যেভাবে পাওয়া গেল সর্বাধুনিক রকেট

যেভাবে পাওয়া গেল সর্বাধুনিক রকেট
bodybanner 00

উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত রকেট ছিল আরেকটি; কিন্তু সময়মতো উৎক্ষেপণের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হলে বিকল্প খুঁজছিল বাংলাদেশ। এর পর স্পেসএক্স প্রস্তাব দেয়, রাজি হয় ঢাকা। বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ওড়ানোর দায়িত্ব মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ পরিবহনসেবা প্রতিষ্ঠানটির ব্লক ৫ সংস্করণের ফ্যালকন-৯ রকেটের। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক গণমাধ্যম স্পেসনিউজ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেয়। প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা নাসা। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো প্রথম রকেটের ক্রেতাও ছিল মার্কিন জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। এর পর টানা ৩টি মিশনে যায় ফ্যালকন ৯। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উড়িয়ে বাংলাদেশ যেমন ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে, তেমনি এই উৎক্ষেপণ একদিক থেকে স্পেসএক্সের জন্যও প্রথম ঘটনা। নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার এক বিৃবতিতে জানিয়েছে, এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি ফ্যালকন-৯ রকেটের ব্লক ৫ সংস্করণ ব্যবহার করছে এই প্রথম। এটা স্পেসএক্সের জন্য বড় একটা মাইলফলক। বাংলাদেশ কীভাবে এই স্পেসএক্সের সেবাগ্রাহক হলো, সে বিষয়ে আলোকপাত করতে স্পেসনিউজ যোগাযোগ করেছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টার সঙ্গে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে, এটা যেন কীভাবে হয়ে গেল। মূলত এটা স্পেসএক্সেরই পছন্দ ছিল। আর আমরা তাতে রাজি হয়ে যাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে আরও জানান, বিটিআরসি দরপত্র আহ্বান করেছিল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১-এর জন্য রকেট ও ব্যাকআপ দুটিই খুঁজছিল তারা। দরপত্র অনুযায়ী স্যাটেলাইট বহনের জন্য থেলিস অ্যালেনিয়া স্পেস রকেট হিসেবে আরিয়ানস্পেসের আরিয়ান ৫-কে তালিকাভুক্ত করে। তিনি বলেন, স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ ছিল দ্বিতীয় পছন্দ।

http://brandbazaarbd.com/product-category/air-conditioner-air-cooler/carrier-air-conditioner/portable-carrier-air-conditioner/

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ নির্দিষ্ট সময়ে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করতে চেয়েছিল। এই সময়সীমাই স্পেসএক্সকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে আরিয়ানস্পেস দুই মাসে তাদের তিনটি মিশন পিছিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে চাইলেও আরিয়ানস্পেস এই বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। আরিয়ান-৫ রকেট মূলত দুটি স্যাটেলাইট বহন করতে পারে। একটি ওপরে এবং ছোট একটি নিচে। স্পেসনিউজ জানায়, সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘আমাদের স্যাটেলাইটের আকারের কারণে তা আরিয়ান-৫ রকেটের নিচের অংশে শুধু বসানো যায় এবং তারা সময়ের ব্যাপারে আমাদের নিশ্চয়তা দিতে পারছিল না। ফলে আমরা বিকল্প খুঁজি। স্পেসএক্স আমাদের প্রস্তাব দেয় ফ্যালকন-৯ ব্লক ৫ ব্যবহার করার। আমরা তাতে রাজি হই।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উপগ্রহটির নাম রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এটি উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব উপগ্রহ স্থাপনের তালিকায় নাম লেখাচ্ছে বাংলাদেশ।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00