ব্রেকিং নিউজঃ

মালদ্বীপে সেনা পাঠালে পরিণতি ভয়ংকর হবে: চীন

মালদ্বীপে সেনা পাঠালে পরিণতি ভয়ংকর হবে: চীন
bodybanner 00

মালদ্বীপে এখনই সেনা পাঠালে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে চীন। মঙ্গলবার ভারতের কাছে সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ। গতকাল বুধবার এই প্রেক্ষিতে ভারতের নাম না-করেই চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, ‘এটা ওদের ঘরোয়া সঙ্কট। তাই সেনা পাঠিয়ে জটিলতা বাড়ানো অর্থহীন। বরং মালদ্বীপের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।’ জরুরি অবস্থায় জেরবার দ্বীপরাষ্ট্র। পার্লামেন্টে পুলিশ। আর হাজতে প্রধান বিচারপতি। এ দিকে চাপের মুখে মঙ্গলবার রাতে ইউ-টার্ন নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেয়ার যে রায় নিয়ে অশান্তির শুরু, শীর্ষ আদালত নিজেই তা খারিজ করে দিয়েছে।

মালদ্বীপে সেনা পাঠালে পরিণতি ভয়ংকর হবে: চীন

মলদ্বীপ নিয়ে গতকাল বুধবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জরুরি অবস্থা তুলে অবিলম্বে দেশে সুশাসন ফেরানোর কথাও বলেন তিনি। তবু চীন বলছে, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় ওরা নিজেরাই  সমস্যা মিটিয়ে ফেলবে। বাইরের কারও এতে নাক গলানোর দরকার নেই। কিন্তু বিরোধী দলের কথা শুনছে কে। এ নিয়ে বেইজিং কি ইয়ামিন সরকারকে কোনও পরামর্শ দিয়েছে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নটা এড়িয়েই গেলেন চীনা মুখপাত্র। মালদ্বীপে বিরোধীদের মুখ তথা নির্বাসিত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নাশিদ এই মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার আশ্রয়ে। গতকালও তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইয়ামিনের ইস্তফার পাশাপাশি, অবিলম্বে দুই বিচারপতি এবং গৃহবন্দি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্দুল গায়ুমের (৮০) মুক্তি দাবি করেছেন নাশিদ। তার অভিযোগ, বিচারপতিদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে হাজতে। আর গায়ুম নিজে থেকেই খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাই চীনের আপত্তি উড়িয়ে আবার ভারতের হস্তক্ষেপ চান তিনি। কিন্তু ভারত কি সেনা পাঠাবে? প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের  একটি সূত্র বলছে, বাহিনী তৈরি। কর্মসূত্রে মালদ্বীপে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় রয়েছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, তাদের উদ্ধারের প্রয়োজনে জাতিসংঘকে জানিয়ে ভারত সেনা পাঠাতেই পারে। আর কূটনীতিকদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিতে দিল্লির কাছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একটা সুযোগও থাকছে। মালদ্বীপে বিরোধীদের অভিযোগ, উদ্ভূত সঙ্কটের পিছনে বেইজিংই উসকানি দিচ্ছে। ক্ষমতায় এসেই একগুচ্ছ চীনা প্রকল্পে সম্মতি দেন ইয়ামিন। বেইজিংয়ের সঙ্গে বিতর্কিত ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’তেও সায় দিয়েছে তার সরকার। বিরোধীদের অভিযোগ, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাই ইয়ামিনকেই গদিতে রাখতে চাইছে চীন। চীনা মুখপাত্র অবশ্য এসব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জানান, মালদ্বীপের সঙ্গে বরাবরই তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আর মুক্ত বাণিজ্য নীতির কারণে দু’পক্ষই লাভবান হয়েছে। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে গতকাল অবশ্য ইয়ামিন সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে মালদ্বীপের পরিস্থিতি দেখে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00