বাবর-পিন্টুসহ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক-হারিছের যাবজ্জীবন

বাবর-পিন্টুসহ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক-হারিছের যাবজ্জীবন
bodybanner 00

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তারেক ও হারিছসহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাবার ও পিন্টুসহ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডা দিয়েছেন ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বুধবার( ১০ অক্টোবর) ১২ টার দিকে সময় বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এই রায় প্রদান করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ১৪ বছর পর  বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেয়া হলো। ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমান’সহ ২৪ জন, আহত হন বহু মানুষ।

এ ঘটনায় পরদিন রাজধানীর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্তের নামে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির জজ মিয়া নামে একজনকে আটক করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে গ্রেনেড হামলার স্বীকারোক্তি আদায় করার ঘটনা নাটকীয়তার জন্ম দেয়। গণমাধ্যমে জজ মিয়ার আসল পরিচয় বেরিয়ে এলে থমকে যায় এ মামলার তদন্ত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবারো শুরু হয় এ মামলার তদন্ত। হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে, ২০০৮ সালের ৯ জুন জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান সহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় সিআইডি। শুরু হয় বিচার।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশে আবারো অধিকতর তদন্ত হয় আলোচিত এ মামলার। মুফতি হান্নান আবারো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে হামলার নেপথ্যে বিএনপি নেতা পলাতক তারেক রহমানের নাম উঠে আসে। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক, বাবরসহ আরো ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১২ সালের ১৮ই মার্চ শুরু হয় দ্বিতীয় দফায় বিচারকাজ।

বিচার চলাকালে মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হলে বিচার থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। ৪৯ আসামির মধ্যে বাবরসহ ২৩ জন আসামি কারাগারে আছেন, ১৮ জন পলাতক এবং ৮ জন আছেন জামিনে। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন ও আসামিপক্ষে ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে সময় লাগে ১১৯ কার্যদিবস।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00