ব্রেকিং নিউজঃ

ভোটের বছর সঞ্চয়পত্রের সুদে হাত দিতে চান মুহিত

ভোটের বছর সঞ্চয়পত্রের সুদে হাত দিতে চান মুহিত
bodybanner 00

এক বছর আগে নিজ দলের তীব্র সমালোচনার মুখে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার কমানোর উদ্যোগ নিয়ে পিছু হটা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আবারও একই পথে হাঁটতে চাইছেন। আবার নির্বাচনী বছরে অর্থমন্ত্রীর এই উদ্যোগ আবার সমালোচনার তৈরি করতে পারে, সেটি অনেকটাই অনুমেয়।

মন্ত্রীর মতে, বর্তমান বাজারে ঋণের সুদের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি হয়ে গেছে। এটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ-ডিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্চয়পত্র সামাজিক নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করে। সঞ্চয়পত্রে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।’

চলতি অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর প্রস্তাব দিলেও সংসদে নিজ দলের সদস্যদের তীব্র আপত্তির ‍মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। মন্ত্রীর তখন বলেছিলেন, ব্যাংক ঋণের প্রায় দ্বিগুণ সুদ দিতে গিয়ে সরকারের ওপর চাপ পড়ছে। তিনি ব্যাংকের গড় সুদ হারের চেয়ে সঞ্চয়পত্রে দুই শতাংশ বেশি সুদ ধরার পক্ষে ছিলেন।

বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এর সুদহার ক্ষেত্র বিশেষে সাড়ে ১১ শতাংশ। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেন না, তারা সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভর করছেন।

সঞ্চয়পত্রের সুদে হাত দেয়ার প্রস্তাব গত বছরের ১৫ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রীকে একহাত নেন মন্ত্রিসভায় তার সহকর্মী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এই সুদ বাবদ খরচ ১০ শতাংশ যদি বেশি হয়, তাহলে দাঁড়াবে এক হাজার কোটি টাকা। আর এই টাকার সুবিধা কারা পাচ্ছে? লক্ষ লক্ষ লোক। এদের মধ্যে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, সিনিয়র সিটিজেন, নারী, বিধবা নারী, মুক্তিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এদের কোনো নিরাপত্তা প্রকল্প নাই। এরা ট্রাকসেলে দাঁড়াতে পারে না, হাত পাততে পারে না।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক সিনিয়র সিটিজেনের অবস্থা আগের মত নাই। যৌথ পরিবার ভেঙে গেছে। এদের সিনিয়র ডায়াবেটিস, এরা সিনিয়র কার্ডিয়াক পেশেন্ট। হাসপাতালে দুই-তিন ঘণ্টা গিয়ে কাটালে ৩০-৪০ হাজার টাকা বিল দিয়ে আসতে হয়। এদের ওপর আপনি হাত দেবেন না, এমন লাখ লাখ মানুষের গার্জিয়ান হিসেবে সরকারকেই দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে আমরা মরণের দাঁড়প্রান্তে ঠেলে দিতে পারি না’।

এরপর আর অর্থমন্ত্রী এই বিষয়টি নিয়ে আগাননি। বাজেট পাস হওয়ার পর সঞ্চয়পত্র কিনতে নানা বিধি নিষেধ দেয়া এবং সবার জন্য এটি উন্মুক্ত না রাখার বিষয়ে কথা হয়েছিল। কিন্তু সেটিও আর আগায়নি।

দুই বছর আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলনের মুখে পিছু হটা অর্থমন্ত্রী এবারও একটি আলোচনায় আবার ভ্যাট নেয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পরে প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, এটা হচ্ছে না।

এখন সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর বিষয়ে মুহিতের পরিকল্পনাও আবার হোঁচট খাবে কি না, সেটি দেখার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

তবে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এটাও বলেছেন যে, ‘সঞ্চয়পত্র এক ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করে। এতে বিনিয়োগকারীরা নিম্ন আয়ের মানুষ। এ বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।’

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00