ব্রেকিং নিউজঃ

যেসব ছোট চিন্তা তীব্র উদ্বেগ বাড়ায়

যেসব ছোট চিন্তা তীব্র উদ্বেগ বাড়ায়
bodybanner 00

এই প্রতিবেদনে আলোচিত প্রচলিত শব্দগুচ্ছগুলো সর্বোপরি নির্দোষ নয়। প্রকৃতপক্ষে, এসব ভাবনা আপনার মধ্যে অ্যানজাইটি বা তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করে। আপনি কিভাবে এসব ভাবনা পুনর্বিবেচনা করবেন তা এখানে তুলে ধরা হলো। এ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

 কি হবে যদি আমি একটা ভালো চাকরি না পাই
অ্যানজাইটি বা উদ্বেগ হচ্ছে অস্বস্তিকর অনুভূতি যা অভ্যন্তরীণভাবে উৎপন্ন হয়। মনোবিজ্ঞানী তানিয়া প্রুহাউফ বলেন, ‘যখন আপনি উদ্বিগ্ন হবেন, আপনি অনুভব করবেন যে আপনি বিপদে আছেন, যদিও সেখানে আসলে কোনো বিপদ নেই।’ তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে ‘কি হবে যদি’ ভাবনা উদ্বেগকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, কিন্তু আমরা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তাই ‘কি হবে যদি’ চিন্তাভাবনার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। এর পরিবর্তে, আপনি এ মুহূর্তে কি করতে পারেন তার আলোকে ‘কি হবে যদি’ ভাবনাকে পুনর্বিবেচনা করুন। ‘কি হবে যদি আমি একটি ভালো চাকরি না পাই?’ এর বদলে ভাবতে চেষ্টা করুন, ‘আমার এখন যা করা প্রয়োজন তা হচ্ছে আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্যানুযায়ী হাতের কাজটি সম্পাদন করা।’

* ট্রাফিক জ্যাম, আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে
সর্বাধিক উদ্বিগ্ন পরিস্থিতিতে, প্রথম যে প্রশ্নটি আপনার নিজেকে করা উচিত তা হচ্ছে, ‘এ ব্যাপারে আমি কি করতে পারি?’ এটি অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ যে, কিছু বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কলোরাডোর সনদপ্রাপ্ত শিশু-কিশোর বিষয়ক কাউন্সেলর মারগারেট বেল বলেন, ‘আমরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আশা করা যায়, আপনার গন্তব্যে সঠিক সময়ে পৌঁছানোর জন্য অতিরিক্ত সময় নিয়েছেন অর্থাৎ আগেভাগে বের হয়েছেন। যদি তা না করেন, তাহলে সিটে বসে আপনার অনিয়ন্ত্রণযোগ্য ট্রাফিকের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই এবং এটি আপনাকে ভোগাবে।’ এর পরিবর্তে উদ্বেগের প্যাঁচ থেকে নিজেকে বাঁচাতে ভাবতে পারেন, ‘যখনই পৌঁছাই না কেন আমি তো পৌঁছব এবং তা ঠিক আছে। এটা তো ঠিক আছে যে আমি নিরাপদ এবং আমি আমার পথেই চলছি।’

* আমি কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছি যখন জানি যে ব্যর্থ হতে যাচ্ছি
এরকম বিবৃতি অনিশ্চয়তার ফল, যা মানব অভিজ্ঞতার স্বাভাবিক অংশ। এটি আপনাকে নেতিবাচক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়, কারণ আপনি ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে ফলাফল কি আসবে এবং এটি কিন্তু ভালো প্রচেষ্টা নয়। সিউরহোপ কাউন্সেলিং অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইক ভন উল্লেখ করেন, ‘এরকম চিন্তাভাবনা অত্যন্ত অলাভজনক।’ এর পরিবর্তে তিনি অনিশ্চয়তাকে গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। ঘটনার দিকে তাকান, কিন্তু তারপরই এটির সম্ভাব্য সব ধরনের ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে ভাবুন এবং সেসব কারণ চিন্তা করুন যা আপনাকে ইতিবাচল ফলাফল এনে দেবে। মাইক ভনের মতে, ‘এরকম ধারণা হচ্ছে চিম্তাভাবনাকে প্রসারিত করা যা অনিশ্চয়তাকে ইতিবাচক যেকোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা যাবে।’ ব্যর্থতার ব্যাপারে দুশ্চিন্তা না করে আপনি ভাবতে চেষ্টা করতে পারেন যে, ‘আমি শঙ্কিত যে আমি ব্যর্থ হতে যাচ্ছি, কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মতো আরো অনেক কিছু আছে যা আমাকে শেষ পর্যন্ত সফলতা এনে দেবে।’

* আমি একজন ভন্ড এবং মানুষজন তা বুঝতে পারছে
মনো চিকিৎসক জুলি ডি. ব্রুনো বলেন, ‘আপনি মাইন্ড-রিডার বা হৃদ-পাঠক নন, আপনি যা জানেন তা চিন্তাভাবনা করে জানেন। আপনি ভাবছেন যে আপনি নিজ ও চারপাশের লোকদের প্রতি অন্যায় করছেন।’ এরকম উপলব্ধি ‘প্রজেক্টিং’ নামে পরিচিত এবং আপনি এরকম ভাবনা বাস্তবতা বা সত্য তথ্য দিয়ে প্রতিস্থাপন করে বন্ধ করতে পারেন। ডা. ব্রুনো বলেন, ‘আপনার অর্জনকে স্মরণ করে এসব স্ব-বক্তব্যকে বিঘ্নিত করুন এবং ভাবুন যে এসব অর্জন আপনার ও তা সম্পূর্ণরূপে খাঁটি।’ ‘আমি একজন ভন্ড’ ভাবার পরিবর্তে ভাবতে চেষ্টা করুন যে, ‘আমি যা কিছু অর্জন করেছি তা নির্ভেজাল। আমি বর্তমানে যে অবস্থানে আছি এখানে আসতে আমার অনেক বছর লেগেছে। আমার অর্জিত সবকিছুর জন্য আমি কাজ করেছি।’

* সবাই আমার ওপর বিরক্ত
অত্যধিক মাইন্ড-রিডিং বা মন পাঠ করে আপনি নিজেকে আরো খারাপ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করছেন। সবাই আপনার ওপর বিরক্ত হতে পারে না, এটি অসম্ভব এবং কনজ্যুমার সেফটি ডট অর্গের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি তদন্তকারী সিডনি জিভার্টেসের মতে, আপনি যদি এভাবে চিন্তাভাবনা করে থাকেন, তাহলে দ্রুত নিজেকে নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।’

‘সবাই আমার ওপর বিরক্ত’ এটা ভাবার পরিবর্তে এভাবে ভেবে দেখতে পারেন যে, ‘সবাই আমার ওপর বিরক্ত হতে পারে না।’ যদি আপনার মনের মধ্যে অসংগত চিন্তাধারা গেঁথে যায়, তাহলে স্মরণ করুন যে আপনি এমন কিছু করেননি যার কারণে সবার কাছে বিরক্তির কারণ হবেন। প্রকৃতপক্ষে যদি কেউ আপনার ওপর বিরক্ত হয়ে থাকে তাহলে ভাবুন যে তাদের অনুভূতির প্রতি তাদের অধিকার আছে। যদি আপনি এমন কিছু করে থাকেন যে কারণে আপনি কারো কাছে বিরক্তিকর, তাহলে সেই ব্যক্তির সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

* লোকটি আমাকে পছন্দ করবে না
আপনি মাইন্ড-রিডিং করে ধারণা করছেন যে, লোকটি আপনাকে পছন্দ করবে না। মনো চিকিৎসক এবং লিভ হ্যাপি’র সম্পাদক স্ট্যাচি কায়সার বলেন, ‘কিছু ঝুঁকি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।’ আপনার বোঝা উচিত যে, সবাই কি রকম অনুভব করছে অথবা কি ভাবছে তা আপনি জানেন না, আপনি প্রত্যাশা করতে পারেন না যে সবাই আপনাকে পছন্দ করবে এবং এটাই স্বাভাবিক।’ ‘এ লোকটি আমাকে পছন্দ করবে না’ চিন্তা না করে ভাবতে পারেন যে, ‘এ লোকটি আমাকে পছন্দ করবে কিনা আমি জানি না, কিন্তু আমি সর্বোত্তম পদক্ষেপ গ্রহণ করবো এবং সর্বোত্তম ফলাফলের আশা করবো।’ কায়সারের মতে এর গুরুত্ব হচ্ছে- নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে যাওয়া, সর্বোত্তম চেষ্টা করা এবং সেলফ-স্যাবোট্যাজ বা আত্ম-সমস্যা সম্পর্কে দুশ্চিন্তা না করা।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00