুরন্ত। গোলপোস্টের নিচে রোমার অ্যালিসন ও ম্যানসিটির এদেরসন দু’জনই প্রথম পছন্দ। শুরুর একাদশ নামাতে তিতের কয়েক রাতের ঘুম নষ্ট হওয়ার কথা।

ব্রাজিল কোচের শুধু চিন্তা ছিল দলের সেরা তারকা নেইমার ইনজুরি কাটিয়ে ফিরতে পারবেন কিনা। ফিরলেও কতটা দিতে পারবেন। কিন্তু নেইমার সেসব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছেন। দুই প্রীতি ম্যাচে শুধু গোল করেননি। দুর্দান্ত গোল করেছেন। তবে সংশয় হলো একই সঙ্গে এই দলটার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা খুব বেশি নেই। এতকিছুর পরও ফেভারিট ব্রাজিলই। কারণ ব্রাজিল আর ফুটবল একই। সমার্থক!

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00