ব্রেকিং নিউজঃ

ফিরে পেতে মরিয়া আ’লীগ ধরে রাখতে চায় জাপা | দৈনিক আগামীর সময়

ফিরে পেতে মরিয়া আ’লীগ ধরে রাখতে চায় জাপা | দৈনিক আগামীর সময়
bodybanner 00

নবম জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীর মধ্যে। রাজধানীর উপকণ্ঠে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে গত নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে জোটসঙ্গী জাপার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি আওয়ামী লীগ। বাধ্য হয়ে আসনটি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হন অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এবং জাপার মনোনয়ন পান অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনে সালমা ইসলাম বিজয়ী হন। আগামী নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী হয়ে মহাজোটের সমর্থন নিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান জাপার প্রেসিডিয়াম কমিটির এই সদস্য।

তাকে টেক্কা দিয়ে পুনরায় এই আসনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। গত নির্বাচনে প্রার্থিতার সময় তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনের পর তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। এর আগে ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নানকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মহাজোটের সমর্থন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন আবদুল মান্নান খান। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ওই আসনে জয়ী হওয়ায় তাকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী করা হয়। কিন্তু দুর্নীতি ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগসহ নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে ‘নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার’ থেকে বাদ পড়েন আবদুল মান্নান খান। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন ওই সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয় জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামকে। গত নির্বাচনে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থনও পেয়েছেন। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে ওই অংশটি জাপা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় আবদুল মান্নান খান পরাজিত হন হলে ধারণা করা হয়।

এর জের ধরে নির্বাচনের পরদিন দোহার এলাকায় মান্নান খানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত চোকদার বংশের লোকজন বিলাসপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলাউদ্দিন জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করেছেন- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত হন। মান্নান খানের আপন ভাই মোতালেব খানসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়। পরে মোতালেবসহ সাতজনকে অব্যাহতি দিয়ে ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। মামলাটি এখন বিচারাধীন। আগামী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে পুরনো এই দ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। প্রার্থিতা নিয়ে জাপা ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার সংঘাতও বাড়ছে।

২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা। বিএনপির ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার কাছে সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। নাজমুল হুদা সম্পর্কে সালমান এফ রহমানের ভাতিজা। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক বছর ধরেই তৎপরতা চালাচ্ছেন সালমান এফ রহমান। নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও অবদান রাখছেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী বলয়ও গড়ে তুলেছেন।

সালমা ইসলাম, আবদুল মান্নান খান এবং সালমান এফ রহমান আগামী নির্বাচনে দল ও মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী। হেভিওয়েট এই প্রার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী মনোয়ন দৌড়ে আছেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ এবং আইনবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নূরে আলম উজ্জ্বল।

বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম আগামীবারও জাপার মনোনয়ন পাবেন- তা অনেকটাই নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় জোটগত নির্বাচন হলে এবার মহাজোট থেকেও তাকে প্রার্থী করা হবে বলে আশা করছেন সালমা। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তিনি চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। নেতাকর্মী ও ভোটারদের সমর্থন টানতে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। এলাকার মানুষ তাকে আবারও এমপি হিসেবে দেখতে চায় বলে দাবি করে সালমা ইসলাম সমকালকে বলেন, আগামী নির্বাচনে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি। তার নেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটগত কিংবা এককভাবে প্রার্থিতার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান সালমা ইসলাম।

আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হওয়া আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন আবদুল মান্নান খানও। সমর্থকদের নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক এই সভাপতি। আগামী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করছেন। সমকালকে তিনি বলেন, তিনি মনোনয়ন পেলে নেতাকর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে ও মিলেমিশে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন। মনোনয়ন না পেলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন আবদুল মান্নান খান।

তবে এই আসন থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালমান এফ রহমান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি তার সমর্থকদের। সম্প্রতি দোহারে এক জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে সালমান এফ রহমানকেই দলীয় প্রার্থী করা হচ্ছে। একই জনসভায় ৩১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স (বিএনএ) তথা জাতীয় জোট এবং তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাও সালমান এফ রহমানকে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। বিএনপির একাধিকবারের মন্ত্রী ও এমপি নাজমুল হুদা এবার ঢাকা-১৭ (গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে প্রার্থিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সালমান এফ রহমান জানান, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তিনি পাচ্ছেন এটা শতভাগ নিশ্চিত। এ লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করে যাচ্ছেন দাবি করে তিনি বলেন, স্লুইসগেট নির্মাণ, পদ্মার ভাঙনরোধ এবং দোহার-নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ রাস্তা চার লেনে উন্নীত করাসহ অনেক উন্নয়ন কাজ হাতে নিয়েছেন।

পনিরুজ্জামান তরুণ এলাকায় কর্মিসভা ও গণসংযোগ করে চলেছেন। স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীসহ তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের। দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তরুণ এই নেতা। সমকালকে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তাদের কল্যাণে ভূমিকা রাখছেন। এসব কারণ বিবেচনায় এনে আগামী নির্বাচনে দল থেকে তাকেই প্রার্থী করা হবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। দলীয় মনোনয়ন পেলে নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) এই আসনে নৌকার বিজয় উপহার দেবেন তিনি। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, নৌকার বিজয়ের স্বার্থে সবাই মিলে তার জন্য কাজ করবেন।

পিছিয়ে নেই নূরে আলম উজ্জ্বলও। গণসংযোগের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় এলাকার নেতাকর্মী ও মানুষের মধ্যে আলাদা ভাবমূর্তি রয়েছে এই আইনজীবী নেতার।

নূরে আলম উজ্জ্বল বলেন, দলের জন্য অনেক ত্যাগের পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নেত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে, আগামী নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদীরা মনোনয়ন পাবেন না। এসব বিবেচনায় তিনিই এই আসনের মনোনয়ন পাবেন বলে অনেকটাই আশাবাদী। আর দলীয় মনোনয়ন পেলে নেতাকর্মী ও জনগণের সমর্থনে বিজয়ী হতে পারবেন বলেও তার বিশ্বাস রয়েছে।

Facebook Comments

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

bodybanner 00