‘বিলম্বিত রায়ে অখুশি নই, তবে সন্তুষ্ট ও নই’

‘বিলম্বিত রায়ে অখুশি নই, তবে সন্তুষ্ট ও নই’
bodybanner 00

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরী সহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই রায়ে অখুশি নয় আওয়ামী লীগ তবে তারা সন্তুষ্টও নয়। দলের হয়ে সংবাদসম্মেলনে ওয়ায়দুল কাদের এমন কথাই জানালেন। 

রায় ঘোষণার পরপরই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই হামলার প্রথম টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। এই হত্যাকান্ডের প্ল্যানার কে, তা এই রাষ্ট্রের জনগণ জানে। এটা প্রকাশ্য  দিবালোকের মত সত্য।

তিনি তৎকালীন সরকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই মামলাটি তারা কোন গুরুত্বই দেননি। এফবিআইকে আসতে দেয়নি, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে আসতে দেয়নি। জজ মিয়া নামক একটা ছেলেকে ধরে এনে জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, মুফতি হান্নান নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে, অপারেশন চালানোর আগে তারেক রহমানের অনুমতি চেয়েছিলো।

রায়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিলম্বিত হলেও এ রায়ে আমরা অখুশি নই। কিন্তু আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্টও নই। কারণ, এই রায়ে প্ল্যানার ও মাস্টারমাইন্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৪ বছর পর  বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেয়া হলো। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমান’সহ ২৪ জন, আহত হন বহু মানুষ।

এ ঘটনায় পরদিন রাজধানীর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্তের নামে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির জজ মিয়া নামে একজনকে আটক করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে গ্রেনেড হামলার স্বীকারোক্তি আদায় করার ঘটনা নাটকীয়তার জন্ম দেয়। গণমাধ্যমে জজ মিয়ার আসল পরিচয় বেরিয়ে এলে থমকে যায় এ মামলার তদন্ত।

বিচার চলাকালে মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হলে বিচার থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। ৪৯ আসামির মধ্যে বাবরসহ ২৩ জন আসামি কারাগারে আছেন, ১৮ জন পলাতক এবং ৮ জন আছেন জামিনে। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন ও আসামিপক্ষে ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে সময় লাগে ১১৯ কার্যদিবস।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00