ব্রেকিং নিউজঃ

রিজার্ভ চুরি: ২১ বারেও প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ সিআইডি

রিজার্ভ চুরি: ২১ বারেও প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ সিআইডি
bodybanner 00

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে আট কোটি ডলারেও বেশি চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় প্রতিবেদন দিতে আবার ব্যর্থ হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা-সিআইডি।
রিজার্ভ চুরি: ২১ বারেও প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ সিআইডিবুধবার নির্ধারিত তারিখে সিআইডি এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না তাদেরকে আগামী ১ এপ্রিল প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম এ কে এম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকী। এ নিয়ে মামলাটিতে ২১ বার সময় দিল আদালত। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রাখা বাংলাদেশের ১০০ কোটি ডলার ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মেসেজে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে (আরসিবিসি)। আর আরেক আদেশে শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয় ২০ লাখ ডলার।

শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া আটকানো গেলেও রিজল ব্যাংকে যাওয়া অর্থের বেশিরভাগটাই বের হয়ে চলে যায় স্থানীয় একটি কেসিনোতে জুয়ার টেবিলে। এই ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এক ক্যাসিনো মালিক ফেরত দিয়েছে দেড় কোটি ডলার। এই টাকা ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ঘটনায় রিজল ব্যাংককে জরিমানা করা ২০ কোটি ডলারও পেয়েছে বাংলাদেশ। বাকি টাকার মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির কাছে আছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই বাজেয়াপ্ত করতে দেশটির আদালতে মামলা চলছে। সোলায়ার নামের একটি ক্যাসিনোতে গিয়েছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ওই অর্থ ফিলিপিন্সের আদালত ফ্রিজ করে রেখেছে। এ বিষয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। তবে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিশ্বজুড়ে তোলপাড় করা ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করেন। মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধায়ায় ওই মামলা করা হয়। এই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সিআইডিকে। তারা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে গণমাধ্যমকে খোলাসা করে এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি।

তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ দেশের ৪৩ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠান জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে সিআইডি। তাদের সন্দেহের তালিকায় আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঁচ শাখায় কর্মরত অন্তত ১৪ জন কর্মকর্তা ও একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি। সন্দেহের তালিকায় আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেব ও বাজেট শাখার একজন যুগ্ম পরিচালক, দুই জন উপ-পরিচালক, এক জন উপ-মহাব্যবস্থাপক, পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের এক জন উপ-মহাব্যবস্থাপক, দুই জন যুগ্ম পরিচালক ও দুই জন উপ-পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

এর বাইরে আইটি শাখার এক জন উপমহাব্যবস্থাপক, এফএসএসএস পিডি বিভাগের একজন উপমহাব্যবস্থাপক ও ফরেক্স শাখার একজন উপ-পরিচালক আছেন সন্দেহের তালিকায়। ফরেক্স শাখার সন্দেহভাজন ওই কর্মকর্তার কক্ষেই হ্যাকাররা প্রথম আক্রমণ চালায়। সিআইডি কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলাম সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছেন, ‘আমরা জানি কোন প্রক্রিয়ায় কে কে ছিল। কিছু তথ্য পেয়েছি, তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য যখন আমরা পেয়ে যাব তখন আমরা অ্যারেস্টে যাব।…মামলাটির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দিতে আরো সময় লাগবে।’

এই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় আলাদা একটি তদন্ত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে। ২০১৬ সালের ৩০ মে এই প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হাতে তুলে দেয়া হয়। প্রতিবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সেই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এখনও। এদিকে চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে যতটুকু ফেরত এসেছে, তার বাকিটা আদায়ে রিজল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই মামলায় ‍যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভকেও সঙ্গে নিচ্ছে তারা। গত ৭ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এই মামলা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00