ভক্তদের জন্য পুরস্কার উৎসর্গ করলেন ববিতা

ভক্তদের জন্য পুরস্কার উৎসর্গ করলেন ববিতা
bodybanner 00

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের চিত্রনায়িকা ববিতা। ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বসেছে এবারের ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসর।  সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে আজীবন সম্মাননা ট্রফি গ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী।

এ সময় ববিতা বলেন, ‘‘উদাস আষাঢ় মাসের এই স্বার্ণালি সন্ধ্যায় আমাকে আজীবন সম্মাননা দেয়ার জন্য আমি অভিভূত, গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। আনন্দের এই লগ্নে খুব মনে পড়ছে আমার একমাত্র সন্তান অনিককে। যে সুদূর কানাডায় পিএইচডি করছে। সেই সঙ্গে সত্যজিৎ রায়, জহির রায়হান, সুভাষ দত্ত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে খুব মনে পড়ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, ‘তুই একদিন অনেক বড় হবি’। তারপর সম্মানের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছি। ভক্তদের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই আজকে আমি ববিতা। আমার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার সেই ভক্তদের জন্য উৎসর্গ করছি।’’

৭০-৮০ দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের  জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রশংসিত হন। অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি লাভ করার গৌরব অর্জন করেন তিনি। পর পর তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার উঠে তার হাতে। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে আরো একবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী, ১৯৯৭ সালে শ্রেষ্ঠ প্রযোজক এবং ২০০৩ ও ২০১৩ সালে দুইবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

রুপালি পর্দায় ববিতা এখন অনেকটাই অনিয়মিত। তার একমাত্র পুত্র অনিক কানাডায় পড়ালেখা করছেন। সেখানেই কাটে তার বেশিরভাগ সময়। মাঝে মধ্যে ঢাকায় আসেন। ১৯৫৩ সালে বাগেরহাট জেলায় ববিতার জন্ম। তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলায়। ববিতার শৈশব এবং কৈশোরের প্রথমার্ধ কেটেছে যশোর শহরে। তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় বোন সুচন্দা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, বড় ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজ ভাই ইকবাল ইসলাম বৈমানিক, ছোটবোন গুলশান আখতার চম্পা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং ছোট ভাই ফেরদৌস ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। এছাড়াও অভিনেতা ওমর সানী তার ভাগ্নে এবং অভিনেত্রী মৌসুমী তার ভাগ্নে বউ (ওমর সানীর স্ত্রী) এবং অভিনেতা রিয়াজ তার চাচাত ভাই। চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান তার ভগ্নিপতি।

চলচ্চিত্র কর্মজীবনে আসার পেছনে বড় বোন সুচন্দার অনুপ্রেরণা রয়েছে। বড় বোন সুচন্দা অভিনীত জহির রায়হানের ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে। এই চলচ্চিত্রে তিনি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্র জগতে তার প্রাথমিক নাম ছিলো ‘সুবর্ণা’। তিনি ‘কলম’ নামের একটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছিলেন সে সময়। জহির রায়হানের ‘জলতে সুরুজ কি নীচে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই তার নাম ‘ববিতা’ হয়। ১৯৬৯ সালে  চলচ্চিত্রে প্রথম নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন । ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্ট চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় এবং ওইদিন তার মা মারা যান।

‘টাকা আনা পাই’ সিনেমাটা তার অভিনয় ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এটি পরিচালনা করেছিলেন জহির রায়হান। এরপর নজরুল ইসলামের ‘স্বরলিপি’ সিনেমায় অভিনয় করেন। এ সিনেমাটিও সুপারহিট ছিল।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00