ব্রেকিং নিউজঃ

ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়িতে বিদেশ ভ্রমণ

ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়িতে বিদেশ ভ্রমণ
bodybanner 00

ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়িতে বিদেশ ভ্রমণের কথা শুনলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন খরচের কথা চিন্তা করে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এ ধরনের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়িতে বিদেশ ভ্রমণ করতে প্রকৃতপক্ষে খুব বেশি খরচ করতে হয় না। শুধু আপনাকে জানতে হবে সঠিক কিছু নিয়ম-কানুন । তিনি দেশের বাইরে ভারতের শিলিগুড়ি, কলকাতা, আসানসোল, অাওরঙ্গাবাদ, রাক্সোল, গোরাখপুর, ফায়জাবাদ, লখনৌ, দিল্লি, চণ্ডীগর, শিমলা, জম্মু ও কাশ্মীর ভ্রমণ করেছেন। তার অভিজ্ঞতার আলোকে চলুন জেনে নিই ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা গাড়িতে বিদেশ ভ্রমণের জন্য কী কী করতে হবে।

যা যা লাগবে

১। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমতিপত্র

২। ব্যাংক গ্যারান্টি

২। কারনেট

৩। ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট

৪। ইনস্যুরেন্স

৫। ৩০০ টাকার ইন্ডেমনিটি বন্ড

৬। যে দেশে যাবেন তার ভিসা এবং

৭। ৫০০ টাকার ট্রাভেল ট্যাক্স।

কী কী করতে হবে

প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে তা হলো, চেয়ারম্যান (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) বরাবর দরখাস্ত দিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে অনুমতি পাওয়া গেলে সেই অনুমতি পত্রসহ চলে যেতে হবে বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনে। এ অ্যাসোসিয়েশনে যাওয়ার সময় অবশ্যই যে গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে দেশের বাইরে ভ্রমণে যেতে চান তা সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে গাড়ি বা মোটরসাইকেলের কারনেটের জন্য যা যা করণীয় তা তারা বলে দেবে। সাধারণত গাড়ি বা মোটরসাইকেলের দামের সমতুল্য অথবা কমবেশি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়া লাগে। গাড়ি বা মোটরসাইকেলের জন্য কত টাকা দিতে হবে তা অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে নির্ধারণ করে নিতে হবে। এখানে বলে রাখা দরকার, এই ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরতযোগ্য। ভ্রমণ শেষে গাড়ি বা মোটরসাইকেল এবং কারনেটের বুকসহ অ্যাসোসিয়েশনের কাছে হস্তান্তর করলে তারা আপনার ব্যাংক গ্যারান্টি রিলিজ করে দেবে। ব্যাংক গ্যারান্টি হয়ে গেলে সীমান্তে গিয়ে ৩০০ টাকার ইন্ডেমনিটি বন্ড সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ফর্ম পূরণ করে তা গাড়ি বা মোটরসাইকেলের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমতিপত্র দেখিয়ে কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে। তারপর কমিশনারের নির্দেশক্রমে বাকি কাজ তারাই করে দেবে। এ জন্য কোনো টাকা-পয়সা দেয়া লাগবে না। তারপর ইমিগ্রেশনের কাজ সেরে সোজা নোমেন্স ল্যান্ডে চলে যেতে হবে। সেখানে বাংলাদেশের একজন রাজস্ব কর্মকর্তার কাছে কারনেট জমা দিতে হবে। তিনি কারনেটের একটি সাদা অংশ কেটে রেখে দেবেন এবং বইটির উপরের সাদা অংশে তার সিল ও স্বাক্ষর দেবেন। অবশ্যই উপরের সাদা অংশে তার সিল ও স্বাক্ষর দেয়া আছে কি না তা খেয়াল করতে হবে। হয়ে গেলে এবার ভারতের সীমানায় কাস্টমস অফিসের কাছে যেতে হবে। কাস্টমস অফিসারের কাছে কারনেট দিয়ে ইমিগ্রেশনে যেতে হবে, এতে সময় বেঁচে যাবে। ইমিগ্রেশন কমপ্লিট হয়ে গেলে কাস্টমস অফিসারের কাছে গিয়ে তার কাছ থেকে ঠিক একই নিয়মে কারনেটের বুকের উপরের সাদা অংশে সিল ও স্বাক্ষর আছে কি না চেক করে নিতে হবে। অফিসার কারনেটের সুবিধায় গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে কত দিনের মধ্য ফিরে আসতে হবে তা বলে দেবেন এবং যদি সময়মতো ফিরে না আসেন তাহলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তাও বলে দেবেন। এই হলো মোটামুটি দাপ্তরিক কাজ। এবার আপনি নিশ্চিন্তে সীমানা ছাড়িয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

সম্ভাব্য খরচ 

অনুমতির জন্য কোনো টাকা-পয়সা লাগে না।

কারনেটের জন্য সাধারণত ১২০০০ (বারো) হাজার টাকা লাগে।

ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পার্মিট ৫০০ টাকা।

সতর্কতা : অবশ্যই কারনেট, পাসপোর্ট এবং এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র নিজ দায়িত্বে যত্ন করে রাখবেন।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00