সময়যত গড়াচ্ছে দোহারে বেসিক তাঁত বোর্ড ততই ধ্বংস হচ্ছে

সময়যত গড়াচ্ছে দোহারে বেসিক তাঁত বোর্ড ততই ধ্বংস হচ্ছে
bodybanner 00

Brand Bazaar

মাহবুবুর রহমান টিপু , ঢাকা বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা জেলা:

ঢাকা দোহার উপজেলা উত্তর জয়পাড়া ১৭৭৭ সনে ৫০শতাংশ ভূমির মাঝে নির্মিত হয় দোহার বেসিক সেন্ট্রাল বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড । স্বধীনতা যুদ্ধের পূর্বে এই শিল্প ছিল বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র শিল্প ।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এই শিল্পের প্রতি ছিল আস্তা -বিশ^াস। এর ধারবাহিকতায় বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনা এই শিল্পকে বিশ্বের মাঝে পরিচিত করার লক্ষে বিভিন ভাবে সহাযোগিতা করে আসছে । কিন্তুু এই সহাযোগিতা প্রকৃত তাঁতীদের মাঝে না পৌছে, চলে যাচ্ছে ভিন্ন খাতে ।

সময়যত গড়াচ্ছে দোহারে বেসিক তাঁত বোর্ড ততই ধ্বংস হচ্ছে

ফলে দোহার উপজেলা বেসিক তাঁত বোর্ড ক্রমেই ধ্বংস হচ্ছে। নামে রয়েছে বেসিক তাঁত বোর্ড ,কিন্তু কাজে দেখা যাচ্ছেনা তাদের কার্যক্রম। সময়যত গড়াচ্ছে দোহারে বেসিক বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ততটাই অবনতি হচ্ছে । এটি দোহার-নবাবগঞ্চ-মুন্সিগঞ্চ আংশিক শিল্প নগরী আওয়তায় অন্তরভূক্ত ।বেসিক তাঁত বোর্ড দোহার শাখায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর জয়পাড়া বেসিক তাঁত বোর্ড জড়াজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে । সন্ধ্যার পরে সেখানে মাদকের রমরমা আড্ডা চলে। অফিসের পাশে গবাদি পশু পালন করা হয় ।সরকারি কর্মকর্তা নেই বললে চলে । নেই কোন নিরাপত্তার বলয় । অথচ বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর এই শিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে থাকেন।সরকারি বরাদ্ধকৃত অর্থ সঠিক ভাবে বন্টন না হওয়ায় হতাশ তাঁত শিল্পের দোহারে জড়িত প্রায় ৪ হাজার তাঁতী । বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বেসিক সেন্ট্রাল দোহার শাখার তথ্য মতে সারাদেশে ৪০টি শাখা রয়েছে । এই শিল্পের ২০১৭ সনে লক্ষ্যমাত্রা ২ % অর্জন করেন ।তবে তারা মুখিক ভাবে জানান ৪০% । এই শিল্পের সর্বশেষ গেজেট হয় নভেম্বর ২০১৩ সনে।রাষ্ট্রপতি সম্মতি ক্রমে ৬৪নং আইনে বলা হয়েছে, তাঁতী শিল্প সমিতিসমূহে তাঁতীগনকে বস্ত্র রসায়ন,খুচরা যন্ত্রাং,সুতাঁ,হস্তচালিত তাঁত শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ও তাহাদের নিকট হইতে উৎপাদিত পণ্যাদি ক্রয়পূর্বক গুদামজাত করন উদ্দেশ্য ও রক্ষানাবেক্ষন করা ।এবং সবার জন্য নকশা,সুতা তৈরি,ব্লিচিং,রংকরন,ইস্ত্রিকরা,ছাপা ,ফিনিশিং এর সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা ।

Brand Bazaar

দেশ বিদেশে তাঁত পন্য জনপ্রিয় করিবার উদ্দেশ্যে প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহন করা।দেশের অভ্যন্তরে বিক্রয় ও বিদেশে রপ্তানি নির্মিত্ত হস্তচালিত তাঁতজাত দ্রব্যাদি নিদিষ্ট মান প্রমিত করনের জন্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণমূলক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা ।দ্রব্যের গুনগতমান প্রস্ততকারী দেশ সম্পর্কিত সনদপত্র প্রদান করা।তাঁতা শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষন সুবিধা প্রদান এবং উহার উন্নয়ন করতে হবে বলে এই আইনে উল্লেখ্য করেন ।মাননীয় রাষ্ট্রপতি নির্দেশ থাকা সত্ত্বে ও সাধারন তাঁতীরা বঞ্চিত হচ্ছে এসকল সুবিধা থেকে । বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড দোহার শাখা হতদরিদ্র কোন তাঁতী এই পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন সহাযোগিতা পাননি ।অনেক তাঁতীদের কাছে বিষয়টি অজানা রয়েছে । বন্যায় তাঁতীদের চরম ক্ষতি হলেও তারা কোন সরকারি সাহায্য পাচ্ছেনা । অথচ সরকার তাদের জন্য প্রতি বছর কোটি টাকা র্বকতি দিচ্ছেন । তাহলে এই সব টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে ।প্রশ্ন হাজার তাঁতীদের? পদ্মা নদী ঘেরা দোহার উপজেলা প্রতি বছর নদীর ভাঙ্গনে স্বীকার হন কয়েক শতাধিক পরিবার ।এদের পুর্ণবাসনে নেই কোন পদক্ষেপ । বরং দরিদ্র লোন দরিদ্র পরিবার না পেয়ে, সমাজে যারা তাঁত শিল্পের সাথে কোন সময় জড়িত ছিলনা তারা পাচ্ছে তাঁতীদের লোন ।এই ধরনের অনিয়ম বন্ধের জন্য দোহারের তাঁতীরা সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন ।তানাহলে বঙ্গবন্ধুর স্বপের তাঁত শিল্পœ অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে অচিরে ।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00