ভ্যালেন্টাইন ডে নয়, এটি বিশ্ব বেহায়া দিবস

ভ্যালেন্টাইন ডে নয়, এটি বিশ্ব বেহায়া দিবস
bodybanner 00
মিজানুর রহমানময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৬৪ দিন মানুষকে ধোঁকায় ফেলে শয়তান যতটা না বিজয়ী হয়, তার চেয়ে শয়তান বেশি বিজয়ী হয় ১ টা দিনে।
সেই দিনটার কথা আপনাদের কারো অজানা নয়, ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ নামে যে দিবস সারা পৃথিবীতে পরিচিত। এটা এমন একটা দিন, যে দিনে কিছু যুবক-যুবতী এমন সব অনাচার-অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়, যার কারণে পুরো পৃথিবীটাই একটি অসভ্য ভুমিতে পরিণত হয়।
বিভিন্ন পার্ক, অন্ধকার রেস্টুরেন্টের ছোট্ট কেবিন গুলো একেকটা যেন ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াতের’ বেশ্যাখানায় পরিণত হয়। বাবা-মায়ের আদরের ছেলেটি অন্য কোনো ভাইয়ের লক্ষী বোনকে নিয়ে এমন বেহেল্লাপনায় মেতে উঠে।
যা একটি সভ্য দেশ কখনো মেনে নিতে পারে না, কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমরা নিজেদেরকে ‘মুসলিম’ বলে দাবী করি, কিন্তু ঐটা একটা নামকাওয়াস্তে লেবাস মাত্র।
পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম নামধারী দেশগুলোতে ‘ভালোবাসা দিবসের’ নাম দিয়ে তরুন-তরুনীরা ব্যাভিচারে মেতে উঠে।
এ ক্ষেত্রে সরকার গুলো যেন নিরব। সরকারের যেনো এখানে কিছুই করার নেই!!! অথচ এই তরুন- তরুনীরাই আগামীদিনের মন্ত্রী, এমপি বা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কেউ হবে। আমার তো ভাবতেই কেমন যেন ঘেন্না ঘেন্না লাগছে, আমার এলাকার এমপি হবে বা আমার দেশের কেবিনেট মন্ত্রী হবে তরুন বয়সে যিনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত ছিলো এমন কোনো ব্যাক্তি???
এর চেয়ে মূর্খ কোনো সৎ ব্যাক্তিকেও আমি মেনে নিতে রাজী আছি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, এটি এমন একটি দিবস, যে দিনে কিছু মেয়ে পতিতা হবে, কিছু মেয়ে প্রতারিত হবে, কিছু ছেলে খারাপ কাজে জড়িত হবে।
আপনারা হয়তো জানেন, এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় ৯০,২৪০ জন নারী তাদের গর্ভপাত করেকি লির্লজ্জত
এটা কি আইয়্যামে জাহেলিয়াত নয়
তাই এই দিনটিকে কোনো মতেই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বলা যাবে না, ১৪ ই ফেব্রুয়ারী দিবসের নাম হবে ”বিশ্ব বেহায়া দিবস”।
এই দিবসের সঙ্গে কোনো মুসলিমের সম্পর্ক থাকতে পারে না। কারন মুসলিমদের প্রতিটি দিনই ভালোবাসার।
‘আদ্দিনু ওয়ান্ নাসিহা” ”দ্বীন মানেই হলো কল্যাণ কামনা (ভালোবাসা, উপকার)”, সুবহানাল্লাহ। ক্বুরআনের প্রত্যেকটি পাতায় পাতায় কেবল ভালোবাসার কথা।
মা-বাবাকে কিভাবে ভালবাসতে হবে, আত্মীয়- স্বজনকে কিভাবে ভালোবাসতে হবে, স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে কিভাবে ভালোবাসতে হবে, প্রতিবেশী, মুসলিম-অমুসলিম বন্ধু-বান্ধব সহ এমনকি মাতা-পিতার বন্ধুদের সাথে কি আচরণ করতে হবে, সব খুলে খুলে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা তার নিয়ম শুদ্ধ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন।
সুতরাং ধিক্কার জানাই এই বিশ্ব বেহায়া দিবসকে। এটা মুসলমানের কোনো প্রয়োজন নাই, এটা প্রয়োজন ঐ দেশে, যে দেশের জীবনে, পরিবারে, সমাজে কোনো ভালোবাসা নাই।
যে দেশের ছেলে- মেয়েরা ১৮ বছর পার হলেই মা- বাবাকে ছেড়ে গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে লিভ-টুগেদার করে, সেই দেশের জন্য ভালোবাসা দিবসের প্রয়োজন থাকতে পারে। যেই দেশে বার্ধক্যে বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয়, সেই দেশে নির্দিষ্ট একটি দিন ভালোবাসার নামে বেহায়াপনার জন্য প্রয়োজন হতে পারে।
আমাদের মতো শান্তির দেশ, ভালোবাসার দেশে ‘ভালোবাসা দিবসের’ মতো ‘বেহায়া দিবসের’ কোনো প্রয়োজন নাই।
অতএব ধিক্কার জানাই ঐ সকল তরুন-তরুনীদের যারা লাল গোলাপ নিয়ে প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী যিনা-ব্যাভিচারে মত্ত হবে।
ধিক্কার জানাই ঐ সব বুদ্ধিজীবি, লেখক, সাহিত্যিকদের, যারা ১৪ ই ফেব্রুয়ারী দিনকে পূঁজি করে তরুন-তরুনীদেরকে অশ্লীলতার দিকে ধাবিত করে।
আল্লাহ বলেন,
সেই ব্যাক্তির চেয়ে আর কার কথা উত্তম হবে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকলো, সৎ কাজ করলো, আর বললো আমি মুসলমান”।
অতএব মুসলমান হয়েও যারা ইসলামী সংস্কৃতিকে বাদ
দিয়ে Western Culture গ্রহন করে নিয়েছে, তোমরা প্রস্তুত থাকো কবর তোমাদেরকে হাতছানী দিয়ে ডাকছে।
আল্লাহ আমাদের বিশ্ব বেহায়া দিবস নামক আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা করুন।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00