সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয় মূখ মানস রঞ্জন রায়ের জন্য কাদছে সাংস্কৃতিক কর্মীরা

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয় মূখ মানস রঞ্জন রায়ের জন্য কাদছে সাংস্কৃতিক  কর্মীরা
bodybanner 00

 

জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
জগন্নাথপুর পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডের মন্দির বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জগন্নাথপুরের ঐতিহ্যবাহি সংগঠন নাট্য বানীর সাবেক
সভাপতি,উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারন সম্পাদক,আবৃত্তি পরিষদ
(অংকুর) এবং খেলাঘর আসর জগন্নাথপুর উপজেলা শাখা ও উদীচি শিল্পী গোষ্টির
সভাপতি মানস রঞ্জন রায় (৬৫) আর নেই।
তিনি গতকাল শনিবার বেলা ৩টায় সিলেট শহরের একটি বেসরকারি মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে
স্ত্রী,১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।বিকেল
সাড়ে ৫টায় জগন্নাথপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ
রাখা হয়।বার্সেলোনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার দারুণ তিনটি মৌসুম কাটিয়েছেন। কিন্তু বার্সার সেরা কোচদের একজন পেপ গার্দিওয়ালার অধীনে খেলা হয়নি নেইমারের। ব্রাজিলিয়ান তারকার কাছে এটা বড় এক আক্ষেপ। আর তাই ক্যারিয়ারের কোন এক পর্যায়ে বর্তমান ম্যানসিটি কোচ গার্দিওয়ালার অধীনে খেলতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। বার্সেলোনা এবং বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক কোচের অধীনে খেলা অনেক উত্তেজনার বলেও মনে করেন তিনি। নেইমার ২০১৬-১৭ মৌসুমে গার্দিওয়ালাকে প্রশংসা করে তার অধীনে খেলার আগ্রহের কথা জানান। সেই আগ্রহ এখনো আছে জানিয়ে নেইমার বলেন, 'আমি সব সময় গার্দিওয়ালার অধীনে কাজ করতে চেয়েছি। আমি বার্সায় যোগ দিলে ক্লাব ছেড়ে দেন তিনি। আমার সত্যি তার সঙ্গে কাজ করার অনেক ইচ্ছে।' পিএসজি তারকা নেইমার বর্তমানে ব্রাজিলে দলের সঙ্গে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার পিএসজি ছাড়ার গুঞ্জন চলছে অনেকদিন ধরে। তবে ইনজুরি কাটিয়ে মাঠের নামার অপেক্ষায় থাকা এই তারকা এখন দল বদল নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নন বলেও জানিয়েছেন। ইনজুরির কারণে তিন মাস মাঠের বাইরে থাকা নেইমার রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠছেন বলে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শহীদ মিনারে রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক,সাংবাদিক
পেশাজীবি,ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সহস্ত্রধিক লোকজনদের
উপস্থিতিতে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সন্ধ্যায় শহরের কেন্দ্রীয়
শ্মশানে শেষ কৃত্তানুষ্টান সম্পন্ন হয়।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মানস রঞ্জন রায় কর্তৃক
২০১২সালে প্রকাশিত নাট্যচতুষ্টয় গ্রন্থে প্রকাশিত তথ্যে থেকে জানাযায়,
১৯৫৪সালের ৩ মে হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার জগৎপুর গ্রামে মানস
রায় জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম মধু সুদন রায় মায়ের নাম পারুল বালা রায়।
১৯৭০সালে এসএসসি,১৯৭৩সালে সিলেটের মদন মোহন কলেজ থেকে এইচ
এসসি পাশ করে পরবর্তীতে তিনি হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ থেকে বি এ পাশ
করেন।কর্মসূত্রে জগন্নাথপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।গল্প,
কবিতা,গান ও নাটক লেখায় এবং অভিনয় ও নির্দেশনায় তার সচ্ছন্দ বিচরন
সর্বজনবিদিত।অভিনেতা,আবৃত্তিকার হিসেবে ১৯৭২সাল থেকেই সিলেট

বেতারে অংশ গ্রহন করেন।মফস্বল শহরে মঞ্চ,আলোকসজ্জা,মিউজিক,মহিলা শিল্পীর
অপ্রতুলতা সত্ত্বেও দিয়েছেন অন্তত বিশটি নাটকের পঞ্চানটি সফল মঞ্চায়ন ও
নির্দেশনা।মানস রায়ের মা পারুল বালা রায় ছিলেন কন্ঠ শিল্পী,বাবা মধু সুদন রায়
ছিলেন অভিনেতা ও আবৃত্তিকার।মা-বাবার হাত ধরেই মানস রায়ের সাংস্কৃতিক
অঙ্গনে পদার্পন।২ মেয়ে ১ ছেলের জনক মানস রায় জীবিত অবস্থায় তার স্ত্রী শংকরী
রায়ের অনুপ্রেরনায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে টিকে থাকেন।২০১০সালে “ভাঙ্গন”
নাটকটি “দু কুলে নদীর ভাঙ্গন” সিডিতে বের হয়। তার রচনা ও নির্দেশনায়
“উপেনদের কথা” নাটকটি শিশু একাডেমি আয়োজিত শিশু নাট্য
প্রতিযোগিতা ২০১১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা ও সিলেট বিভাগে প্রথম স্থান
অধিকার করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করার সুযোগ পায়।
জগন্নাথপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রিয় মূখ হিসেবে পরিচিত মানস রায়
অসুস্থ থাকা কালীন সময়ে সর্বশেষ লেখা “বজ্রপাতে সতর্কতা” নাটকটি
সম্প্রতি সিলেট বেতারে সম্প্রচার হয়। মানস রঞ্জন রায়ের একমাত্র ছেলে দেবু রায়
পেশায় একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কাজ করছেন,দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে
শ্বাশতী রায় জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ঘোষগাঁও সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক ও ছোট মেয়ে সুষ্মিতা রায়
কানাডা প্রবাসী।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00