ব্রেকিং নিউজঃ

‘বোর্ডে খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে রাখা যেত’

‘বোর্ডে খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে রাখা যেত’
bodybanner 00

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠন করা মেডিকেল বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক রাখলে ভালো হতো বলে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে টক শোতে মত দিয়েছেন আলোচকরা।

বিএনপি নেত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যেরও সমালোচনা উঠে এসেছে এই আলোচনায়।

শনিবার বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনে ইয়াসির ইয়ামিনের সঞ্চালনায় টক শোতে এসব কথা বলেন দুই আলোচক গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান। খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে এসে হেনস্থার বিষয়ে বিএনপি নেতা রিজভীর বক্তব্যের সমালোচনা করে দুই জনই বলেন, সব কিছু নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়া খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সম্প্রতি নানা আলোচনা হচ্ছে। এই অবস্থায় গত ১ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠন করা হয় চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। বোর্ডে অন্য সদস্যরা হলেন মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

এই বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বেশ কিছু এক্সরে করতে বিএনপি প্রধানকে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আনা হয়।

দুই ঘণ্টার এই পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বেলা দেড়টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়। আর এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে ‘বায়েস্কোপ’ করার অভিযোগ আনেন রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে অপ্রস্তুত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাকে টানাহেঁচড়া করে হেনস্থা করা হয়েছে। গাড়িতে তুলতে সিঁড়ি ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি, এমনকি ওরনা পরতেও বাধা দেয়া হয়েছে।

বিএনপির দাবি ছিল ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করাবেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ সরকারি চিকিৎসক ছাড়া অন্য কাউকে যুক্ত করেনি। যদিও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে বিএনপি নেত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কারাগারে চিকিৎসক ছাড়াও ছিলেন তার পছন্দের তিন জন ডাক্তার।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডে আমি কোন সমস্যা দেখি না। তারপরেও একটা ব্যাপার থাকতে পরে, ওনার যে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সাথে ওনি হয়তো একটু বেশি ফ্রি। অথবা অনেক দিন যাবত তারা তাকে দেখাশুনা করছেন। দুটো মিলে যদি টিম হয় আমি তো মনে করি, এটা সবচেয়ে ভালো হবে এবং এটিই হয়েছে।’

সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকারের যা যা করার দরকার, সব করা উচিত। ওনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কথা বলেছেন সেগুলো নিশ্চিত করা উচিত। ওনি যদি মনে করেন দেশের বাহিরেও তার চিকিৎসা করা দরকার, সেটাও সরকারের করা উচিত।’

‘ওনি দেশের সম্মানিত নাগরিক, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। ওনি এখনও দেশের অন্যতম প্রধান দলের নেতা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়। সুতরাং তার বিষয়ে সরকারের যা যা করা উচিত, সবই করা উচিত।’

‘বেগম খালেদা জিয়াকে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সেখানে আনা হয়েছিল। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা ছিলেন, পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে তারা যেটা করবেন। যদিও বেগম খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন তিনি ইউনাইটেডে চিকিৎসা নিবেন। সেক্ষেত্রেও তো সমস্যা আছে। একটা প্রাইভেট হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে নিরাপত্তার বিষয়টি আছে।’

‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু মেডিকেল, এখানে চিকিৎসা নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রাষ্ট্রপতি থেকে মন্ত্রীদের সকলের চিকিৎসা হওয়ার কথা। যদিও সবাই বাইরে চিকিৎসা নেয়, এখানেই তো সকলের চিকিৎসা নেয়ার কথা। সেই জায়গা থেকে দেশের সাবেক প্রধামন্ত্রী সেখানেই তো চিকিৎসা নেবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। তার পরও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রয়োজন হলে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাবে।’

বিএনপির বক্তব্যঅযাচিত

খালেদা জিয়াক হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য নিয়ে আসার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আসা বক্তব্যের সমালোচনা করেন দুই জন আলোচকই।

মহিউদ্দিন আহমেদ বনে, ‘প্রতিটি বক্তব্য নিয়েই রাজনীতি হচ্ছে, যেমন দেখেন বেগম জিয়া আজকে গেলেন হাসপাতালে, আসলেন। মিডিয়া ছিল, কড়া নিরাপত্তার ভেতর দিয়ে তাকে আনা হয়েছে, নেয়া হয়েছে, তাকে দেখা গেছে উৎফুল্ল। এখন তাকে নিয়ে অন্যরা কী বলছেন না, এটা নিয়েও রাজনীতি থাকতে পারে। অথবা রাজনীতিটাকে দৃশ্যমান রাখার জন্য অনেক সময় অনেক বক্তব্য দেয়া হয়।’

‘বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকে যেটুকু কারাবিধি অনুযায়ী হওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা তিনি পাচ্ছেন। তবে কথা হচ্ছে সমস্যা তো অন্য যায়গায়, মুক্ত জীবন যাপনের এক ধরনের সুবিধা আছে, আনন্দ আছে। যেটা কারাগারে নাই। সেখানে তিনি যতই আরাম আয়েসে থাকুক না কেন। শেকল সে যদি সোনার শেকলও হয়, তবুও সেটা শেকল।’

আবু সাঈদ খান বলেন, ‘অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আমাদের রাজনীতির একটি সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির অভিযোগগুলি অবিশ্বাস্য, ওরনা পরতে তাকে দেয়া হয়নি এই অভিযোগ আনা ঠিক না।’

‘সেখানেও একটা রাজনীতি হচ্ছে, যে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার নামে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এই ধরনের বক্তব্য মাঠে আছে, আমার কাছে মনে হয় কতগুলো ব্যাপার নিয়ে রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি থাকতে পারে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে রাজনীতিটা ঠিক না।’

‘আমাদের দুই দলের মধ্যে পারস্পারিক অবিশ্বাস এতটা তৈরি হয়েছে। কেউ কাউকে আর বিশ্বাস করতে পারছেন না এবং কোন ব্যাপারে কেউ কারো প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না। যে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা করানো সরকারের দায়িত্ব সে ব্যাপারে আস্থা রাখতে পারছেন না। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, ঠিক আছে সরকারকে ঘায়েল করার জন্য যা যা বলার দরকার তাই বলব। এমনটাও হতে পারে।’

‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আপত্তির কিছু আমি দেখছি না। এখন ভেতরের বিষয় তো আমরা জানি না, ভেতরে কী হচ্ছে, তার কী দাবি।’

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00