বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী যারা

বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী যারা
bodybanner 00

সোমবার (১২ মার্চ) দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানে দুই শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এরমধ্যে যাত্রী ছিলেন ৩১ জন।ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি ছেড়ে যায়। নেপালে পৌঁছানোর পর এটি বিধ্বস্ত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজের ৫০ জন আরোহী মারা গেছেন বলে নেপাল পুলিশের মুখপাত্র মনোজ নেউপানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটিতে মোট ৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। এরমধ্যে পূর্ণ বয়স্ক ৬৫, পুরুষ ৩৭, নারী ২৮ এবং দুইজন শিশু ছিলেন। তারা হলেন- তানিরা তানভীন শশী, পিয়াস, শেখ রাশেদ, কৃষ্ণ কুমার, উম্মে সালমা, আশনা সাকিয়া, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, সারুনা শ্রেষ্ঠ, সৈয়দা কামরুন নাহার, হরিপ্রসাদ, দয়ারাম তহরাখার, বালকৃষ্ণ থাপা, শ্বেতা থাপা, কিশোর ত্রিপতি, আবাদেশ কুমার যাদব, অনিরুদ্ধ জামান, মো. নুরুজ্জামান, মো. রফিক জামান, রিয়ানা আব্দুল্লাহ, পয়বাল আহমেদ, সামরিন আহমেদ, জাকদ আলী, আলিফুজ্জামান, আলমুন নাহার, বিলকিস আরা, শিলা বাজগাইন, বেগম নুরুন্নাহার বিলকিস, আলজিনা বড়াল, চারু বড়াল, আকজারা বেগম, শাহীন বেপারী, শুভিন্দ্র সিং, বসঞ্জিত বহরা, সামিরা বায়ানজানকর, প্রবীণ চিত্রকর, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, সাজানা দেবখোজা, প্রিন্সি ধামি, গায়নি কুমারি গুরুং, রেজকানুল হক, মো. রকিবুল হাসান, মেহেদী হাসান, এমরানা কবির হাসি, কবির হোসাইন, দীনেশ হুমাগাইন, সানজিদা হক, হাসানন ইমাম, মো. নজরুল ইসলাম, শ্রেয়া জিলা, পূর্ণিমা লুনানি, মিলি মেহেরজান, নিগা মেহেরজান, সঞ্জয়া মেহেরজান, জেংমিং, আঁখি মনি, মেহনাজ বিন নাসির, কেসাব পান্ডে, প্রসন্না পান্ডে, বিনোদ পাউডাল, হরিশংকর পাউডাল, সঞ্জয় পাউডাল, এফএইচ প্রিয়ক, থামারা প্রিয় নৈইয়ি, মতিউর রহমান, এসএম মাহবুবুর রহমান, আশিষ রঞ্জিত।

বিমানে থাকা পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের দুই কর্মকর্তা উম্মে সালমা ও নাজিয়া আফরিন চৌধুরী একটি কর্মশালায় অংশ নিতে কাঠমান্ডু যাচ্ছিলেন। উম্মে সালমা সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুবিভাগে সিনিয়র সহকারি প্রধান এবং নাজিয়া আফরিন চৌধুরী আর্ন্তজাতিক অর্থনীতি অনুবিভাগে সিনিয়র সহকারি প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। পরিকল্পনা বিভাগের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা তাদের খোঁজ-খবর রাখছি। নেপাল দূতাবাস এখন পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছে না। তিনি বলেন, সবশেষ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। মূলত ওই সেমিনারে আমার যোগ দেয়ার কথা ছিল। আমি যেতে পারিনি বলে ওদের পাঠিয়েছি। সোমবার দুপুরেও উম্মে সালমা ও নাজিয়া আফরিন চৌধুরী হাসিখুশি একটি ছবি ফেসবুকে অাপলোড করেছেন। উম্মে সালমার বড় ভাই এসএম আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনদিনের অফিসিয়াল ট্যুরে নেপাল যাচ্ছিলেন সালমা। সোমবার সকালে তার সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছে।

বিমানে ছিলেন সিলেটের বেসরকারি রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ নেপালি শিক্ষার্থী।গত রোববার এমবিবিএস ১৯তম ব্যাচের ফাইনাল প্রুফ পরীক্ষা দিয়ে দুইমাসের ছুটিতে তারা সবাই এই উড়োজাহাজে নেপালে নিজের পরিবারের কাছে ফিরছিলেন। ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জন মেয়ে ও দুইজন ছেলে বলে জানা গেছে। সোমবার বিকেলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ এতথ্য নিশ্চিত করলেও এই শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য দিতে পারেনি। বাংলাদেশি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অবস্থা নিয়ে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। রাগীব-রাবেয়া মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানে যাত্রী হিসেবে ছিলেন- সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্নিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবেদ হোসেন বলেন, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানে আমাদের কিছু শিক্ষার্থী ছিলো বলে শুনেছি। তবে কতজন ছিলো তা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। নেপালে অবস্থানরত আমাদের সাবেক একজন ছাত্রের মাধ্যমে পুরো বিষয় জানার চেষ্টা করছি। ডা. আবেদ হোসেন বলেন, শেষ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশের জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগে। এই সময়ে সকলেই নিজেদের বাড়িতে চলে যায়। নেপালের এই শিক্ষার্থীরাও তাদের দেশে যাচ্ছিলো। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাড়াও নগরীর বেসরকারি অন্য পাঁচটি মেডিকেল কলেজে কয়েক শ’ নেপালি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।

এছাড়া নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স বিমানের যাত্রীদের মধ্যে গাজীপুরের নগরহাওলা গ্রামের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য ছিলেন। বিমানে থাকা ফারুক আহমেদ প্রিয়কের (৩২) মা ফিরোজা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে দুর্ঘটনার পর এদের অবস্থার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। ওই বিমানে থাকা একই পরিবারের পাঁচজন হলেন- উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে ফারুক আহমেদ প্রিয়ক (৩২), তার স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি (২৫), তাদের একমাত্র সন্তান তামাররা প্রিয়ক (৩), নগরহাওলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান মাসুম (৩৩) ও তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা আক্তার (২৫)। ফারুক পেশায় একজন ফটোগ্রাফার। আর মেহেদী হাসান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারুক ও মেহেদী হাসান সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই।

এই ফ্লাইটেই যাত্রী ছিলেন সানজিদা হক বিপাসা, রফিক জামান রিমু ও তাদের ছয় বছর বয়সী ছেলে অনিরুদ্ধ। বিপাশা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেন। অফিসে বিপাসার পাশের ডেস্কেই বসতেন দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈকত শুভ্র আইচ মনন। আবেগাপ্লুত মনন বলেন, স্বামী-সন্তানকে নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে গিয়েছিলেন বিপাসা। ১৭ মার্চ দেশে ফেরার কথা ছিল। আজ যখন নেপালের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজেটি বিধ্বস্ত হয় তখন আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। এখন পর্যস্ত বিপাসার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিপাসার স্বজনরা উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন। বিপাশার ভাই শাহরিয়ার মিঠুন বলেন, বেলা সাড়ে ১২টায় তাদেরকে তুলে দেওয়ার সময় সবশেষ কথা হয়েছিল। এরপর দুর্ঘটনার খবর শুনছি। আমরা খুবই আপসেট।

রাজশাহীর রুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রভাষক ইমরানা কবির হাসিও ছিলেন এই ফ্লাইটে। স্বামী রকিবুল হাসানও ছিলেন তার সঙ্গে। হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি যাত্রা শুরুর আগে ফেইসবুকে লিখেছেন- ‘ভ্যাকেশন স্টার্টস নাউ’। গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পিয়াস রায়ও এই ফ্লাইটে ছিলেন। যাত্রা শুরুর একটি ছবি পোস্ট করে ফেইসবুকে তিনি লেখেন, ‘টাটা মাই কান্ট্রি, ফর ফাইভ ডেজ। হেইলিং টু দ্য ল্যান্ড অফ দ্য এভারেস্ট’। গাজীপুরের বাসিন্দা অ্যানি প্রিয়কও সপরিবারে এই ফ্লাইটে ছিলেন। যাত্রাকালে এয়ারপোর্ট থেকে তার ফেইসবুকে ছবিও দিয়েছিলেন তিনি।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00