brandbazaar globaire air conditioner

‘বাবু খাইছো’ কেন এতো জনপ্রিয়? ‘বাবু খাইছো’ কেন এতো জনপ্রিয়?

‘বাবু খাইছো’ কেন এতো জনপ্রিয়? ‘বাবু খাইছো’ কেন এতো জনপ্রিয়?
epsoon tv 1

প্রিয়জনকে এখন অনেকেই ‘বাবু’ বলে সম্বোধন করে। তরুণদের মধ্যে বিশেষ করে গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডকে ‘বাবু’ বলে সম্বোধন করা হয় বেশি। এর উৎপত্তি কোথা থেকে তা জানা না গেলেও ইংরেজিতে পার্টনারকে বেবি বলে ডাকার প্রচলন রয়েছে অনেক আগের থেকেই। সেটিরই বাংলা প্রচলন ‘বাবু’।

সম্প্রতি “বাবু খাইছো” শিরোনামে একটি গান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে দেশের তরুণদের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবে সেপ্টেম্বর মাসে রিলিজ পায় গানটি, আর অল্প সময়েই এটি ভাইরাল হয়। গানটি নিয়ে বিবিসি বাংলা মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

মূলত সেপ্টেম্বরের ৫ তারিখে ইউটিউবে প্রথমবার আপলোড করা হয় ‘বাবু খাইছো’ শিরোনামের গানটি। প্রিমিয়ার করার পরপরই গানটি লুফে নেন বাংলাদেশের তরুণ তরুণীরা। মাত্র ১১ দিনে ইউটিউবে প্রায় ২৮ লাখ বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি।

এই গানের শিরোনামে ব্যবহার করা হয়েছে সেই শব্দ যুগল, যা বাংলাদেশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা হরহামেশা ব্যবহার করছেন। কিন্তু এই শব্দ যুগল তরুণদের মধ্যে এতো সাড়া জাগালো কেন? কিংবা এমন একটি গানই বা কেন তাদের পছন্দ তালিকায় জায়গা করে নিলো?

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মুমতাজ মুমু বিবিসি বাংলাকে বলেন, অনেকেই এ ধরনের মিউজিক বেশ উপভোগ করে থাকেন। কিন্তু আসলে গান বলতে আমরা যেমন খুবই গভীর বা মহান ধরনের আর্ট বা শিল্প বুঝি, সেই গভীরতাটা কিন্তু এ ধরনের মিউজিকে নেই। এই ‘অনেকেই’ আবার সবাইকে প্রতিনিধিত্ব করেন না। একটা বড় অংশ একটু জোরালো মিউজিক ও ডিজে টাইপের গান পছন্দ করে, তবে এটাও আবার সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

মুমতাজ মুমু আরো বলেন, ক্ল্যাসিকাল মিউজিকগুলো যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখবো ওই সব গানের কথা সুন্দর, মিউজিকও খুব শ্রুতিমধুর। কিন্তু তরুণদের অনেকেই এই আর্টকে কদর করেন না। ডিজে ধরনের বা রংচঙ ধরনের মিউজিক এদের বেশি টানে। শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী, মুড লাইট করা ধরনের সব মিউজিক।

দেশে তরুণদের মধ্যে গত ৪-৫ বছরে এমন কিছু মিউজিক ভিডিও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করছে, যেগুলোতে প্রাত্যহিক জীবনে তরুণরা ব্যবহার করে এমন শব্দ বা কথা ব্যবহার করা হয়েছে। ‘বন্ধু তুই লোকাল বাস’, ‘এই যে বেয়াইন সাব’, ‘মাইয়া ও মাইয়া তুই অপরাধী রে’, ‘মাফ কইরা দেন ভাই’ – এই গানগুলো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। রাস্তাঘাটে, শপিং মলেও এসব গান শোনা যায়।

বাংলাদেশের মূলধারার সঙ্গীতের সাথে এই গানগুলোর খুব সম্পৃক্ততা না থাকলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এগুলো আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছে। এর একটা বড় কারণ ‘ব্যঙ্গ করা’ বলে উল্লেখ করেন চাকরিজীবী নারী কামারুন কণিকা।

বিবিসি বাংলাকে বলেন, হেট স্পিচ খুব দ্রুত মানুষের অ্যাটেনশন পায়। আমরা চিন্তা-ভাবনা কম করি। এই যে এই গানটা বা অপরাধী টাইপ গান এগুলো মানুষ ঠিক মতো পুরা গান শোনেও না, কিন্তু একটা-দু’টা লাইন নিয়ে মজা করে। ‘বাবু খাইছো’ এ ধরনের শব্দ অনেকেই তাদের কথার মধ্যে ব্যবহার করেন, কিন্তু এসব গানের মাধ্যমে অন্যকে ব্যঙ্গ করে মজা পায় কিছু মানুষ।

সুকান্ত হালদার বাংলাদেশের বিনোদন জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তিনি মনে করেন, এই গানের মূল টার্গেট টিনএজার’রা। গানটির কথা ও মিউজিক শুনলেই বোঝা যায়, তাদের কথা ভেবেই গানটির কথা লেখা হয়েছে, মিউজিক কম্পোজিশন করা হয়েছে। তারা বেশ সু-পরিকল্পিতভাবেই কাজটি করেছেন। সে কারণেই এখন গানটি নিয়ে এতো আলোচনা হচ্ছে।

গানটির সুরকার ডিজে মীর মারুফ বলেন, মূলত ট্রেন্ডিং কিছু ব্যাপার নিয়ে গানটি করার চেষ্টা করেছি। করোনা ভাইরাস নিয়ে যেমন গান করেছি, ঠিক তেমনই এই গানে ব্যবহার করেছি একটি বহুল ব্যবহৃত কথা, যা বাংলাদেশে প্রেমিক-প্রেমিকারা তাদের ভালোবাসার মানুষকে বলে থাকেন। এখনকার সম্পর্কগুলোতে কী হচ্ছে, কী ধরনের কথা হয়, সেটাই বলতে চেয়েছি আমরা।

 

 

 

 

 

 

epsoon tv 1

Related posts

body banner camera