ব্রেকিং নিউজঃ

বাংলা নববর্ষ ‘১৪২৫’ সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা

বাংলা নববর্ষ ‘১৪২৫’ সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা
bodybanner 00

আজ বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ আমাদের দুয়ারে পসরা নিয়ে হাজির। বাঙালি প্রাণের এবং জাগরণের মাসকে বিশ্বকবি এভাবেই স্বাগত জানিয়েছেন, “এসাে হে বৈশাখ এসো এসাে’ সব মলিনতা, পঙ্কিলতা ধুয়ে মুছে স্নিগ্ধ এবং সুন্দর হাতে এই মাসকে তিনি জিয়নকাঠি বানিয়ে তাতে সকলকে শরিক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। কালিমামুক্ত হবার এই দিনে আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। আবার আমাদের দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, শিকল ভ র কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল। ইসলাম এই মাসে যে প্রার্থনা করেছেন সেটিও আমাদের মনে এবং প্রাণে দোলা দেয়। কবি তাই গেয়ে উঠলেন, তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ তােরা সব জয়ধ্বনি কর/ এই নতুনের কেতন ওড়ে কাল বৈশেখী ঝড়, তােরা সব জয়ধ্বনি কর…। আজ এভারে নতুন দিনটিকে বরণ করতে আমরা রমনার বটমূলে এবং রবীন্দ্র সরোবরে হাজির হবাে। সারা মানে এবং দেহে প্রজ্বলিত আলােয় হবে আমাদের আগামীর পথচলা। আজ নববর্ষবাঙালির নববর্ষ। পৃথিবীর সকল উন্নত জাতির রয়েছে নববর্ষ আর রয়েছে গর্বিত অতীত। তারা তা গর্ব আর আনন্দের মহিমায় উৎসবের আমেজে পালন করে। যা তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। সে জাতির কোনাে ঐতিহ্য নেই, যরি নববর্ষ নেই। নববর্ষহীনরা বড়ই অভাগা। তাদের নেই নিজেকে শাণিত করার নি। এদিক থেকে আমরা ঐশর্য্যবাণ। আমাদের নববর্ষ আছে এবং হাজারো বছর ধরে চলে আসা সেই ধারা আজো সমানে বহমান। প্রতিবছরের চৈত্র সংক্রান্তিতে আমরা নব উদ্যোমে আমাদের নববর্ষের প্রথমদিন আলিঙ্গন করি। হৃদয়ের সব মাধুরি মিশিয়ে মঙ্গল ডালা হাতে আমরা আজকের এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি। তাইতো দিনের সূর্য উদয় হলেই আমরা মেতে উঠি নান্দনিকতার ছোঁয়ায় আমরা আবারো নতুন হই। বাঁধভাঙা উচ্ছাসে আমরা গেয়ে উঠি ‘এসাে হে বৈশাখ এসো এসাে। সেই সাথে বলে উঠি মুক্ত করাে ভয়/ আপনও মনে শক্তি ধরাে নিজেরে করাে জয়, মুক্ত করো ভয়।’ সেই নতুন আজ দেলাি দিয়ে যাচ্ছে আমাদের মানা জগতে। তার স্পর্শে আলোকিত হচ্ছে আমাদের আগামীর পথচলা। তাই নির্জাস আর আবির ছড়িয়ে দিতে চাই আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে। এই শপথের দিনের আরেক নাম বাঙালির পহেলা বৈশাখ। কেবল একদিনের জন্য নয় সারা বছর। বৈশাখের সুরে অবগাহন করে দেশপ্রেমের আলো ছড়িয়ে দিতে চাই দেশ থেকে বিদেশে। ব্যক্তি জীবনকে মহীয়ান করার দিনের এই দিনে আমাদের শপথ। স্বাগত ১৪২৫ স্বাগত। নববর্ষের এইদিনে আমাদেরকে হাজির করে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের দুয়ারে। গ্রামের সেই ফেলে আসা | জীবনের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির ঝাপি খুলে আমরা আবার নিজেকে দেখে নিই। তাইতাে সকালে পান্তা আর কাচামরিচ আলু ভর্তা, সেই সাথে পদ্মার ইলিশের ভাজি আমাদেরকে হারানাে দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। লোকগীতি পল্লীগীতি বাউলের একতারা আমাদেরকে আবার শুনিয়ে যায় শিকড়ের কথা মা মাটি মানুষের কথা। ইট-কাঠের শহুরে জীবনের এই মহালগ্নে এসে আবার আমরা সত্যের মুখােমুখী হই। গ্রাম বাড়লে দেশ বাঁচবে এই সত্যকে আমরা আবার জানতে পারি। তবে সত্যিই কি আমরা সত্যকে গ্রহণ কররি মত দৃঢ় চেতনা আমাদের মাঝে অবশিষ্ট আছে সে প্রশ্নটি আবারাে নতুন করে উষকে দেয় এই দিনটি। সান্তনা এইটকু আমরা যদি সত্যি আমাদের শেকড়ের কাছে পৌছাতে পারতাম তা হলে কতই না ভালাে হতো। দিবসটি উদ্যাপনের সাথে এই সত্যটি উপলদ্ধিই হবে প্রকৃতঅর্থে নববর্ষ পালনের সেরা শিক্ষা। আজকের এই দিনে আমাদের হাজারাে পাঠককে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা। নতুন বছর। আমাদেরকে সােনার বাংলা গঠনে আমাদেরকে সক্রিয় করে তুলুক। হাজারাে বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে সােনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়নে আমরা আমাদের সকল শক্তি বিনিয়োগ করবে আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সােনার বাংলা গড়ার সংগ্রামের চ্যালেঞ্জে আমরা তার সহাত্রী। সবাইকে নববর্ষ ১৪২৫ এর প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00