ব্রেকিং নিউজঃ

বিশ্বকাপে না থেকেও আছে ইতালি!

বিশ্বকাপে না থেকেও আছে ইতালি!
bodybanner 00

আগামী ১৫ জুলাই মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন হয়তো প্রতি রাতেই দেখছেন নেইমার, লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, হুগো লরিস, সের্গিও রামোস, ম্যানুয়েল নুয়াররা।

কিন্তু ইতালি অধিনায়ক গিয়ানলুইগি বুফনের সেই স্বপ্ন দেখার সুযোগই নেই। স্বপ্নটা ভেঙে গেছে গত নভেম্বরেই।

প্লে-অফে সুইডেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকেই এবার বিদায় নিতে হয়েছে ইতালিকে। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এবারের আসরে শুধুই দর্শক।

তবে আগামী ১৪ জুন রাশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া ২০১৮ বিশ্বকাপে ইতালি না থাকলেও বিশ্বকাপ ঠিকই ফিরবে ইতালিতে! ইতালিয়ানদের হাতের ছোঁয়ায় যে যুগ যুগ ধরে অমলিন বিশ্বকাপ ট্রফির সোনালি ঝিলিক।

প্রতি চার বছর অন্তর মিলানের উপশহর পাদের্নো দুগনানোয় অবস্থিত একটি ইতালিয়ান প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয় বিশ্বকাপের আসল ট্রফি।

সেখানে ঘঁষেমেজে ট্রফির উজ্জ্বলতা ঠিক রাখা হয়। ১৯৭০ সালে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে জুলে রিমে ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল ব্রাজিল।

এরপর ১৯৭১ সালে ইতালির জিডিই বার্তোনি নামের এই প্রতিষ্ঠানেই ফিফা বিশ্বকাপের বর্তমান ট্রফি তৈরি করা হয়।

৩৮ সেন্টিমিটার উঁচু ও ছয় কেজি ওজনের সোনার ট্রফি নিয়ে প্রতিবার বিশ্বকাপজয়ী দল উৎসব করলেও স্থায়ীভাবে তাদের দেয়া হয় মূল

ট্রফির রেপ্লিকা। মূল ট্রফি ফিফা সযত্নে সংরক্ষণ করলেও বিশ্ব ভ্রমণের সময় প্রতিবারই ট্রফির কিছু ক্ষতি হয়।

নতুন পালিশ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য বিশ্বকাপ শেষে মূল ট্রফি বার্তোনির কারখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে আটজন বিশেষজ্ঞ কারিগরের হাতে নবযৌবন পায় ট্রফি। চ্যাম্পিয়ন দলকে দেয়া রেপ্লিকা ট্রফিও তৈরি করেন তারা।

এবারও বিশ্বকাপ শেষে ট্রফি ফিরবে তার আঁতুরঘরে। কিন্তু ইতালির ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘশ্বাস তাতে কমবে না।

ইতালিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগেই রং হারিয়েছে তাদের কাছে। ইতালির কিংবদন্তি গোলকিপার দিনো জফও আছেন সেই দলে।

তার নেতৃত্বেই ১৯৮২ বিশ্বকাপ জিতেছিল ইতালি। ৪০ বছর বয়সে দেশকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে জফের কাছে ইতালিবিহীন বিশ্বকাপের কোনো আবেদনই নেই, ‘যেসব দল এবার বিশ্বকাপে খেলছে, তাদের অনেকেরই আমাদের মতো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ট্রফি নেই। সেখানে ইতালির না থাকাটা খুবই বেদনাদায়ক। ইতালির জন্য দর্শক হয়ে বিশ্বকাপ দেখাটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটাকে সত্যিকারের বিশ্বকাপই মনে হচ্ছে না।

ইতালির মানুষ ফুটবল ভালোবাসে। এরপরও তারা বিশ্বকাপ দেখবে। কিন্তু চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যখন ঘরে বসে থাকবে তখন অখ্যাত কোনো দলের খেলা দেখাটা খুবই কঠিন।’ এএফপি।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00