ব্রেকিং নিউজঃ

‘বিশ্বকাপ জয়ের বড় সুযোগ ফ্রান্সের’

‘বিশ্বকাপ জয়ের বড় সুযোগ ফ্রান্সের’
bodybanner 00

নেদারল্যান্ডসকে ২০১০ বিশ্বকাপে ফাইনালে তোলেন ফন মারউইজিক। কিন্তু এবার তার সাবেক দল ফুটবল বিশ্বকাপে নেই। তাই বলে বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে যাওয়া থেমে নেই তার। অস্ট্রেলিয়ার কোচ হয়ে বিশ্বকাপে আসছেন তিনি। আর এসেই প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে হবে রাশিয়া বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্সের। সাবেক নেদারল্যান্ডস কোচ মনে করেন এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের শিরোপা জেতার বড় সুযোগ আছে।

বর্তমান অস্ট্রেলিয়া কোচ রাশিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে ফিফাডটকমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে অস্ট্রেলিয়া দল, নেদারল্যান্ডকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়াসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন এই কোচ। তার বিশেষ কিছু কথা তুলে ধরা হলো:

ফিফা: বিশ্বকাপে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা একজন কোচের জন্য কতটা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়?

অস্ট্রেলিয়া কোচ: এটা কিছু শব্দ উচ্চারণ করে বোঝানো যাবে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু এটা তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বুঝে নেওয়া সম্ভব। খেলোয়াড়দের অনুভব করতে হবে যে আপনার অভিজ্ঞতা আছে। তবে আমি মনে করি, বিশেষ কিছু গুনের কাছে এটা খুব ছোট একটা ব্যাপার।

ফিফা: অল্প সময় অস্ট্রেলিয়ার কোচ হয়েছেন। এই সময়ে কোনটি দলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বলে আপনার মনে হয়েছে?

অস্ট্রেলিয়া কোচ: তারা দারুণ মানসিকতা সম্পন্ন এবং খুব অনুপ্রাণিত একটি দল। তারা খুব ভালো ছাত্র। প্রথম দিন থেকেই তাদের প্রতি আমার অভিব্যক্তি খুব ইতিবাচক। মার্চের প্রথম দিনগুলো (১০ দিন) আমাদের জন্য যেমন দারুণ ছিল তেমনি খুব সহায়ক হয়েছিল। ওই সময় কলাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে দল যেভাবে খেলেছিল তা দেখে আমি দারুণ খুশি হয়েছিলাম (ম্যাচটি ০-০ ড্র হয়)।

ফিফা: রাশিয়া বিশ্বকাপে দলের কোন গুনটি আপনি বের করে আনতে চান?

অস্ট্রেলিয়া কোচ: আমি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কিছুই বের করে আনতে চাই না। বরং তাদের জন্য কোন কৌশলটা যুতসই হয় সেটাই খুঁজে বের করতে চাই। কৌশলটা যখন খেলায়াড়দের সঙ্গে খাপ খাবে তখনই আমার সময়টা ভালো যাবে।

ফিফা: নেদারল্যান্ডস এবার বিশ্বকাপে উঠতে পারেনি। আপনাকে অস্ট্রেলিয়ার কোচ করার জন্য তাদের কি অনেক আগ্রহ ছিল?

অস্ট্রেলিয়া কোচ: হ্যাঁ তাদের আগ্রহ ছিল। এটা আমি যেমন অনুভব করেছি তেমনি এখন দেখছিও। বিশ্বকাপ যত নিকটে আসবে ততই আমাকে নিয়ে তাদের আগ্রহ বাড়বে। কারণ তাদের হাতের কাছে আমিই একমাত্র কোচ ছিলাম। যার বিশ্বকাপে দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। আমাকে নিয়ে অবশ্য মরক্কোর বেশ আগ্রহ ছিল। সেখানেও নেদারল্যান্ডসের অনেকে খেলেন।

ফিফা: অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপে ফ্রান্স, ডেনমার্ক এবং পেরু আছে। গ্রুপ নিয়ে কী ভাবছেন?

নেদারল্যান্ডসের ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলা কোচ। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া কোচ ফন  মারইউজিক

অস্ট্রেলিয়া কোচ: নতুন কিছুই ভাবছি না। আমি আগেও বলেছি কঠিন গ্রুপে আছি আমরা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন গ্রুপ বলা যায়। বিশেষ করে ফ্রান্স আছে বলে। আমরা কলম্বিয়ার বিপক্ষে দেখেছি তারা কতটা ভালো ফুটবল খেলতে পারে। ফ্রান্সের এবার রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতার বড় সুযোগ আছে।

তাদের কিছু দ্রুতগতির এবং সৃজনশীল ফুটবলার আছে। তাদের শারিরীক সামর্থ্যও অনেক বেশি। বিশ্ব সেরা তারকাদের একজন কিলিয়ান এমবাপ্পে তাদের দলে খেলে। তাদের হাতে অনেক অস্ত্র আছে। তার মানে কিন্তু এই না যে আপনি তাদের বিপক্ষে জিততে পারবেন না। আমি অন্য দল নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। কারণ এই মুহূর্তে আমরা কেবল একটি বিষয় মাথায় রাখছি। আর তা হলো ফ্রান্সের বিপক্ষে আমাদের প্রথম ম্যাচ।

ফিফা: আপনার বেড়ে ওঠার সময়ে এমন কোন বিশ্বকাপ আছে যা আপনার উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে?

অস্ট্রেলিয়া কোচ: আমি এখনো ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কথা মনে করতে পারি। ১৯৭৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ আমার কাছে বিশেষ কিছু। আমরা সেবার দ্বিতীয় হয়েছিলাম। ১৯৭৮ বিশ্বকাপ। আমি দলে ডাক পেয়েছিলাম। কিন্তু দূভাগ্য চোট আমাকে ছিটকে দিয়েছিল।

ফিফা: নেদারল্যান্ডস ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলে। ফাইনালে দলের কোচ থাকায় আপনার মনে কোন আবেগ উঁকি দেয়?

অস্ট্রেলিয়া কোচ: এটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আমার ক্যারিয়ারের সবেচয়ে ভালো মুহূর্ত। সাধারণত আপনি যখন কোন টুর্নামেন্টে টিকে থাকবেন তখন ম্যাচ বাই ম্যাচ আরও পরিণত হবেন। আমরা প্রতি ম্যাচেই পরিণত হয়েছি। আপনারা তা দেখেছেন।

আমাদের প্রতিপক্ষ দলের কোচ (স্পেন কোচ দেলবক্স) বলেছিলেন, তাদের মন বলছে আমরা তাদের হারাতে পারবো না। আর আমাদের খেলোয়াড়রা অনুভব করে, তারা হারবে না। আমরা সত্যি একটি ভালো দল ছিলাম। কিন্তু সব সময় সেরা খেলোয়াড়রা পুরস্কার জিতবে না। কিন্তু সেরা দলটা জিতবে।

সূত্র: ফিফাডটকম

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00